Web Analytics
logo
নোটিশঃ একনজরের সবগুলো মডিউল এখনো একটিভেট না হওয়াতে শুধুমাত্র নিউজগুলো দেখাচ্ছে ফিডে। সবগুলো মডিউল একটিভ করার পর পুরো প্লাটফর্মের সকল একটিভিটিস/আপডেট এখানে ফিড হিসেবে দেখাবে। আমরা আসছি, অনেক কিছু নিয়ে। অপেক্ষায় থাকুন!

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণার পর গহিরা গ্রামে আনন্দের বন্যা বইছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াছ নূরী পান ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১ লাখ ২৪২ ভোটে জয়ী হন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তাদের এই সাফল্যে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাতে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত রয়েছে।

Card image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরসহ ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। জেলার ছয়টি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ২৭ জন দলীয় এবং ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রতিটি প্রার্থীকে নির্বাচনের আগে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৮ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন। নওগাঁ-১ আসনে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন, নওগাঁ-৩ আসনে আটজনের মধ্যে ছয়জন প্রার্থী জামানত হারান। একইভাবে নওগাঁ-২, ৪, ৫ ও ৬ আসনেও একাধিক প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যারা ৮ শতাংশ ভোট পাননি, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।

Card image

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে আটজন প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের অন্তত ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই অনুযায়ী এই আসনের আটজন প্রার্থীর জামানত হারাতে হয়েছে। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— মইনুর রাব্বী চৌধুরী (লাঙ্গল), সুরুজ মিয়া (ট্রাক), এ টি এম আওলাদ হোসাইন (হাতপাখা), আব্দুল্লাহ আদিল (কাস্তে), মোছাদ্দিকুল ইসলাম (আপেল), মনজুরুল হক (কলম), এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (ঘোড়া) ও আজিজার রহমান (ঢেঁকি)। নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েকজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা না থাকায় তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হন। এই ফলাফল গাইবান্ধা-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থনের পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে।

Card image

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। শনিবার পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপি সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত নবীন এই দলটি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করেছে এবং আরও কয়েকটি আসনে সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। ইউনূস বার্তায় ২০২৪ সালের আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব ও সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উপদেষ্টা পরিষদে নাহিদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বলেন, নাহিদের কর্মদক্ষতা ও নীতিগত দৃঢ়তা তাকে মুগ্ধ করেছে। ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয় যখন নতুন কণ্ঠস্বর ও ধারণা উঠে আসে, আর এনসিপির সাফল্য তরুণ সমাজের নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তিনি আহ্বান জানান, এনসিপি যেন সংসদে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং আদর্শ ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখে।

Card image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেস ভোটারদের জন্য ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার আইন পাস না করলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নতুন ভোটিং আইন জারি করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ আদেশ জারি হতে পারে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেস অনুমোদন করুক বা না করুক, ভোটার আইডি কার্যকর হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে ভোট দিতে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হলেও সব জায়গায় নয়। ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা দাবি করেন, যেখানে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে ভোট জালিয়াতি হয়েছে, যদিও এর কোনো প্রমাণ নেই। ট্রাম্প সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা’ নির্বাচন সংস্কার বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে, তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কম হওয়ায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিলে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এসব বিধিনিষেধ লাখো ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে, কারণ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই। সংবিধান অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ক্ষমতা বিস্তৃত হওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে ভোটার আইডি কার্যকর করা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Card image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নেওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর ট্রাম্প এই সফরের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, রদ্রিগেজের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল উত্তোলন ও বিপণনে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে “দশে দশ” হিসেবে বর্ণনা করেন। রদ্রিগেজ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তা দিয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এই সফর ঘোষণাকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Card image

২৬ বছর পর কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসন পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৪৭ ভোট পান। দুটি উপজেলার ১৪২টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য জানা গেছে। এই আসনে ধানের শীষ ছাড়াও আরও নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৮টি, জামায়াত ১টি, এনসিপি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ বছর পর কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির এই জয় দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Card image

