মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলায় দ্বীপটির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও হামলার ইঙ্গিত দেন। এটি তার আগের অবস্থান থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জোরদার করবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান থেকে খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়, আর আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, দেশটি আত্মরক্ষার অধিকার রাখে তবে সংযম বজায় রাখছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, ইসরায়েল ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইসফাহানে নিহত শ্রমিকদের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, যা এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।
২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের দুই ছোট সন্তান নিহত হয়েছে। ঘটনাটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাম্মুম শহরে ঘটে, যখন বানি ওদেহ পরিবারটি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতরা হলেন আলী বানি ওদেহ, তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ এবং তাদের দুই সন্তান—পাঁচ বছর বয়সী মোহাম্মদ ও সাত বছর বয়সী ওসমান। তাদের সবার মুখ ও মাথায় গুলি লেগেছে বলে জানানো হয়েছে। একই পরিবারের আরও দুই শিশু, আট ও ১১ বছর বয়সী, আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলার পর তাদের জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইসরাইলি বাহিনী প্রথমে আহতদের কাছে যেতে বাধা দেয় এবং এলাকা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়। প্রতিবেদনে বিবিসিকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য বা ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। এই ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়, যদিও প্রতিবেদনে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে যে মন্তব্য করেছেন তা তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি পরিবহন রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিউল বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করছে। শনিবার ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখতে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যও এতে অংশ নেবে। অন্যদিকে, জাপানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, টোকিও এখনো এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উচ্চ মাত্রার সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, সরকারে থাকাকালীন তিনি আশা করেছিলেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি সম্পন্ন হবে, কিন্তু এখনো বিচার শুরু হয়নি। এ বছরের ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তিনি জানান, মামলার বাদি অভিযোগপত্রে অসন্তুষ্ট হয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। ফলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। এই তদন্ত এখনো শেষ না হওয়ায় বিচার শুরু করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষ হয়ে অভিযোগপত্র দাখিল হলে এবং বাদি নতুন করে নারাজি না দিলে বিচার শুরু হতে পারে। আসিফ নজরুল আরও বলেন, তদন্তে ত্রুটি বা বাদির নতুন আপত্তি থাকলে বিচার আবারও বিলম্বিত হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, সবার সদিচ্ছা থাকলে সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৬ দিনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৫০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। ওই দিনই ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ফ্লাইট বাতিলের ধারা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ২৩টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, জাজিরা, ফ্লাইদুবাই, ইউএস-বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে। তবে রোববার সীমিত আকারে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে মাসকট, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইট ছিল প্রধান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফ্রান্সকে আহ্বান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারোর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কথা হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম পোস্ট অনুযায়ী, আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড। তিনি সব দেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানান যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। আরাঘচি আরও বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তাদের সামরিক বাহিনী কেবল আগ্রাসীদের ঘাঁটিতেই হামলা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়ার ওপর।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীর বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে এই সতর্কতা জারি করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মুখপাত্র আভিচে আদ্রায়ি জানান, হারেত রিক, ঘোবেইরি, লাইলাকি, হাদাত, বুর্জ আল বারাজনেহ, তাহউইত আলগাদির এবং চিয়াহ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই নির্দেশ প্রযোজ্য। আদ্রায়ি বলেন, হিজবুল্লাহ সদস্যদের আশেপাশে থাকা যে কাউকেই আইডিএফ লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এলাকাগুলোতে অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, তাই অবিলম্বে সরে যাওয়া উচিত। এই সতর্কতা ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বৈরুত অঞ্চলে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করছে।
বাংলাদেশের বিরোধী দল জানিয়েছে, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে চলমান জটিলতার সমাধান তারা সংসদের ভেতরেই করতে চায়। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে সমাধান না হলে তারা রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। ডা. শফিকুর রহমান জানান, পরিষদের অধিবেশন বিষয়ে তারা নোটিশ দেবেন এবং স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি সংসদে এগিয়ে নিতে চান। তিনি বলেন, এটি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বিষয় নয়, বরং সংসদের বিষয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রস্তাব বিজয়ী হয়েছে, যা জনগণের মতামত প্রতিফলিত করে। এর আগে তিনি সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইরান ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর ওপর ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার সকালে ‘লাহাভ ৪৩৩’ বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদর দপ্তর এবং গিলাত প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তবে ইরান এখনো নির্দিষ্ট করে জানায়নি হামলার লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলো কোথায় ছিল বা এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য বন্ধ থাকবে, তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত। শনিবার মার্কিন ক্যাবল নিউজ চ্যানেল এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্য দেশের জাহাজগুলোর জন্য প্রণালি পার হতে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কিছু জাহাজ প্রণালি ব্যবহার না করলেও এতে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই এবং অনেক ট্যাঙ্কার ও জাহাজ এখনো প্রণালি পার হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানের পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে। এরপরই আরাগচি এই মন্তব্য করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি আহত ও বিকলাঙ্গ হয়েছেন। এর জবাবে আরাগচি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যখন ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা ১৫তম দিনে পড়েছে। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে প্রণালীতে মার্কিন জাহাজের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এক মার্কিন জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান তুরস্ক ও ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও অন্যদের জন্য পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া পাওয়া কঠিন হবে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক। তার মতে, যুদ্ধজাহাজগুলো ধীরগতির হওয়ায় সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইরানের শাহেদ ড্রোনের পাল্লা প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার হওয়ায় দেশটি সহজেই এসব জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। এলমাসরি আরও জানান, পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে অনেক বীমা কোম্পানি এখন জাহাজ বা নাবিকদের জন্য বীমা দিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০টি ড্রোন এই অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে। রোববার আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, কথিত এই হামলার সঙ্গে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আইআরজিসি সৌদি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে হামলার প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করতে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হামলার উৎস বা হামলাকারীদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই বিবৃতি এমন এক সময় এসেছে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সৌদি আরব একাধিক আকাশপথে হামলার দাবি করছে। ইরানের এই অস্বীকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও সূত্রে কোনো তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক বা সামরিক প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ নেই।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল ৬টা থেকে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। আরকে এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নিয়মিত সার্ভিস চালু থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জগলুল হোসেন নয়ন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ৯ হাজার লিটারের অকটেনবাহী লরি ঘাটে পৌঁছানোর পর অচলাবস্থা দূর হয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন, নির্ধারিত ২৫০ টাকার বেশি ভাড়া নেওয়া হবে না এবং যাত্রী হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেন। সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভূমিকা রাখেন। সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৩ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হলেও ঈদের সময় তা বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ লিটারে দাঁড়ায়। বর্তমানে প্রাপ্ত ৯ হাজার লিটার অকটেন দিয়ে সর্বোচ্চ দুই দিন চলাচল সম্ভব, অথচ পুরো ঈদ মৌসুমে প্রয়োজন প্রায় ৮০ হাজার লিটার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রোববার দুপুরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য উদ্ঘাটনে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের আগে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যান, সে লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রহমান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ও ল’ রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ। সম্প্রতি পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন এবং সোমবার (১৬ মার্চ) কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনখনন কার্যক্রম শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে বাসে করে কাহারোলে যাবেন। খাল খনন উদ্বোধনের পর তিনি দিনাজপুর শহরে গিয়ে নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন এবং সার্কিট হাউস মাঠে ইফতারে অংশ নেবেন। পরে রাত ৮টায় সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরে আসবেন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।