ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ওমানের মুসকাটে পরোক্ষ আলোচনা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান ব্র্যাড কুপার। আরাঘচি আলোচনাকে “ভালো সূচনা” বলে বর্ণনা করেন, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ রাজধানীগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর নির্ধারণ করা হবে বলে জানান। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর বিন হামাদ আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন এবং বলেন, আলোচনায় উভয় পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে ও সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে।
এই আলোচনা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তেহরান বলেছে, তারা কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা করবে এবং যুদ্ধের হুমকি বন্ধ করতে চায়। এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড নতুন খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে, যা সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
ইরানে জনমত বিভক্ত। কেউ কেউ আশা করছেন আলোচনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমবে ও যুদ্ধ এড়ানো যাবে, অন্যরা আশঙ্কা করছেন আলোচনার ব্যর্থতা নতুন সংঘাত ডেকে আনবে। সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর দেশজুড়ে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা, যুদ্ধের আশঙ্কা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি