উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় পানি আনতে গিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি হামলায় আহত হয় ১৩ বছর বয়সী ওমর হালাওয়া। পরে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। ওমরের মা ইয়াসমিন হালাওয়া আল জাজিরাকে জানান, পরিবারটি ১৫ বারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং পানি সংকটের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারটি তাদের তাঁবুর পাশে ওমরের কাটা পা দাফন করে, আর ওমর প্রতিদিন সেই কবর জিয়ারত করে বলে তার পা আগেই বেহেশতে গেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ওমরের বোন লায়ানও ইসরাইলি হামলায় আহত হয় এবং তাদের আট বছর বয়সী চাচাতো ভাই নিহত হয়। ইয়াসমিন বলেন, এই ঘটনার পর তার সন্তানরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ওমর এখন সামান্য শব্দেও ভয় পায়। ইউনিসেফের মুখপাত্র কাজেম আবু খালাফ আল জাজিরাকে বলেন, গাজার শিশুরা শৈশবের আনন্দ উপভোগের পরিবর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গায় বাস করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের ইসরাইলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার শিশু এবং প্রায় ৪২ হাজার শিশু আহত হয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরেও ৯৫ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে, যা গাজার শিশুদের জন্য চলমান বিপদের ইঙ্গিত দেয়।