বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় নেমেছেন। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে নিজেদের অর্থে ব্যয় করছেন, কিন্তু জামায়াতের বেশিরভাগ প্রার্থী ঋণ ও দানের ওপর নির্ভরশীল। কিছু প্রার্থীর ঘোষিত ব্যয় তাদের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি, যা নির্বাচনে আর্থিক সক্ষমতার প্রভাবকে স্পষ্ট করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধার ও দানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, এই প্রবণতা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক বিশ্লেষক তৌফিক আহম্মেদ মনে করেন, ভোট এখন আদর্শের নয়, অর্থের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, যা ভোটারের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সাবেক নির্বাচন পর্যবেক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজশাহীর চিত্র দেশের সামগ্রিক নির্বাচনি বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে আর্থিক বৈষম্য প্রতিযোগিতাকে অসম করে তুলছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, স্ব-অর্থায়িত ও দাননির্ভর প্রার্থীদের এই বৈষম্য রাজশাহীর ভোটারদের আস্থা ও নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।