যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার মামলার অধ্যায় থেকে দেশটির এখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। গত নভেম্বরে কংগ্রেসে পাস হওয়া আইনের আওতায় বিচার বিভাগ লাখ লাখ নথি পর্যালোচনা শেষে জানিয়েছে, নতুন করে মামলা করার মতো কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়েছে। কংগ্রেসের সদস্য ও এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা এখনো অপ্রকাশিত কিছু নথি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশি বার এসেছে, যা তার নব্বইয়ের দশকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিচার বিভাগ প্রকাশিত এফবিআইয়ের কিছু যাচাইবিহীন তথ্যসূত্রে ট্রাম্পসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভাগটি জানিয়েছে, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ট্রাম্প আপাতত রাজনৈতিকভাবে অক্ষত থাকলেও, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ল্যারি সামার্স ও বিল গেটসের মতো ব্যক্তিরা এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পেশাগত ও ব্যক্তিগত চাপে পড়েছেন।
কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির অংশ হিসেবে প্রাথমিক তেল বিক্রির ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ ভেনেজুয়েলা সরকারকে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সর্বশেষ ২০০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার কাছে পাঠানো হয়েছে। গত মাসে হওয়া এই সমঝোতা আসে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজস্ব তেল ব্যবহার করে রাজস্ব আয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপক ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতে পারে এবং সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখতে পারে। অর্থটি কাতারে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে ভেনেজুয়েলা প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলায় প্রাতিষ্ঠানিক ধস রোধ করা এবং মৌলিক সরকারি সেবা সচল রাখা।
চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট এখন জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে, যার ফলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে রমজানকে ঘিরে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আট ঘণ্টার কর্মবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে ১২০টিরও বেশি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে খেজুর, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ রমজানের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। আমদানিকারকদের অতিরিক্ত স্টোরেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারদরে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের বিলম্বে আমদানিকারকদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, যা ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে, শ্রমিকদের নিয়মিত বুকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশি ইজারা বাতিলের স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবেশী লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তুরস্ক ও মিশর একসঙ্গে কাজ করছে। বুধবার কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আনাদোলু সংস্থার খবরে বলা হয়, এরদোয়ান উল্লেখ করেন যে দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য হলো লিবিয়ার ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সেখানে মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। তিনি মিশরের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, আফ্রিকায় মিশর ইতোমধ্যে তুরস্কের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। আংকারা বর্তমান ৮–৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বাড়িয়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়। তিনি সামুদ্রিক বাণিজ্য, পরিবহন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহও প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (স্কপ) অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। শুরুতে আট ঘণ্টার কর্মবিরতি এখন পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে রূপ নিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি ও ১৬ শ্রমিক-কর্মচারীর বদলির আদেশ সত্ত্বেও কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করেননি। সাত দিনে বন্দরে ৩৭ হাজার কনটেইনার জমে আছে এবং বহির্নোঙরে ১২০টি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর উচ্চ আদালত এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি নেয়, যা ১ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরের কথা ছিল। কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে তা স্থগিত হয়। ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা আশঙ্কা করছেন, এ অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, দ্রুত সমাধান না এলে বাজারে অস্থিরতা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বৃহস্পতিবার চীনের প্রতি অস্ত্র উন্নয়নে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে দেশটিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সতর্ক করেন যে, সর্বশেষ মার্কিন–রাশিয়া পারমাণবিক চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ায় নতুন করে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিরস্ত্রীকরণকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির অবসান বিশ্বের প্রধান পারমাণবিক শক্তিগুলোর অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর প্রবণতা বাড়াতে পারে এবং চীনও এতে উৎসাহিত হতে পারে। ভাডেফুল বলেন, ভবিষ্যতের সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কারণ তারা বহুপাক্ষিকতার পক্ষে কথা বলে এবং এখন তাদের আস্থা ও সংযম প্রদর্শনের সময় এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন একটি চুক্তির আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রায় ৮০০টির তুলনায় কম।
রাশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, ফলে উভয় পক্ষ আর পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের সংখ্যায় বাধ্য নয়। বুধবার মস্কো জানায়, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেডের সীমা আরও ১২ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয়নি। ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি ২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১১ সালে কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১ সালে এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছিল। চুক্তিতে উভয় দেশের পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত ছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনকে দ্রুত নতুন পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে ৪৩টি আবেদনের বিপরীতে মাত্র ৪৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে ৭৬টি আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন ছিল ১৪১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানিও হ্রাস পেয়েছে, ফলে ঋণের চাহিদা কমেছে। বিডা কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগের মন্থরতা বৈদেশিক ঋণের চাহিদায়ও প্রভাব ফেলেছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বেসরকারি খাতে দেশীয় ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে বিনিয়োগ ও ঋণ চাহিদা পুনরুদ্ধার হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক ঋণের সুদের হার ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় ঋণ ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া বিডার নতুন নীতিতে তিন বছরের কম মেয়াদের ঋণ ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমোদনের সুযোগ থাকায় অনুমোদনের পরিসংখ্যানে প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্বে নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ নিতে হয়। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনও সাংবিধানিক সংকট এড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। শপথ গ্রহণ বিলম্বিত হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের ওরু ও নুকু গ্রামে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন ‘লাকুরাওয়া’ নামের একটি গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি চালায় এবং বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে, তবে কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা হুমকি দিলেও নিরাপত্তা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। গ্রামবাসীরা জানান, হামলাকারীরা জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং শরিয়া আইন অনুসরণের দাবি জানিয়ে আসছিল, যা প্রত্যাখ্যান করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক ঘটনাটিকে সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নাইজেরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে। বুধবার (৪ জানুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে এক চিকিৎসক নিহত হন এবং উত্তর গাজার গাজা সিটিতে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। নিহত পরিবারের সদস্য আবু মোহাম্মদ হাবুশ জানান, তারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন ট্যাংকের গোলা তাদের ঘরে আঘাত হানে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সীমান্তের কাছে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যার জবাবে পাল্টা হামলা চালানো হয়। হামাস এক বিবৃতিতে এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এগুলো যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান জানিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৫৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, আর ফিলিস্তিনি হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ঐক্যবদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে তিনি দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেন, যেখানে ২৬টি অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয় ও ৪১টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানে প্রকাশিত ৮৬ পৃষ্ঠার ইশতেহারে সততা, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির বিরোধিতা করা হয়েছে। ইশতেহারে সুশাসন, যুবশক্তির ক্ষমতায়ন, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ প্রশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকারও রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ইশতেহার দলীয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। তিনি জনগণের মতামত ও সহযোগিতা আহ্বান করেন এবং ইশতেহারকে একটি বাস্তবভিত্তিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় নীলনকশার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে একাধিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্বাচন বানচাল করা, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সংঘাতকে রক্তক্ষয়ী রূপ দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করে তোলা। সীমান্ত পারের নেটওয়ার্ক, পলাতক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া গেছে। অনলাইন গুজব, ভুয়া ভিডিও ও অর্থের বিনিময়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে নির্বাচনের আগে একটি ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে টার্গেট কিলিং, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। জেএমবির ১০৩ জন পলাতক সদস্যকে ঘিরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরকার সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর নয় লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে এবং ড্রোন ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযমী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকদের যাচাই ছাড়া তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেললেও পাকিস্তান টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নেবে। শেহবাজ শরিফ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বৈঠকের পর সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকার করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান প্রথমে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বিবেচনা করলেও পরে শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসি পিসিবিকে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। এই বয়কটের ফলে পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দলের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হলে বাকি তিনটি ম্যাচেই জয় প্রায় বাধ্যতামূলক। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার রাতে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে হাতিরঝিল থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে আলমের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা যাবে। পুলিশ জানায়, জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন, যেখানে ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ডিবি জানায়, জামায়াতের আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার হামলা হয়েছে। সবাইকে যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে ডিবি স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।