বাংলাদেশ বেতার ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ৮৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। ১৯৩৯ সালে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে যাত্রা শুরু করা এই রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যমটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিরোধের কণ্ঠ হিসেবে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল তথ্যসূত্র হিসেবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক রূপান্তরের প্রতিটি পর্বে বেতার জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
মুক্তিযুদ্ধকালে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ ছিল জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, যা সংবাদ, গান ও সাংস্কৃতিক প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিকামীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়লেও বেতার সত্য ও সংবিধানসম্মত ধারাবাহিকতার বার্তা প্রচার করে আস্থা ফিরিয়ে আনে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিকা জাতীয় স্থিতিশীলতা ও গণবিশ্বাস পুনর্গঠনে সহায়ক হয়েছে।
বর্তমান পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ বেতারের ধারাবাহিক দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করে, গণমাধ্যম কেবল সংবাদ নয়—গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় চেতনারও বাহক।