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শনিবার এক বার্তায় তিনি জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনের ফলাফল শান্তভাবে গ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি সময়ে শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম ও শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াতের গঠনমূলক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত সংসদে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। তিনি শফিকুর রহমানের সুস্বাস্থ্য ও জাতীয় ঐক্যে অব্যাহত ভূমিকা কামনা করেন।

Card image

সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষের ওপর সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। তিনি সহিংসতার শিকার সকল নিরপরাধ নাগরিকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সদ্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা জাতির বুকে ভয়ভীতি বা প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের মানুষ আর অন্যায়ের অন্ধকারে ফিরে যাবে না। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে, প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করতে বলেন। পাশাপাশি তিনি আসন্ন সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে জনগণের ম্যান্ডেট একটি শর্তযুক্ত আমানত, যার মূল শর্ত হলো সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

Card image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি কর্পোরেশন ১–৯ ওয়ার্ড) আসনে তিন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের হার অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান তার কার্যালয়ের হলরুমে অনানুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন, এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭টি, যা মোট ভোটের ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ এবং বাতিল ভোট ৫ হাজার ৩১৩টি। নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পেতে হয়, যা এই আসনে ২৭ হাজার ৮৯৩ ভোটের সমান। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন পেয়েছেন ৮৮২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ টি এম গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ৫ হাজার ২২৪ ভোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস পেয়েছেন ১ হাজার ১০৩ ভোট। ফলে তিনজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং বিএনপির মো. মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে রায়হান সিরাজীর বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Card image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনের ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ফলাফল যাচাই করে এই তথ্য জানা গেছে। জামানত হারানোদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ এবং ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি জাকির হোসেন পাটওয়ারী। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বিজয়ী হন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

Card image

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার থেকে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন তেহরিক-ই-তাহফুজ-আয়িন-ই-পাকিস্তানের নেতারা। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, চোখের চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। জুমার নামাজের পর ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে এই অবস্থান শুরু হয়। আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, মাহমুদ খান আছাকজাই ও ব্যারিস্টার গহর আলি খান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও অন্যান্য পিটিআই নেতা খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসে আলাদাভাবে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা নাসির আব্বাস সাংবাদিকদের জানান, তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খানের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিরোধীরা তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

Card image

২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির এসএ জিন্নাহ কবীর ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মইনুল ইসলাম খান শান্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোটে জয়ী হন এবং খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ সাঈদনূর, যিনি ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট পান। বিএনপির প্রার্থীদের এই জয়ে জেলার সর্বত্র দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা উল্লেখযোগ্য ভোটে পিছিয়ে পড়েন। ফলাফল অনুযায়ী মানিকগঞ্জ জেলায় বিএনপি তিনটি আসনেই নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Card image

চট্টগ্রামে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপির দুই বিজয়ী প্রার্থী। শুক্রবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিজয়ী আসলাম চৌধুরী জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরীর বাড়িতে যান, আর চট্টগ্রাম-২ (মিরসরাই) আসনের বিজয়ী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান যান জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বাড়িতে। দুই দলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের পর এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ মানুষকে আশান্বিত করেছে। তারা মনে করেন, বিদ্বেষ নয়, একসঙ্গে কাজ করার এই মনোভাব গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জামায়াত প্রার্থীরাও জানিয়েছেন, তারা বিজয়ী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চান। এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই একে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্যের পরিবেশ ফিরে আসার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

Card image

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ২১২টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে, আর জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল প্রকাশিত হয়েছে, চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে বন্ধ রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে, যা ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। তবে শপথ কে পড়াবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়ান, কিন্তু বর্তমানে সংসদ ও এই দুটি পদই শূন্য। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন শপথ পড়ানোর জন্য, আর যদি তা না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তিন দিনের মধ্যে শপথ পরিচালনা করবেন। শপথের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সরকার কার্যভার গ্রহণ করবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

Card image

আরো ফিড দেখতে লগইন করুন

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।