২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে, যার মূল কারণ তৈরি পোশাক খাতের মন্দা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭.৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১.০৩ শতাংশ কম। স্পেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, তবে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রেতাদের চাহিদা হ্রাস এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। নগদ প্রণোদনা ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামায় রপ্তানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সতর্ক করেছেন, নীতিগত সহায়তা ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না হলে আরও কারখানা বন্ধ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের টিকে থাকার জন্য পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৬ সালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এসব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।