বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) দীর্ঘ গবেষণার পর দুটি নতুন আমন ধানের জাত ‘বিনা ধান-২৭’ ও ‘বিনা ধান-২৮’ উদ্ভাবন করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় এই দুটি জাত সারা দেশে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮টি। ‘বিনা ধান-২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান। এতে পিআইনাইন (Pi9) ও পিশ (Pish) নামের দুটি প্রতিরোধী জিন সংযোজন করা হয়েছে। গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার এবং হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছয় থেকে সাড়ে ছয় টন, অনুকূল পরিবেশে সাত টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ‘বিনা ধান-২৮’ একটি জিংকসমৃদ্ধ, সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের জাত, যার প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। এই জাতটির জীবনকাল ১২০ থেকে ১২৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় সাড়ে ছয় টন। চালের অ্যামাইলোজ ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হওয়ায় ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয়। বিনা কর্তৃপক্ষের মতে, এই দুটি জাত কৃষকের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা ও উৎপাদন খরচ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে এবং জানিয়েছে দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অন্য পাম্পগুলো সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে আতঙ্কিত না হতে আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হবে। বিপিসি জানিয়েছে, সরকার এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং অতিরিক্ত দাম আদায় আইনগত অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার আশা করছে, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জন্য এক নির্মম বাস্তবতা, যা প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নদী, কৃষি, বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমিতে শুষ্কতা ও মরূকরণের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও মরুভূমি গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, এই অঞ্চল ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জলবায়ু প্রভাব মূল্যায়নের জন্য চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে—সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল নির্ধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা মূল্যায়ন এবং অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ পর্যালোচনা। এই সূচকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ এখন প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক—সব দিক থেকেই বহুমাত্রিক সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতি সুন্দরবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশব্যবস্থা রক্ষায় দ্রুত অভিযোজন ও প্রশমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের পর ওয়াশিংটনের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। হোয়াইট হাউসে ইন্টার মায়ামি ফুটবল ক্লাবকে আতিথেয়তা দেওয়ার সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা নিয়ে ‘অসাধারণ কাজ’ করায় ধন্যবাদ জানান এবং জানান যে কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের পতন আসন্ন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার মাধ্যমে বৈরী দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। কিউবা বর্তমানে মারাত্মক জ্বালানি সংকটে ভুগছে, যা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের পর আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ ও প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন এই পরিস্থিতিকে মানবিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ও খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশটি চাপের মুখে, ইকুয়েডর কিউবার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে এবং হন্ডুরাস, জ্যামাইকা ও অন্যান্য দেশ চিকিৎসা সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করেছে। ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে লাতিন আমেরিকার ডানপন্থি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যা আঞ্চলিক জোট পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক সক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করা। সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে নেগেভ মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেয়ারশেবা ও দেশের উত্তরাঞ্চলে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এমনভাবে হামলা চালাচ্ছে যাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বদা চাপের মধ্যে থাকে এবং একাধিক স্থানে একযোগে হামলা মোকাবিলা করতে হয়। এতে ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর মজুদ দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টানা এক সপ্তাহের হামলার পরও ইরান বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে তাদের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনও ইসরাইলসহ পুরো অঞ্চলে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং চলমান সংঘাতে তা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে উদ্দেশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে “উসকানিহীন আগ্রাসন” চালিয়েছে এবং জাতিসংঘকে তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাঘাই বলেন, চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন শিশু ও স্কুলকর্মীসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই তথ্য ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। মুখপাত্র আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক কোনো জাহাজকে ইরান বাধা দেবে না, তবে প্রতিটি জাহাজকেই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কোনো জায়নবাদী রাষ্ট্র অর্থাৎ ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের ৬৬০ জন সুন্নি মুসলিম ধর্মীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্স টুডের ৬ মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতে গভীর শোক জানিয়েছেন। বিবৃতিতে খামেনির দীর্ঘ জীবনের সত্য প্রতিষ্ঠা, ইসলামের পক্ষে সংগ্রাম এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। ধর্মীয় নেতারা উল্লেখ করেন, তিনি শহীদের মর্যাদা লাভ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছেছেন। তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা আলেম, চিন্তাবিদ ও স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিপদ সংকেত পাঠানোর পর ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস লাভান ও এর ১৮৩ নাবিককে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ঘটনাটি ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরু হয়। ভারত সরকার জানিয়েছে, কচিতে নোঙরের আবেদন আসে ২৮ ফেব্রুয়ারি, অনুমোদন দেওয়া হয় ১ মার্চ এবং ৪ মার্চ থেকে জাহাজটি কচিতে অবস্থান করছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাবিকদের জন্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে যখন ভারত সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর আগে ইরানি জাহাজ আইআরআইএস ডেনা মার্কিন সাবমেরিনের টরপেডো হামলায় আক্রান্ত হয়, এতে ৮০ জনের বেশি নাবিক নিহত, ৩২ জন উদ্ধার এবং শতাধিক নিখোঁজ হন। ভারত এখনো সেই হামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। সরকার জানিয়েছে, আইআরআইএস লাভানকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ ও নাবিকদের নিরাপত্তার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল–ইরান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
