বাংলাদেশের জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় চার হাজার থেকে ছয় হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। কমিশনে জমা পড়া ১,৯১৩ অভিযোগের মধ্যে ১,৫৬৯টি সম্ভাব্য গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং ২৮৭ জনের মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত, রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত অপরাধ। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা গেছে, তাদের ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশই বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততার প্রমাণও উঠে এসেছে। বরিশালের বলেশ্বর নদী, বুড়িগঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জে লাশ ফেলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। ড. ইউনূস প্রতিবেদনে এটিকে নৃশংসতার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানান।
কমিশন গুম প্রতিরোধে জরুরি সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে এবং ভিকটিম পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে হাসিনার আমলে ৬০০০ গুম, তদন্তে সংস্কারের আহ্বান