বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বিএনপি। শনিবার সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ধর্ম বা বর্ণের কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং সবাই এক পরিচয়ে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করবে এবং দেশে নতুন কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে দেবে না। মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে ভিড়িয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপিকে মুক্তিযোদ্ধাদের দল হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অরাজনৈতিক সেবাসংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এইচসিএসবি) বাংলাদেশ, গাজা ও সুদানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমন্বিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা, মেডিকেল ক্যাম্প, আহত ও অসুস্থদের সহায়তা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং শীতকালীন সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান করছে। তাদের প্রকাশিত ভিডিও ও ভিজ্যুয়াল আপডেটে তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ছয়টি হাসপাতালে সংস্থাটির সেবামূলক কার্যক্রম চলছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও ইউরোপ থেকে মিশর হয়ে গাজা ও সুদানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে এইচসিএসবি। সংস্থাটির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মিশরের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত, মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট, ইজিপশিয়ান হিউম্যান রাইটস সংগঠন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং ইজিপ্ট ইয়ুথ সার্কেলের প্রতিনিধিরা। পরিচালক মুহাম্মদ রাজ জানান, সংস্থাটি নিয়মিত ছবি, ভিডিও ও সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যাতে দাতা ও সাধারণ মানুষ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে পারেন এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা উপসাগরীয় মিত্রদের জানানো হয়নি। শনিবার ফক্স নিউজকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনই তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারছে না। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছে, তবে আলোচনার ফলাফল এখনো অনিশ্চিত। তার এই মন্তব্য পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়। সেখানে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের দিকে একটি “বিশাল নৌবহর” পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, এই সামরিক প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগের এক অভিযানের আগে মোতায়েন করা বাহিনীর চেয়েও বড়, যে অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এর ফল কী হবে তা নিশ্চিত নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আগের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি, পরে যুক্তরাষ্ট্র অন্যভাবে তা বন্ধ করে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসনে প্রার্থীদের প্রচার জোরদার হয়েছে। মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের মধ্যে। তবে প্রতিটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে জামায়াত তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এম.এ.এইচ সেলিম তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাগেরহাটের ভোটাররা স্থানীয় সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চান। কৃষক, জেলে, নারী সমাজকর্মী ও শহরের বাসিন্দারা লবণাক্ততা, দুর্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও নারীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এমন জনপ্রতিনিধি চান, যারা শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর জনগণের পাশে থাকবেন। প্রার্থীরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। মোট ১৩ লাখ ৬১ হাজার ১১১ জন ভোটার এবং ৫৪৭টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে বাগেরহাটের নির্বাচন এবার বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। জনগণ যাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দিতে চান।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেছেন, সরকার গঠন করলে সমাজের প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলাই জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি বলেন, জামায়াত জনগণের ওপর শাসন করতে নয়, সেবা করতে চায়। সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষমতা নয়, মানুষের কল্যাণই তাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। গণসংযোগে এনসিপি নেতা আশরাফ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিনসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছরের মেয়াদে সরকারটি আমলাতন্ত্রের অসহযোগিতা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখে পড়ে। একাধিকবার সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা উপদেষ্টাদের ঘেরাও এবং সচিবালয় অচল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সরকারের উপদেষ্টা, বর্তমান ও সাবেক সচিব এবং জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে পরস্পরবিরোধী মতামত। বিশেষজ্ঞরা সরকারের নতজানু মনোভাব ও আমলাতন্ত্রের উচ্চাভিলাষকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতার কথা বলেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের মতে, শেখ হাসিনার সরকারের কর্মকর্তাদের বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ইউনূস সরকারের জন্য বুমেরাং হয়েছে এবং প্রশাসনে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। সম্পদ বিবরণী ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টাও আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখে পড়ে। সরকারের মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন অসম্ভব করে তুলেছে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জে এখন ভোটের উত্তাপ ছড়াচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পাওয়া রাশেদ খান দিনরাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজের অবস্থান ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। রাশেদের মনোনয়নে শুরুতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলেও পরে অনেকে দলীয় নির্দেশে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাশেদ চাঁদাবাজি, মাদক, যাতায়াত, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফিরোজ তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে কিছু সমর্থক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ ও ফিরোজের এই দ্বন্দ্বে ভোটের মাঠে উত্তাপ বেড়েছে এবং এতে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালিব সুবিধা পেতে পারেন। ১২ তারিখের ভোটে তিন প্রার্থীরই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অবস্থান, যা এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ক্রিকেট ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে খেলাধুলার রাজনীতিকীকরণ হিসেবে দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা শঙ্কায় ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আর পাকিস্তানও সংহতির বার্তা