২০২৪ সালের আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এবার ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা একে “২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন ও সহিংস দমন-পীড়নের পর হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন বলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় জানায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক হতাশার পর অনেক তরুণ, যেমন ঢাকার রফিউল আলম, এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আগ্রহী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন তরুণ, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রজন্মের অবিশ্বাস ও জবাবদিহিতার দাবি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে, ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দুটি জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
তবে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট তরুণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪.২৪ শতাংশ হওয়ায় রাজনৈতিক সংস্কারের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।