চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী এসে খুব কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। মাথা ও গলায় ১৩টি গুলির ছিদ্র পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলেই জামাল মারা যান। ঘটনাটি লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দিঘিরপাড় এলাকায় ঘটে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত টার্গেটেড কিলিং। পুলিশ জানায়, হামলাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে এবং হামলাকারীরা পেশাদার বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত জামাল লেলাং গ্রামের মুহাম্মদ ইউসুফের ছেলে এবং শহরে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করতেন। যদিও তার নাম ২০০১ সালের তিনটি হত্যা মামলায় ছিল, সেগুলো এখনো নিষ্পত্তিহীন। ফটিকছড়ি জামায়াতের নায়েবে আমির ইসমাইল গনি বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ এবং তারা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, হামলাকারীরা সংগঠিতভাবে এসে মুহূর্তের মধ্যে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়রা সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকারীদের শনাক্তের খুব কাছাকাছি রয়েছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, সাইবার ব্যবস্থা ও সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এসব বিষয়ে অবহিত করা হতে পারে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য হামলার আগে সেনা মোতায়েন ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সামরিক পদক্ষেপের ফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে—যেমন ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাওয়া বা আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। ট্রাম্প তেহরানকে বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা না দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তবে ইরানি কর্মকর্তারা এসব মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া হস্তক্ষেপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রোববার সকালে নেত্রকোণা সদরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঢাকা-মোহনগঞ্জ রেলপথে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি তৃতীয় মৃত্যু। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের রাজুর বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইয়াসিন আহমেদ সায়েম (২০) বারহাট্টা উপজেলার ধনপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। ময়মনসিংহ রেল পুলিশের ওসি আক্তার হোসেন জানান, মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান সায়েম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর একই রেলপথের চল্লিশা বাজার এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত হন। নিহতরা হলেন দিনাজপুরের ছুড়িয়াপাড়া গ্রামের আকাশ রায় (২৪) ও শেরপুরের রাসেল মিয়া (২৫)। ওসি আক্তার হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চল্লিশা বাজার এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় দেশটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিএফএটি) হালনাগাদ ভ্রমণ সতর্কতায় জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে দেশ ছাড়ার সুযোগ এখনো থাকলেও তা ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, শিগগিরই আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, যা পরবর্তীতে দেশত্যাগ অসম্ভব করে তুলতে পারে। ডিএফএটি জানিয়েছে, সরকারি পরামর্শ উপেক্ষা করে কেউ ইরানে থেকে গেলে নিজের নিরাপত্তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। দীর্ঘ সময় আশ্রয়ে থাকার প্রস্তুতি নিতে এবং পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আটজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। রোববার পুলিশ ও সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) যৌথভাবে বান্নু, খাইবার ও জহির গড়ির উপজাতীয় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ অফিসের তথ্যমতে, বান্নু অঞ্চলে স্থানীয় পুলিশ ও সিটিডির অভিযানে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়, যারা এর আগে শেখ লিন্ডাক ও ফাতাহ খেলের পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছিল। খাইবারে তিন সন্ত্রাসী পুলিশের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিহত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। পেশোয়ারের শহরতলির জহির গড়িতে আরেক অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়, তবে তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এই অভিযানগুলো প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী, যার মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে। রবিবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং শক্তিশালী বিকল্পগুলো বিবেচনায় রয়েছে। ট্রাম্প আরও জানান, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং বৈঠকের আয়োজন চলছে, যদিও বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে যখন ইরানি নেতারা সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে দখলকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) এবং সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে রিয়ালের মান কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন, তবে নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন জনদুর্ভোগের নতুন নাম। হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থার কারণে এসব রিকশা আপাতত রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। ফলে বেপরোয়া চালনা বেড়েছে। বেসরকারি হিসাবে রাজধানীতে প্রায় ১২ লাখ রিকশা চলছে, যার বড় অংশ ব্যাটারিচালিত এবং অধিকাংশই রাজধানীর বাইরের জেলা থেকে এসেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫৬টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ২৫৯ জন নিহত ও ৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। অদক্ষ চালক, শিশু-কিশোর ও অন্য পেশার শ্রমিকদের রিকশা চালানোয় দুর্ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব রিকশা ছিনতাইকারীদের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশ প্রতিদিন ৪০০–৪৫০টি রিকশা জব্দ করছে এবং মূল সড়কে প্রবেশ ঠেকাতে চেকপোস্ট বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা রিকশার কাঠামো পরিবর্তন, মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহার ও নিবন্ধন নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। দুই সিটি কর্পোরেশন ২ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে রঙভিত্তিক অনুমোদন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে ই-রিকশা খাতকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক হাজার ৩৫ কোটি টাকার আত্মসাতের তদন্ত প্রায় শেষ করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া মনিরুল ২০২১ সালে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি ইসলামি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদক জানায়, তিনি স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালিকার নামে ব্যাংক হিসাব খুলে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই দুটি এনজিও রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুনর্বাসন সহায়তার নামে বিদেশ থেকে অনুদান পেত। মনিরুল কৌশলে সেই অর্থ আত্মীয়দের প্রতিষ্ঠান যেমন এস এস এন্টারপ্রাইজ ও তানভীর ডেইরি ফার্মের হিসাবে স্থানান্তর করেন। দুদক ৩৫টি ফ্ল্যাট, একাধিক এফডিআর ও ডিপিএসসহ অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। দুদক জানিয়েছে, ব্যাংক নথি সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে এবং মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করতে স্টারলিংক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে তিনি জানান, এ বিষয়ে স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্প বলেন, মাস্ক এ ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অত্যন্ত দক্ষ। