মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে চলছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ এক হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, এক আঘাতেই ৪৮ জন ইরানি নেতা খতম হয়েছেন এবং অভিযান দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নতুন নেতৃত্ব আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অভিযান নির্ধারিত সময়ের চেয়েও ভালোভাবে চলছে এবং এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য করা হচ্ছে। এমএস নাও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি প্রবাসীদের উল্লাস করতে দেখেছেন তিনি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার পাশাপাশি ইরানের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরাইলি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেমের পশ্চিমে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ৫১ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। এর আগে আটজন নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ইসরাইলের মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, রবিবার বেইত শেমেশ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। আল জাজিরার সূত্রে জানা যায়, ইরানের এই হামলায় ইসরাইলি শহরে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলার বিস্তারিত তথ্য বা ইসরাইল ও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস। শনিবার এক বিবৃতিতে দলটি এই ঘটনাকে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া পরিচালিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। কংগ্রেস সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও গভীর করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার এখনো খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সরকার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও চাবাহার বন্দর প্রকল্পে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক ইরান হামলার জবাব দেওয়া হবে। সংগঠনের মহাসচিব নাইম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, হিজবুল্লাহ সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলাকে ‘অপরাধের সর্বোচ্চ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিধাতার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে তারা আগ্রাসনের মোকাবিলায় কর্তব্য পালন করবে। হিজবুল্লাহ লেবাননের একটি প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম সংগঠন, যার হাতে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ইসরাইলি দখলের বিরোধিতা করতে সংগঠনটি গঠিত হয়, যেখানে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯২ সাল থেকে হিজবুল্লাহ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং বর্তমানে লেবাননের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই ঘোষণা ইরানের প্রতি হিজবুল্লাহর অব্যাহত সমর্থনকে পুনর্ব্যক্ত করে এবং সাম্প্রতিক হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রাজি। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চায় এবং তিনিও তাদের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, এই আলোচনা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল এবং ইরান দেরি করেছে। তবে কখন এই আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। প্রতিবেদনে আলজাজিরাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরাইল, ইরান ও আরব দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক হতাহতের পর এই আলোচনার ইঙ্গিত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও আলোচনার সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তিনটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর ট্যাংকারগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের অভিযানে দেশটির ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, অভিযান দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইল যৌথ অভিযানে দেশটির ৪৮ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সাফল্য কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না এবং অভিযান দ্রুত এগিয়ে চলছে। সিএনবিসিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য পরিচালিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। খবরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তিনটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। ট্রাম্প ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একইসঙ্গে এগিয়ে চলছে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী দিনগুলোতে তেহরানে বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী এখনো পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করেনি এবং রাজধানী তেহরানে অভিযান আরও তীব্রভাবে চলছে। নেতানিয়াহু ইরানের হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দেশটি বর্তমানে এক বেদনাদায়ক সময় পার করছে। রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হন, যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত। নেতানিয়াহু বলেন, তেল আবিব ও বেইত শেমেশে প্রিয় মানুষদের হারিয়েছে দেশ, এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এই ঘোষণা ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সামরিক অভিযান শিগগিরই আরও তীব্র হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার আবুধাবির আল সালাম নৌঘাঁটিতে ইরানের দুটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলায় ঘাঁটির একটি গুদামে আগুন ধরে যায় এবং দুটি কনটেনার পুড়ে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। ফরাসি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আলজাজিরা সূত্রে জানা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা ঘাঁটির কার্যক্রমে প্রভাব সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। ঘটনাটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যদিও সূত্রে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী পদক্ষেপের উল্লেখ নেই।
ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিচার বিভাগ অনুমোদিত মিজান নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মিনাবের প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, হামলায় ৯৫ জন নিহত হয়েছিলেন। হরমোজগান গভর্নর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মিনাবের শাজারে তাইয়েবা বালিকা বিদ্যালয়ে সকালের শিফটে ১৭০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এ কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে হামলার ধরন বা দায়ীদের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনাটির তদন্ত বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, ফলে ঘটনার পটভূমি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইরান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব দাবি করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যা বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রোববার বিকেলে রিয়াদ বিমানবন্দর ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের কাছে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, তিনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য দেখেছেন এবং বিকট শব্দ শুনেছেন। প্রতিবেদনে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরান প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা করছে। তিনি জানান, আত্মরক্ষার বাইরে ইরানের আর কোনো বিকল্প নেই। আরাগচি আরও বলেন, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবেশীরা বুঝবে যে এই পরিস্থিতি ইরানের সৃষ্টি নয় এবং এর জন্য ইরান দায়ী নয়।
শিল্প, বাণিজ্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানিনির্ভর বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সারাদেশে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। বাজার যেন জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে মূল্য না বাড়ায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও টিসিবির একাধিক টিম মাঠে থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বাজার পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে তিনি টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে বর্তমান সংসদকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ঘোষণা এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে তিনি এ দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে সংসদ অধিবেশনে পরিষদ গঠন করে শপথ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের অপকর্মকে বৈধতা দেওয়া রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষ নিহত ও হাজারো আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নতুন সরকার জনগণকে আশাহত করেছে এবং জুলাই সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকারের অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছিলেন, তার ভাষণে সংসদ শুরু হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি আরও বলেন, এই পর্যায়ে নৌচলাচল ব্যাহত হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ারও পরিকল্পনা নেই। রোববার কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ নোঙর করে আছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখানে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাস নৌচলাচল অব্যাহত রাখার বার্তা দিলেও, প্রণালির কাছে জাহাজ ক্ষতির ঘটনা অঞ্চলটির উত্তেজনা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।