ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আগামী রোববার থেকে ১০টি অঞ্চলে ১০ দিনের বিশেষ মশক নিধন ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করতে যাচ্ছে। নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এই ঘোষণা দেন। তিনি মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা, ব্যর্থতা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন এবং কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা জানান। সম্প্রতি ডিএসসিসি এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সভা আহ্বান করা হয়। সভায় ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মশক কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন কার্যকর ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দেন, সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনায় মশার উৎপত্তিস্থল পাওয়া গেলে এবং সতর্ক করার পরও ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি) ‘অপ্রতিরোধ্য জবাব’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিষদ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন সময়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে এসএনএসসি বলেছে, শত্রুপক্ষ ভুলভাবে ধারণা করেছে যে এ ধরনের ‘কাপুরুষোচিত পদক্ষেপের’ মাধ্যমে ইরানি জনগণ তাদের ‘তুচ্ছ দাবির’ কাছে আত্মসমর্পণ করবে। পরিষদের দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এবং জনগণকে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এসএনএসসি সতর্ক করেছে যে তেহরানসহ অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে। নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সম্ভব হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিষদ জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে সরকার প্রয়োজনীয় সব সামাজিক চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। অপ্রয়োজনে ভিড়যুক্ত বিপণিবিতানে না যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। পরিষদ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে এবং সরকারি দপ্তরগুলো ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, রাজধানী আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার বিস্তারিত বা আহতদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও এলাকাটি সুরক্ষিত করার কাজ চলছে। আমিরাত জানিয়েছে, এই আক্রমণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তারা প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। ঘটনার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর বাহরাইনে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং জনগণকে শান্ত ও নিরাপদ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিল আকারে পেশ করা হবে। শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর এবং আদালতের রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, কারণ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিও রয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মন্ত্রণালয় জানায়, আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তবে আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একজন এশীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুন্ন করে। আমিরাত জানায়, তারা এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর এবং ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় আমিরাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স। হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের রিয়াদ, কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইন। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আবুধাবিতে একজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন জানিয়েছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয়ের একটি কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি বা অতিরিক্ত হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এই হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার একটি চুক্তি চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তিনি জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা, যা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে ইরানের স্কুলে ইসরাইলের হামলায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়া এবং ব্রিটিশ এমপিদের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, যদিও প্রতিবেদনে অভিযানের পরিধি বা ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরাইলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি উপসাগরীয় বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রতিবেশী ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয়ও ইরানে হামলার পর দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে উত্তর ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের বিস্তার ও বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়।
ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি প্রতিশোধমূলক হামলা। ফার্স বার্তা সংস্থার তথ্যমতে, আবুধাবিতে একজন নিহত হয়েছেন। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, আর বাহরাইন জানিয়েছে তাদের দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের একটি কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয় এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একজন কাতারি কর্মকর্তা জানান, তাদের দেশ দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েতেও সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইন থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাহরাইন নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে দেশটির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানানো হয়নি এবং পরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাহরাইনেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশে কার্যক্রম পরিচালনা করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ভিডিও বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের আহ্বান জানান, দেশে চলমান ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে যেন তারা ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে নিজেদের সরকার দখলে নেয়। তিনি বলেন, “যখন আমরা শেষ করব, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে।” ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করে বলেন, তারা যদি অস্ত্র না ফেলে, তবে “নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি” হবে, আর অস্ত্র সমর্পণ করলে “মুক্তি” পাবে। চলতি জানুয়ারিতে মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬,৪৮০ জন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনার পর ট্রাম্প ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দেন এবং দায়ীদের “বড় মূল্য দিতে হবে” বলে সতর্ক করেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন যে “সহায়তা পথে রয়েছে।” কয়েক দিন পর ট্রাম্প জানান, ইরান সরকার তাকে আশ্বস্ত করেছে যে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং এরপর তার মনোযোগ চলে যায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
শনিবার সকালে ইসরায়েলের হামলার পর ইরান সতর্ক করেছে যে আগ্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে এই হামলায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তেহরান এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পুনরায় সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে এবং তারা দৃঢ়ভাবে জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরান এতদিন ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করেছে, তবে এবার জবাব হবে কঠোর। ইরান জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগ্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি অব্যাহত রেখেছে, যা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও এমনকি মার্কিন মূল ভূখণ্ডকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় অভিযান পরিচালনা করছে, যার লক্ষ্য ইরানের এই ‘দুষ্ট ও উগ্র স্বৈরশাসন’কে আমেরিকাকে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখা। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত তখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক আলোচনায় অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে দ্রুত ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়, যেখানে উভয় পক্ষই জানায় যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছিল।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের লক্ষ্য পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার নাটোর সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি বলেন, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। এটি একটি সর্বজনীন প্রকল্প, যা ধাপে ধাপে সবার কাছে পৌঁছাবে এবং কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যগোষ্ঠী থাকবে না। তিনি জানান, অতীতে বিধবা, বয়স্ক, কৃষি ও গর্ভবতী ভাতা কার্ড বিতরণে নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে সরকার একটি সমন্বিত সিস্টেমে যেতে চায়, যাতে সব সুবিধা এক কার্ডে সংযুক্ত করা যায়। ফ্যামিলি কার্ডে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হবে, যা অন্যান্য কার্ডের তুলনায় বেশি। প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে এটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের কাছেও পৌঁছাবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ঘোষণা করেছে যে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হামলার পর ইসরাইলের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে আসছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয় এবং সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। আইডিএফ জানায়, তারা হুমকি প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত। দিনের শুরুতে ইরানের শহরগুলোতে হামলার পর এই পাল্টা আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।