ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর এই নির্বাচনে বিশ্লেষকরা গণতন্ত্রের বিজয় এবং আওয়ামী নীলনকশার পরাজয় দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা ও প্রতিবেশী ভারতের অপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ সত্ত্বেও ইউনূস সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ ও সীমান্তের ওপারের শক্তির ভোট বানচালের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণ বহু প্রতীক্ষিত ভোটাধিকারের আনন্দ উপভোগ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণভোটে ৭৫.৩৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ও ২৪.৬৬ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে। বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা পেয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ (১৬৮) আসনে এস এ জিন্নাহ কবীর ১,৩৭,৭৭৩ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হককে (৭৭,৮১৮ ভোট) পরাজিত করেন। মানিকগঞ্জ-২ (১৬৯) আসনে মঈনুল ইসলাম খান ১,৭৫,৭৭৬ ভোট পেয়ে খেলাফত মজলিসের মো. সালাউদ্দিনকে (৮১,৫৩১ ভোট) হারান। মানিকগঞ্জ-৩ (১৭০) আসনে আফরোজা খানম ১,৬৭,৩৪৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদনূরকে (৬৪,২৪২ ভোট) পরাজিত করেন। একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ১৫২টি কেন্দ্রে ১,৯১,৯০৮ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৫২,৫৯৫ জন ‘না’ ভোট দেন। মানিকগঞ্জ-২ আসনে ১,৮৭,৬২৬ জন ‘হ্যাঁ’ ও ৫৫,৭৪০ জন ‘না’ ভোট দেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে ১,৯৯,২৫২ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ৭৪,৩৬৬ জন ‘না’ ভোট দেন। এই অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী মানিকগঞ্জ জেলায় তিনটি আসনেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জিলানী পেয়েছেন ৬০,১৬৬ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩,৮৬৭ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,০৮,৭৮৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৫৮,৪০৫ জন, নারী ভোটার ১,৫০,৩৭৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার রয়েছেন। মোট ১০৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণার পর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং এ বিজয়কে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। বিজয়ী প্রার্থী এস এম জিলানী ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ১৪৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১,৩৯,৩৩৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বাহলুল, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, পেয়েছেন ৮৮,৮০৭ ভোট। ফলাফল ঘোষণা করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। ড. মোশাররফ হোসেন ৫০,৫২৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন, যা কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া ও সিলেট-৪ আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, আর মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি বিএনপি ও একটি খেলাফত মজলিস জয় করেছে। এই ফলাফলগুলো বিএনপি ও তাদের মিত্রদের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী নির্বাচনী অবস্থান নির্দেশ করছে।
আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিয়ামি বড় ধাক্কা খেল লিওনেল মেসির চোটে। গত শনিবার ইকুয়েডরের ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। ইনজুরির কারণে বুধবার মিয়ামির অনুশীলনে ছিলেন না মেসি, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও মিয়ামি কোচ হ্যাভিয়ের মাচেরানো। ক্লাব এখনো তার মাঠে ফেরার সম্ভাব্য সময় জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসি জানিয়েছেন, ইনজুরির কারণে ক্লাবের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমার আগে মেসি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকার শতভাগ ফিট হতে কত সময় লাগবে তা অনিশ্চিত। মিয়ামির প্রাক-মৌসুমের শেষ দিকে পাওয়া এই চোট মেসির ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন ইন্টার মিয়ামি জানিয়েছে, মেসির শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেসের উন্নতির ওপর নির্ভর করবে তার অনুশীলনে ফেরার সময়। পুয়ের্তো রিকোতে ইন্দিপেন্দিয়েন্তে দেল ভালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। বিজয় ঘোষণার পর রাতে গোদাগাড়ীতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাৎক্ষণিক বক্তব্যে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সমর্থকদের বিনয়ী থাকার আহ্বান জানান। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এই বিজয় আল্লাহ প্রদত্ত, তাই কেউ অহংকার বা গর্ব করবে না। তিনি সবাইকে আল্লাহর কাছে বিনয়ী ও নম্র থাকার পরামর্শ দেন এবং রাগ বা অহংকার থেকে বিরত থাকতে বলেন। রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটিতে এবং জামায়াত দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতের ডা. আব্দুল বারি বিজয়ী হন। এছাড়া মাদারীপুর, সিলেট, নওগাঁ ও পাবনায় বিএনপি প্রার্থীরা বেশিরভাগ আসনে জয়লাভ করেছেন, আর মাদারীপুরের একটি আসনে খেলাফত মজলিস বিজয়ী হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। টি২০ বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে রাজনৈতিক উত্তেজনা ম্যাচগুলোকেও ছাপিয়ে যায়। বিতর্কের সূচনা হয় যখন ভারতের সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তানের সালমান আলী আগার সঙ্গে প্রচলিত করমর্দন এড়িয়ে যান, যা তিনি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ২২ এপ্রিলের হামলার সঙ্গে যুক্ত করেন। ম্যাচ শেষে ভারতীয় দল করমর্দন না করায় পাকিস্তান প্রতিবাদ জানায় এবং পরবর্তী ম্যাচে রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে অপসারণের দাবি তোলে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি এবং পারস্পরিক অভিযোগ দেখা যায়। