ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে আসনভেদে ভোটারসংখ্যায় বড় পার্থক্যের কারণে ব্যয়ের সীমায়ও দেখা দিয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরা যেখানে ৮০ লাখ টাকার বেশি খরচ করতে পারবেন, সেখানে ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীদের সীমা মাত্র ২৫ লাখ টাকা। ইসির তথ্যমতে, দেশে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ, যার মধ্যে গাজীপুর-২ এ ভোটার সবচেয়ে বেশি এবং ঝালকাঠি-১ এ সবচেয়ে কম।
বিশেষজ্ঞরা এই ব্যয়সীমার বাস্তবতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, কাগজে-কলমে সীমা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই, কারণ নির্বাচনে টাকার প্রভাব প্রবল। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, ইসির কাছে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই, ফলে অনেকে সীমা অতিক্রম করেও পার পেয়ে যান।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক কারণে আসনভেদে ভোটারসংখ্যার সমতা রাখা সম্ভব নয়। আরপিও অনুযায়ী, ব্যয়সীমা লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এবারের নির্বাচনে ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে এবং ২৫৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।