যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো খেলবে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। সূচি অনুযায়ী, ইরানের তিনটি গ্রুপপর্বের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করছে না, তবে নিরাপত্তার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে না। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিবৃতি উল্লেখ করে বলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন সেখানে খেলা সম্ভব নয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই প্রস্তাব নাকচ করে জানান, সূচি চূড়ান্ত এবং ফিফা রাজনৈতিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করবে না, তবে ফুটবল শান্তির সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে না খেলে, তবে এটি আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সার সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষায় চীন সার রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিং নাইট্রোজেন-পটাশিয়াম সার মিশ্রণ ও কিছু ফসফেটজাতীয় সার রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। ইউরিয়া রপ্তানির আগের নিষেধাজ্ঞা ও কোটার পাশাপাশি এখন কেবল হাতে গোনা কয়েক ধরনের সার, বিশেষ করে অ্যামোনিয়াম সালফেট, রপ্তানি করা যাচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় চীনের সার রপ্তানি অর্ধেক থেকে তিন-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার রপ্তানিকারক দেশ, গত বছর দেশটি ১৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সার রপ্তানি করেছিল। নতুন নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বহন করে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংকটের সময় চীন সাধারণত রপ্তানি সীমিত করে খাদ্য নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতি রক্ষায় মনোযোগ দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে জটিল এক যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের পরীক্ষার মুখে পড়েছেন। তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। কৌশলগত অস্পষ্টতা ও নমনীয়তার ওপর নির্ভরশীল ট্রাম্পের নেতৃত্ব এখন প্রশ্নের মুখে, কারণ তিনি একজন প্রথাগত যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্টের মতো দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শন করতে পারছেন না। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সফল অভিযানে ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ইরান ইস্যুতে তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পদত্যাগের মুখোমুখি হচ্ছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্ররা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণ যুদ্ধ নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটি ২০টি ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যারা থাকতে চান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। শুক্রবার, ২০ মার্চ, সৌদি আরবের আলখারাজে ইরানের হামলায় নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে রাখা সরকারের প্রধান কাজ এবং এজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের সরকারি খরচে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, যেসব প্রবাসী এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টাকা, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং পরবর্তীতে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে আবারও প্রথম স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। টানা নয় বছর ধরে শীর্ষে থাকা দেশটি সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের মানদণ্ডে এই স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানসম্মত শিক্ষা ও শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ফিনল্যান্ডের সুখের মূল ভিত্তি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, এরপর আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। শীর্ষ দশে আরও আছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল ও কোস্টারিকা। প্রতিবেদনে তরুণদের মধ্যে সুখ কমে যাওয়ার প্রবণতা এবং এর পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে বেকারত্বের হার বেশি হলেও তা ফিনল্যান্ডের সুখ সূচকে প্রভাব ফেলেনি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো নিচের দিকে, প্রায় ১৩০তম স্থানে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর ভাষায় বিবৃতি দেন। ইরান পাল্টা কাতারের একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার বিষয়ে কিছুই জানত না এবং ইসরাইল ‘ক্রোধের বশে’ কাজ করেছে। তার এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মতভেদের প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে জানায়, হামলাটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত ছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরে বলেন, ইসরাইল একাই অভিযান চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ট্রাম্প। দুই নেতা ঐক্যের বার্তা দিলেও বিশ্লেষকরা কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে পার্থক্যের ইঙ্গিত দেখছেন। ট্রাম্প সতর্ক করেন, ইরান যদি আবার কাতারের স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সম্মতি ছাড়াই সাউথ পার্স ক্ষেত্র ধ্বংস করবে। এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে, যদিও ইসরাইলে নেতানিয়াহুর সমর্থন এখনো শক্তিশালী।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে অতিরিক্ত ৪০০০ মেরিন ও নৌ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা নিউজম্যাক্স চারজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, এই সেনারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীকে শক্তিশালী করবে এবং এর সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও পাঠানো হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে বক্সার অ্যাম্বিবিয়াস রেডি গ্রুপ মোতায়েন করা হচ্ছে। এই যুদ্ধগোষ্ঠীতে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উভচর আক্রমণযান, যা স্থল অভিযানে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফিফা ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল বৈষম্য, বর্ণবাদী আচরণ, আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) দুটি পৃথক আবেদন করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, কারণ পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে জাতীয় লিগে খেলতে দেওয়া হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনে এখনো জটিল ও অনির্ধারিত। গভর্ন্যান্স প্যানেলের পরামর্শে ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে আইএফএকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ফিফা দুই পক্ষের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে। নিষেধাজ্ঞা না দিলেও ইসরাইলি ফুটবলে আচরণগত বিষয়গুলো নিয়ে সংস্থার নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে মার্কিন বাহিনীর একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে মার্কিন কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার প্রথম ঘটনা এবং চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমানে হামলারও প্রথম উদাহরণ। সূত্র হিসেবে মিডল ইস্ট আই-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি সত্য হলে এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে, তবে স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
চাঁদপুর জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে পালিত হচ্ছে। হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ঈদ উদ্যাপন চলছে। হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি গ্রামেও ঈদুল ফিতর উদ্যাপন হচ্ছে বলে সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরিফের পীর ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জের সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক; মতলবের দশানী, মোহনপুরসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির কয়েক হাজার বাসিন্দা ঈদ উদ্যাপন করছেন। ১৯৩২ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদ্যাপনের এই প্রথা চালু করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এবারের ঈদযাত্রায় বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হয়েছে। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ চরম দুর্ভোগ ও জুলুমের শিকার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে, কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিই এই বিশৃঙ্খলার মূল ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বলা হয়েছে যে বাসমালিকেরা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ কি আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে যাচ্ছে? সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে জেগে ওঠা যুবসমাজ ও জনগণ তা বরদাশত করবে না। তিনি সময় থাকতে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই এই দায় বহন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাজা গণহত্যা মামলায় ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে সরে এসেছে জার্মানি। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বার্লিন হেগের এই মামলায় ইসরাইলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা মামলাটি দায়ের করার সময় জার্মানি ইসরাইলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে মুখপাত্র আবারও নিশ্চিত করেছেন যে জার্মানি এই মামলায় ইসরাইলের পক্ষে অংশ নেবে না। অথচ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও জার্মানি ঘোষণা করেছিল যে তারা ইসরাইলকে সমর্থন করবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই সিদ্ধান্তকে দেশটির প্রকাশ্য অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেগে চলমান এই মামলায় জার্মানির অবস্থান পরিবর্তন তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন যে ইসরাইল যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে এবং ইরান ধ্বংসের পথে। তিনি বলেন, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তার এই বক্তব্যের মধ্যেই ইরান ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে থাকে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের আগের দেড় ঘণ্টায় তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর ইসরাইলের উত্তরে বিমান হামলার সাইরেন বাজে। এই ঘটনাগুলো ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের কাছে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৮০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাবে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রাডার ব্যবস্থা এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ রয়েছে। কুয়েতের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করা হবে, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত। জর্ডানের জন্য সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বিমান ও গোলাবারুদ সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, এই তিন দেশের কাছে আরও ছয় বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসকে জানানো প্রয়োজন হয়নি, কারণ এগুলো পূর্বে অনুমোদিত প্যাকেজের অংশ বা বাণিজ্যিক বিক্রয় ছিল। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে তার আরব মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছেন না। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না এবং যা প্রয়োজন তা করা হবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। এদিকে ইরানে ২০টি ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালীতে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স। দ্য ইকোনমিস্ট ট্রাম্পের ইরান নীতি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে সতর্ক করেছে। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে, যা চলমান সংঘাতের আঞ্চলিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।