বাংলাদেশের জোরপূর্বক গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশনের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত গুমকাণ্ডে জড়িত একাধিক সেনা কর্মকর্তা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট বাতিল থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে গেছেন। কমিশন ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকর্তাদের নজরদারি ও পলায়ন রোধে কোনো একক সংস্থা দায়িত্ব নেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এই ব্যর্থতা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১১ জন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করলেও পরোয়ানা কার্যকর করা যায়নি এবং তারা অল্প সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ হন। কমিশন ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফায় পলায়নের ঘটনা শনাক্ত করেছে এবং ডিজিএফআই, এমআই, এএসইউ ও এনএসআইসহ সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছে।
কমিশন সতর্ক করেছে যে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া, কিছু কর্মকর্তা ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গুমে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের পলায়নে গোয়েন্দা ব্যর্থতার ইঙ্গিত