তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে তার দেশ। বৃহস্পতিবার আঙ্কারার প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিকের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, এরদোয়ান আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে বলকান অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে তুরস্কের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তুরস্ক কখনও বলকান অঞ্চলকে অবহেলা করে না এবং দেশটি নিজ অঞ্চলসহ এর বাইরেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এরদোয়ান দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন এবং সার্বিয়ায় তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকটি তুলে ধরেন। এরদোয়ান জানান, ২০১৫ সালে সার্বিয়ায় প্রায় ১০০টি তুর্কি-মূলধনী কোম্পানি কাজ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা এক হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে এবং মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই ছিল কমিশনের একমাত্র অঙ্গীকার এবং সেই লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি এক নতুন ভোর। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। নির্বাচনকে তিনি শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জাতীয় মর্যাদা, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে এই নির্বাচন গভীরভাবে যুক্ত ছিল এবং অতীতের তুলনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি প্রশাসনিক ঘাটতি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিস্তারিত পরিসংখ্যান পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব গণমাধ্যমকে সরবরাহ করবেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইসির জনসংযোগ পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সারা দেশের কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব এখনো আসেনি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভালো থাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খানকে পরাজিত করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে সুনামগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এই ফলাফল নিশ্চিত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসনের ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর গণনা শেষে কামরুজ্জামান কামরুল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট। কামরুল ১৭৭টির মধ্যে ১৭৩টি কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে প্রায় তেহাত্তর হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৫৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৮৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হয়েছে, আর একটি আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এসব আসনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবদিন ফারুক, মো. বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম যথাক্রমে নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৫ আসনে বিজয়ী হন। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীমকে (৬৪ হাজার ২১ ভোট) পরাজিত করেন। ফলাফল অনুযায়ী, জেলাজুড়ে বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন, যেখানে তাদের ভোট সংখ্যা ৮৩ হাজার থেকে ২ লাখ ১৯ হাজারের বেশি পর্যন্ত ছিল এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীরা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
উখিয়া-টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পঞ্চমবারের মতো বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এই ফলাফল জানা যায়। জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল নিশ্চিত করা হয়। উখিয়া উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬০ হাজার ১১ ভোট এবং নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৩৯ ভোট। টেকনাফের ৬১টি কেন্দ্রে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩৩৭ ভোট এবং নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৬১ হাজার ১০৪ ভোট। পোস্টাল ব্যালেটে বৈধ ভোট ছিল ২ হাজার ৫৫০টি, যেখানে আনোয়ারী পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩৭ ভোট এবং চৌধুরী ৫৬১ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই বিজয় উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষের। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম তিনটি কেন্দ্রে মোট ৯টি ভোট পেয়েছেন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তিনি ৭ ভোট, কমলাপুর শেরে বাংলা রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে শূন্য ভোট এবং শান্তিবাগ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ ভোট পান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই তিনটি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে। দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোট চলাকালে অসুস্থ হয়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু রাজনৈতিক দল অভিযোগ করেছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টিতে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (২৪৩) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নান ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছেন। উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে এম এ হান্নান ৬৭,৭৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন পান ৩৫,১২১ ভোট। মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৭৩,৮২৭ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১,৪৬,০৭০, নারী ১,২৯,২৬২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার ছিলেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৮০টি কেন্দ্রে। ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন। বিজয়ী প্রার্থী এম এ হান্নান ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই জয়কে বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বেসরকারি ফলাফল নিশ্চিত করেন। ১৯৮টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল গণনা শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে মো. শাহজাহান পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট। ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফল অনুযায়ী নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহানের জয় নিশ্চিত হয়েছে, যা এলাকায় দলের শক্তিশালী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের (তরবিয়াত) সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আলী আছগর পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৭ ভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩ হাজার ২৬৯। এই ফলাফলটি পাবনা জেলায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্থানীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এটি এখনো বেসরকারি ফলাফল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফলে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় গণনা শুরু হয়। ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টির ফলাফলে মণ্ডলের এগিয়ে থাকা নিশ্চিত হয়। বেসরকারি ফলাফলে নজরুল ইসলাম মণ্ডল পান ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৩৫ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পান ৭২ হাজার ৫১২ ভোট। ফলে মণ্ডল ৮০ হাজার ৩২৩ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসফা খায়রুল হক শিমুল ২ হাজার ৪৭৪, ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ৬ হাজার ৩৮৫, আলতাফ হোসেন মোল্লা ৯২৯, রুহুল আমিন ৬১০ এবং রায়হান কাউসার ৪৩৮ ভোট পান। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৬টি এবং ‘না’ ভোট পড়ে ৭৮ হাজার ৫৯৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৭ জন, যার মধ্যে প্রায় ৬৭.২৯ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেন।
বান্দরবান-৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী রেকর্ড ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। জেলার ১৮৬টি কেন্দ্রেই তিনি একক আধিপত্য বজায় রাখেন। গত রাত ১২টায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আরা রিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলাকলি প্রতীকের এস এম সুজা উদ্দিন পান ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ পান ৪৭১৮ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীকের আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ পান ২৪৩৫ ভোট। তবে এই জয়ের পাশাপাশি নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ‘না’ ভোট পড়া স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৮৬টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘না’ ভোট পড়েছে ৯০,১৫৬টি, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১,৪১৭টি। সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রবণতার বিপরীতে বান্দরবানে কেন ‘না’ ভোটের আধিক্য দেখা গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়টি এখন জেলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। আল জাজিরা, বিবিসি, জিও নিউজ, ডন, এনডিটিভি, সিএনএন ও আনাদোলু এজেন্সি নির্বাচনের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। আল জাজিরা জানায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে, আর বিবিসি জানায়, ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। জিও নিউজ ও ডন উভয়েই বিএনপির বিশাল জয়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছে। এনডিটিভি জানায়, ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সিএনএন জানায়, জেন-জিদের আন্দোলনের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন যেখানে বিএনপি জয়ী হয়েছে। আনাদোলু জানায়, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটার অংশ নেন। এই প্রতিবেদনগুলো বিএনপির জয় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদে করা সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে এবং দলের ৩১ দফা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদই এখন বিএনপির অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা হবে। ভূমিধ্বস বিজয়কে তিনি জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছে এবং কখনো জনপ্রিয়তা হারায়নি। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে জামায়াতের উত্থান ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, আওয়ামী লীগের দমন-নিপীড়নমূলক শাসন ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে না দেওয়াই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দুই দশক পর সরকারে ফিরছে বিএনপি, আর জামায়াত প্রথমবারের মতো বিরোধী দলে অবস্থান করছে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেটলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মান্না পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন, যার মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি, যা মোট ভোটারের ৭২.৬৩ শতাংশ। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সে হিসেবে এই আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। কিন্তু মান্না পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ১.৪ শতাংশ। প্রথমে বিএনপি আসনটি মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত দলটি নিজস্ব প্রার্থী দেয়। পরে মান্না নিজ দলের প্রতীকেই এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।