Web Analytics

গুমসংক্রান্ত কমিশনের প্রকাশিত ২২৩ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে দমন-পীড়নকে বৈধতার ছদ্মবেশ দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে বিচারব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করতে, অবৈধ আটককে স্বাভাবিক করতে এবং জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তিকে ‘আইনি সত্য’ হিসেবে নথিভুক্ত করতে। কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিচারব্যবস্থা নাগরিক অধিকার রক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রতিবেদনে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, পদ্ধতিগত হেরফের এবং কৌশলগত মামলা দায়েরের ধারাবাহিক প্রবণতা শনাক্ত করা হয়েছে, যা গুমের ঘটনাগুলোকে আইনের আড়ালে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, তাদের জোর করে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করানো, হুমকি দেওয়া এবং আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই আদালতে হাজির করার ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটরা স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই অনুমোদন দিয়েছেন।

কমিশন বলেছে, বিচার বিভাগ সংবিধানের রক্ষক এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রধান স্তম্ভ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার রয়েছে।

Card image

Related Social Media Discussion

logo
No data found yet!