হিসেবে বয়কটের হুমকি দেয়। আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইওসি জানিয়েছে, খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভারতের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে। দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন নিশ্চিত হলেও আহমেদাবাদের ২০৩৬ অলিম্পিক বিড এখন নজরদারির মুখে। আইওসি ভারতের প্রতি বার্তা দিয়েছে যে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে তাদের অলিম্পিক স্বপ্ন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ভেনেজুয়েলায় ১৯৯৯ সাল থেকে আটক সব রাজনৈতিক বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং একটি কুখ্যাত আটক কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক মাস না যেতেই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেন। কারাকাসের কাছে রোদেও–১ কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনরা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং স্বাধীনতার স্লোগান দেন। বিরোধী নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডেলসা সোলোরসানো আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, দেশটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে ছাত্রনেতা মিগুয়েলআঞ্জেল সুয়ারেজ ও বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বন্দি মুক্তির ধীরগতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন। বিশ্লেষক পাবলো কিন্তেরো মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে বিরোধীদের দমন এখন সরকারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। যদিও অনেক নাগরিক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ এখনও ভয়ের ছায়া কাটিয়ে উঠতে পারেননি। পর্যবেক্ষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি বড় রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা কিনা তা বলা এখনই সময়ের আগে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে হাজার হাজার কবর খননের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, রাজধানীর বৃহত্তম কবরস্থান ‘বেহেশত-ই-জাহরা’-তে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইরান সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণহানি ঘটলে তা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ইতিমধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি মার্কিন স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে বিকল্প পথে হাঁটবে। ইরান আবারও জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। দেশটি ন্যায়সঙ্গত সংলাপের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরান বাহিনীতে প্রায় এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন যুক্ত করেছে। একই সময়ে তেহরানে রহস্যজনক বিস্ফোরণের শব্দে জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের নবম পে কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, যা বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে বেতন বৃদ্ধির হার ১০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন সময়োপযোগী নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও জ্বালানি উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, তারা এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করবেন না; এটি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ প্রস্তাব ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় কাটছাঁট হতে পারে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা-৯ আসনের লাকসাম-মনোহরগঞ্জ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও কানাঘুষা বাড়ছে, এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এবার বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামিক ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই পীর) প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির একক প্রার্থী আবুল কালাম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে তিনি বিজয়ী হবেন। জামায়াতের প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং জনগণ পরিবর্তন চায়। ইসলামিক ফ্রন্টের আলহাজ মীর আবু বকর ও ইসলামী আন্দোলনের আলহাজ সেলিম মাহমুদও মাঠে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতের জনসভায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করছেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি এবং তাদের প্রার্থী বিজয়ের সম্ভাবনা রাখেন।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার কুমিল্লা, দাউদকান্দি ও ঢাকায় একাধিক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং ১৩ তারিখ থেকে সেই পরিবর্তনের সূচনা হবে। তিনি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের অবসান ঘটিয়ে মানবিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষে তিনি বলেন, এই জোট ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশ পরিচালনা করবে। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতি নির্মূল, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও জুলাই সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জকে মডেল জনপদে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও নির্বাচনে জাতীয় ঐক্য ও বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের আহ্বান জানান। বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব জনসভায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। জামায়াত আমির জনগণকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে, এখন সবাই মিলে দেশ গড়তে হবে। শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্কে উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ দিনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা প্রতিহত করতে হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ একটি দল এবং জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে জানে। তিনি দেশে নতুন শিল্পপার্ক স্থাপন, তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও নারী ও কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। বগুড়ায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বগুড়াকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করেন। টাঙ্গাইলের জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি যমুনা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ, মিলকারখানা স্থাপন ও আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প স্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটি ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। রাজধানী ও আশপাশের আরও অনেক স্কুলেও একই ধরনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের কারণে শিক্ষার্থীদের এই ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম আবুল এহসান জানিয়েছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতে টানা কয়েক দফা ছুটি থাকবে। নির্বাচন ও ধর্মীয় ছুটি একত্রে পড়ায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটি তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠসূচি ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।