ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর এবং আশপাশের দেশগুলো নিয়ে গঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৬–০৭ সাল থেকে এই অঞ্চল কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বে আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি, আর ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ঘোষণা করে, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্মুক্ত সমুদ্র বাণিজ্য নিশ্চিত করা।
এই অঞ্চলে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা বাস করে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশ এখান থেকে আসে। চীনের ২০১৩ সালের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে দেশটি অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে কোয়াড জোট সক্রিয় করেছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং ২০২৩ সালে দেশটি নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে, যা শান্তি, উন্নয়ন ও উন্মুক্ত বাণিজ্যের ওপর জোর দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।