Web Analytics

বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তি এবং ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। সোমবার গুলশান এভিনিউয়ের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এসব তথ্য জানান। সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন বাতিল বা সংশোধন, সামরিকীকৃত নীতি পরিত্যাগ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০০৯-এর ১৩ ধারা বাতিল এবং সব বাহিনীকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কমিশন বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছে।

কমিশনটি ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬ অনুযায়ী গঠিত হয় এবং ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনা অনুসন্ধান করে। ৯ হাজার ১৯১টি অভিযোগের মধ্যে ৫ হাজার ৫৬৮টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আসে, যেখানে ২৫১ জন এখনও নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের ঘটনায় র‍্যাব এবং ২৩ শতাংশে পুলিশ জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে এটি রাষ্ট্রীয় সমর্থিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন ইতোমধ্যে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়ে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন অ্যান্ড রিড্রেস অ্যাক্ট, ২০২৫ প্রণয়নের সুপারিশ করেছে।

Card image

Related Social Media Discussion

logo
No data found yet!