আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বন্ধের লক্ষ্যে ইসরাইল ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে সংস্থাটিকে সরিয়ে দিতে ধারাবাহিক আইনগত, প্রশাসনিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ মে ইউএনআরডব্লিউএর সদর দপ্তরে অগ্নিসংযোগের পর সংস্থাটি নিরাপত্তার কারণে কার্যক্রম স্থগিত করে। এরপর ২৮ অক্টোবর ইসরাইলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমসহ তথাকথিত সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আইন কার্যকর হলে ইউএনআরডব্লিউ সদর দপ্তর খালি করে। ৮ এপ্রিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ছয়টি স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেয়, যার ফলে প্রায় ৮০০ শিশু শিক্ষার সুযোগ হারায়। ডিসেম্বর মাসে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে জাতিসংঘের পতাকা নামিয়ে সম্পত্তি জব্দ করে, এবং নতুন সংশোধনীতে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জমি দখলের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ২০ জানুয়ারি সেনারা সদর দপ্তর ভাঙচুর শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএনআরডব্লিউকে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর আঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি দখলদারিত্ব স্থায়ী করার কৌশল।