উত্তর ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা এখনই ইরানে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যদি কোনো স্থল অভিযান শুরু হয়, তারা সেই অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত। কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী জোট বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত, যদিও তারা চান না কুর্দি গোষ্ঠীগুলো অভিযানের অগ্রভাগে থাকুক। পিএকের কর্মকর্তা খালিল নাদিরি বলেন, তাদের কিছু সশস্ত্র সদস্য ইতোমধ্যেই ইরানের ভেতরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সম্ভাব্য বিদ্রোহে অংশ নিতে পারে। তিনি আরও জানান, কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যোগাযোগ রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো সামরিক বা বস্তুগত সহায়তা পায়নি। ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না এবং তারা সংঘাতের বিস্তার চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কুর্দি অঞ্চলগুলো নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের সপ্তম দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও সেনা প্রত্যাহার করেছে জার্মানি। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান সামরিক বাহিনী। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের অধীনে মোতায়েন জার্মান সেনাদের একটি অংশ নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে উত্তর ইরাকের এরবিল শহরে জার্মান সামরিক উপস্থিতি কমানো হয়েছিল। জার্মান গণমাধ্যম আরএনডি জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত সেনারা ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন এবং কুয়েত থেকেও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। বাগদাদে জার্মান দূতাবাসে কর্মরত কিছু সেনা ও কর্মকর্তাকে নিরাপত্তার কারণে জর্ডানে স্থানান্তর করা হয়েছে, যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫০০ জার্মান সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরাক ও জর্ডানে অবস্থান করছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কিছু ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিএনএনের জন্য এসএসআরএস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সিদ্ধান্তে অধিকাংশ আমেরিকান অসন্তুষ্ট। সমীক্ষায় ৫৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এই হামলার বিরোধিতা করেছেন, আর ৪১ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পরপরই পরিচালিত এই জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও ব্যাপক সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপে ৬০ শতাংশ মনে করেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই এবং ৬২ শতাংশের মতে, আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত। মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যেখানে ৩৯ শতাংশ মনে করেন আরও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল। ৫৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৫৪ শতাংশের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি আরও বাড়াতে পারে। রাজনৈতিকভাবে বিভাজন স্পষ্ট: রিপাবলিকানদের ৭৭ শতাংশ হামলাকে সমর্থন করেছেন, যেখানে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে সমর্থন ৩২ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ। বয়স, লিঙ্গ ও জাতিগত বিভাজন নির্বিশেষে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই হামলার বিরোধিতা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানকে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরান আত্মসমর্পণ না করলে কোনো ধরনের চুক্তি করা হবে না। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলে তবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সম্ভব হবে। ট্রাম্প আরও জানান, আত্মসমর্পণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানে নতুন ‘গ্রহণযোগ্য’ নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করবে। সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে ইরানের পুনর্গঠনেও সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আল জাজিরার সূত্রে প্রকাশিত এই বক্তব্যে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের আত্মসমর্পণের ওপর নির্ভর করবে।
ওরাকল ও ওপেনএআই টেক্সাসে তাদের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাতিল করেছে, কারণ অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও সমঝোতা হয়নি এবং ওপেনএআই-এর প্রয়োজনীয়তায় পরিবর্তন এসেছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে। এই সম্প্রসারণটি স্টারগেট উদ্যোগের অংশ ছিল, যার মূল্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার এবং ১০ গিগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প, যেখানে সফটব্যাংক গ্রুপও যুক্ত রয়েছে। এই উদ্যোগটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন। কোম্পানিগুলো আগে টেক্সাসের অ্যাবিলিন এলাকায় স্টারগেট সাইটের কাছে অতিরিক্ত ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা যোগ করার পরিকল্পনা করেছিল, তবে এখন সেই ক্ষমতা অন্য একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসে বাস্তবায়িত হবে। অ্যাবিলিন সাইটে আটটি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে চালু হয়েছে এবং ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এগুলো পরিচালনা করছে। সম্প্রসারণ বাতিল হলেও ৪.৫ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার ক্ষমতা উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনা আগের মতোই চলছে। আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মেটা প্ল্যাটফর্মস ওই পরিকল্পিত সাইটটি ডেভেলপার ক্রুসো থেকে লিজ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যেখানে এনভিডিয়া আলোচনায় সহায়তা করছে যাতে তাদের এআই চিপ ব্যবহৃত হয়।
গ্রামারলির নতুন ‘এক্সপার্ট রিভিউ’ ফিচারটি বিতর্কের মুখে পড়েছে, কারণ এতে বাস্তব ব্যক্তিদের নাম অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। আগস্টে চালু হওয়া এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের লেখার জন্য এআই-নির্ভর পরামর্শ দেয়, যা নাকি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত। দ্য ভার্জের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ফিচারটি তাদের নিজস্ব সম্পাদকদের নামও ব্যবহার করেছে, যেমন নিলায় প্যাটেল ও শন হলিস্টার, যাদের কেউই গ্রামারলিকে তাদের পরিচয় ব্যবহারের অনুমতি দেননি। এমনকি মৃত অধ্যাপকদের নামও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্য ভার্জ জানিয়েছে, ফিচারটির বিবরণে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে, যেমন পুরনো পদবি, এবং এটি প্রায়ই অবিশ্বস্ত বা সম্পর্কহীন ওয়েবসাইটে লিঙ্ক দেয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এআই এমন লেখার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ দিচ্ছে যা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের লেখা নয়। গ্রামারলির মূল প্রতিষ্ঠান সুপারহিউম্যান জানিয়েছে, এই ফিচারটি কোনো বিশেষজ্ঞের অনুমোদন দাবি করে না এবং তাদের কাজ প্রকাশ্যে পাওয়া যায় বলে ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল ডক্সে এই এআই মন্তব্যগুলো বাস্তব ব্যবহারকারীর মত দেখায়, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে যে পরামর্শগুলো সত্যিই উল্লিখিত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এসেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।