ড. মোহর আলির গবেষণায় বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাচীন মুসলিম আগমন ও বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৩৭–৩৮ সালে রাজশাহীর পাহাড়পুরে খননে আব্বাসি খলিফা হারুনুর রশীদের (৭৮৬–৮০৯ খ্রি.) একটি মুদ্রা এবং কুমিল্লার ময়নামতিতে একই যুগের দুটি মুদ্রা পাওয়া যায়। এসব আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হয়, অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে আরব বণিক বা ধর্মপ্রচারকরা বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন। নবম–দশম শতাব্দীর একটি শিলালিপিতে ‘তাজিক’ শব্দের উল্লেখও আরব বা পারসিক বণিকদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, আরব বণিকরা বাংলায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিল কি না তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আরাকানের ইতিহাসে ৭৮০–৮১০ খ্রিষ্টাব্দে এক জাহাজডুবির পর আরবদের চট্টগ্রাম উপকূলে বসতি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে থু-রা-তান নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়, যাকে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক ও ড. এম.এ. রহিম ‘সুলতান’ শব্দের আরাকানি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, এটি ছিল প্রাথমিক মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের প্রতিফলন।
গবেষণায় উপসংহারে বলা হয়েছে, মুসলিম সামরিক বিজয়ের বহু আগে আরব বণিকরা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছিল এবং ‘চট্টগ্রাম’ নামটির আরবি উৎসও সেই প্রাচীন সংযোগের সাক্ষ্য বহন করে।