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইরানে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরে ও বাইরে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে। যদি স্টারলিংক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ইরানিদের বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা এখনো জানানো হয়নি।
২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘আমার দেশ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭–০৮ সালের সেনা-সমর্থিত সরকার ও ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও জনকণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দুর্নীতিগ্রস্ত, সহিংস বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে সত্যের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক তাইয়িব আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা তাদের সংবাদ উপস্থাপনায় পক্ষপাত সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ণ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব পত্রিকা বিএনপিকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পত্রিকা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপি নেতাদের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন, যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে ভাষা বদলায়, কিন্তু নৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি রোববার (১১ জানুয়ারি) জানায়, ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা তাদের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে গত দুই সপ্তাহে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করেছে যে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হলে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে। তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এইচআরএএনএর তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন অবিলম্বে চুক্তির আওতায় আসে, নইলে অনির্দিষ্ট পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা থেকে হাভানার উদ্দেশে তেল ও অর্থের সব প্রবাহ বন্ধ থাকবে এবং কিউবা আর কোনো তেল বা অর্থ পাবে না। ট্রাম্প কিউবা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চুক্তিতে আসার জন্য “জোরালো পরামর্শ” দেন। এই সতর্কবার্তা আসে এক সপ্তাহ পর, যখন মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার লক্ষ্যে কারাকাসে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হন বলে জানানো হয়। ট্রাম্প একই দিনে একটি পোস্ট পুনঃপ্রচার করেন, যেখানে বলা হয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভবিষ্যতে কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, এবং তিনি মন্তব্য করেন যে বিষয়টি তাঁর কাছে “ভালোই শোনাচ্ছে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বহু বছর ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল তেল ও অর্থ পেয়েছে এবং এর বিনিময়ে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে, তবে এখন থেকে তা আর চলবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা অধিকাংশ কিউবান সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলার আর সেই সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকলেও থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই আসরে সাফল্য অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার মালদ্বীপ-ভারত ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে, আর বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ তাদের অভিযান শুরু করবে। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা বলেন, ফুটসাল তাদের জন্য একেবারেই নতুন হলেও দলটি ভালো কিছু করার বিশ্বাস রাখে। দেশের হয়ে খেলা সবসময় গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করে তিনি দলের লক্ষ্যকে সাফল্যের দিকে রাখার কথা জানান। দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি জানান, তিনি বাংলাদেশ দলকে ভবিষ্যতে ফুটসাল বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে চান। খোদারাহমি এএফসি, এএফএফ ও সাফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এটি নারী দলের জন্য প্রথম সাফ ফুটসাল আয়োজন। তিনি মনে করেন, সব দলই সমান পর্যায়ের কারণ সবার জন্যই এটি নতুন অভিজ্ঞতা। মাত্র এক মাস সময়ে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ফুটবলার।
সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। লেখক উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাজা আগ্রাসনের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে ‘সবক শেখানোর’ হুমকি দেওয়া কূটনৈতিক শালীনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও সামরিক ভাষায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, যা প্রতিবেশী সম্পর্ককে সংলাপের বদলে শক্তির মাপকাঠিতে বিচার করার ইঙ্গিত দেয়। লেখকের মতে, এই উগ্র বক্তব্য ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক চরিত্রকে দুর্বল করছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় নীরবতা এই সংকটকে আরও গভীর করছে। প্রবন্ধটি সতর্ক করেছে যে, এমন আগ্রাসী ভাষা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তার ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জাহিদ মাহমুদ এই সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে বৈঠক করেন। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানিয়েছে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৪৮টি জেএফ-১৭ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ একটি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা আকাশ যুদ্ধ, গ্রাউন্ড অ্যাটাক, রেকনেসাঁস এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করতে সক্ষম। বাংলাদেশের বর্তমান ৪৪টি পুরোনো যুদ্ধবিমানের তুলনায় এটি আধুনিক ও খরচ-সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেএফ-১৭ ব্লক-৩ সংস্করণে উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান চীনা প্রতিরক্ষা সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে। ভারত এই সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে পারে এবং বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।