ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল এলাকায় অবস্থিত মুসা খান মসজিদ মোগল আমলের প্রথমদিকের ‘আবাসিক মাদরাসা-মসজিদ’-এর অন্যতম নিদর্শন। ধারণা করা হয়, শায়েস্তা খানের আমলে সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে এটি নির্মিত হয়েছিল। উপরের তলায় নামাজ ও পাঠদানের স্থান এবং নিচতলায় ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—এটি স্বাধীনতাকামী বীরযোদ্ধা ঈসা খানের পুত্র মুসা খান নির্মাণ করেছিলেন নাকি তার ছেলে মনোয়ার খান।
তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদে ধনুকাকৃতি খিলান, কোণার মিনার ও অলংকৃত ছাদ শায়েস্তাখানি স্থাপত্যরীতির নিদর্শন বহন করে। একসময় চারপাশে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও বর্তমানে তা নেই। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা এই স্থাপনাটি এখন বহুতল ভবনের আড়ালে আলোবঞ্চিত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। রঙ উঠে গেছে, প্লাস্টার খসে পড়ছে, নিচতলার ছাত্রাবাস অংশে পানি জমে রয়েছে।
মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে অবস্থিত মুসা খানের কবরও অবহেলায় পড়ে আছে, কোনো নামফলক বা সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। প্রতিবেদনে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ঢাকার এই ঐতিহাসিক শিক্ষা ও স্থাপত্য ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।