ইরান সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছে, তবে পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, যাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা হচ্ছে, তারাই সহিংসতার জন্য দায়ী।
তবে প্রবাসী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল সরকারের এই হিসাবকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তথ্যপ্রবাহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর করা, সংবাদমাধ্যম বন্ধ রাখা এবং সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি দেখানোর কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতে, নিহতদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ, যাদের অনেককে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও বসিজ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, অভিযানটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছিল।
ইরান স্বীকার করল দুই হাজার মৃত্যু, প্রবাসী গণমাধ্যমের দাবি নিহত ১২ হাজারের বেশি