বাংলাদেশের নদীপথে পণ্য পরিবহনকারী লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত একটি সিন্ডিকেট খাতটি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের বিপুল পরিমাণ পাওনা আটকে রেখেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। মালিকরা দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে জাহাজ ভিড়ানো ও সারাদেশে পণ্য পরিবহনের জন্য তাদের চাঁদা দিতে হয়। তারা সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের পণ্য পরিবহন নীতিমালা বাস্তবায়ন, বকেয়া ডেমারেজ পরিশোধ এবং সিন্ডিকেট ভাঙা। দাবি না মানলে তারা সারাদেশে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) পরিচালনা নিয়ে। মালিকদের অভিযোগ, আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হাজী শফিক আহমেদ অবৈধভাবে নিজেকে কনভেনার ঘোষণা করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেট সদস্যরা জাহাজকে ভাসমান গোডাউন বানিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি ও নীতিমালা লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করলেও সিন্ডিকেটকে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই অচলাবস্থায় অনেক জাহাজ মালিক দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন এবং শত শত জাহাজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। নৌপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।