১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে চট্টগ্রামের নেতৃত্বদানকারী কিন্তু প্রায় বিস্মৃত বীর হাবিলদার রজব আলী খাঁর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি ৩৪ নম্বর নেটিভ বেঙ্গল পদাতিক বাহিনীর প্রায় ৪০০ সৈন্য নিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করেন। তার নেতৃত্বে সিপাহিরা বন্দিদের মুক্ত করে, কোষাগার ও অস্ত্রাগার দখল নেয় এবং প্রায় ৩০ ঘণ্টা চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখে। পরে তারা ত্রিপুরা ও সিলেটের দিকে অগ্রসর হয়। ১৮৫৮ সালের ৯ জানুয়ারি করিমগঞ্জের মালেগড় টিলায় চূড়ান্ত যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন সিপাহি শহীদ হন।
রজব আলীর জন্মস্থান ও পরিণতি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন তিনি মণিপুরের অরণ্যে হারিয়ে যান, আবার কেউ দাবি করেন ব্রিটিশরা তাকে ফাঁসি দেয়, যদিও কোনো সরকারি নথিতে তা নেই। মঙ্গল পাণ্ডের তুলনায় তার ভূমিকা কম না হলেও তিনি ইতিহাসে অবহেলিত।
চট্টগ্রাম ও করিমগঞ্জের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে। স্থানীয়রা চান চট্টগ্রামের প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম ‘হাবিলদার রজব আলী স্কয়ার’ রাখা হোক এবং তার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।