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করে। পরে আইসিসি সূর্যকুমার যাদব, হারিস রউফসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেয়। টি২০ বিশ্বকাপে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ে, যখন পাকিস্তান প্রথমে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়, পরে অন্যান্য বোর্ডের অনুরোধে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন বলে বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে। বিজয়ীদের মধ্যে ছয়জন নারী প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, পাশাপাশি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি আসনে জয় পেয়েছেন। বিজয়ী নারীরা হলেন মানিকগঞ্জ-৩ থেকে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ থেকে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু, সিলেট-২ থেকে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ থেকে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ থেকে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ থেকে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই ফলাফলে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে, যা দুই দশক পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দুটি আসনে বিএনপি এবং একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বিজয়ী হন। মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা রিকশা প্রতীকে ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে পরাজিত করেন। মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৭ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলামকে হারান। তবে এসব ফলাফল বেসরকারি; নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই ফলাফল চূড়ান্ত হবে।
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পান, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন পান ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে বিএনপি এবং একটি আসনে খেলাফত মজলিস বিজয়ী হয়েছে। নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। পাবনা-৫ আসনে বিএনপির শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন এবং পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। এই বেসরকারি ফলাফলগুলো বিএনপির জন্য একাধিক জেলায় শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করছে, যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো ঘোষণা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং একটিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জয় পেয়েছেন। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ১,৪৯,২০২ ভোট পেয়ে জামায়াতের মাহবুবুল আলমকে পরাজিত করেন, যিনি পান ১,২৬,০৯৩ ভোট। নওগাঁ-২ আসনে জামায়াতের এনামুল হক ১,৪১,৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, বিএনপির শামসুজ্জোহা খান পান ১,৩৪,৫৩৩ ভোট। বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল, ইকরামুল বারী টিপু, জাহিদুল ইসলাম ধলু ও শেখ রেজাউল ইসলাম যথাক্রমে নওগাঁ-৩, ৪, ৫ ও ৬ আসনে জয়ী হন। ফলাফল অনুযায়ী নওগাঁয় বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, যদিও জামায়াত নওগাঁ-২ আসনে একটি আসন ধরে রেখেছে। প্রতিবেদনে প্রতিটি আসনের বিস্তারিত ভোটসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, যা জেলার নির্বাচনী চিত্রে বিএনপির প্রাধান্য নিশ্চিত করেছে। এই বেসরকারি ফলাফলগুলো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী–ডবলমুরিং) সংসদীয় আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৪ ভোট। আমার দেশ অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাকি কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই এটি বেসরকারি ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসন চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর আসন। ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। একই নির্বাচনে সাত নারী প্রার্থীর জয়, হুম্মাম কাদেরের বিপুল ব্যবধানে বিজয় এবং বিএনপির আমিনুলের পরাজয়ের খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যা বিভিন্ন আসনে প্রধান দলগুলোর মিশ্র ফলাফল নির্দেশ করে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম–৭ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। এই ফলাফল বিএনপি প্রার্থীর জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আসনটির নির্বাচনী চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
পাবনা-৫ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯২৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট। ফলে শিমুল বিশ্বাস ১৬ হাজার ৯৩১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। আমার দেশ অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি, পটুয়াখালীর চারটির মধ্যে তিনটি এবং নওগাঁ ও সিলেটের কয়েকটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিভিন্ন জেলায় দলের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর মিত্র রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বলে সর্বশেষ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফলগুলো ইঙ্গিত করছে যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী বা এগিয়ে আছেন। দলীয় সূত্রে এসব ফলাফল বেসরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিছু আসনের গণনা এখনো চলমান থাকলেও প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বিরোধী জোটের প্রার্থীরা ব্যাপক সাফল্যের পথে রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।