বাংলাদেশের পায়রা বন্দর, যা দেশের তৃতীয় প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, এখন রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশ্নবিদ্ধ চুক্তি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের জালে জড়িয়ে পড়েছে। ড্রেজিংয়ের ব্যয় ৫০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ করের অর্থ নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের অর্থায়ন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ বন্দরটি এখনো ভারী পলির কারণে কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার পায়রাকে উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও, বৈজ্ঞানিক সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছে। জার্মান ভূতত্ত্ববিদ ড. হারম্যান কুদরাস এবং অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদুদ্দিন মাহমুদ প্রকল্পটিকে অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও জনগণের তহবিলের অপচয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, অব্যাহত ড্রেজিং এখন স্থায়ী আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলেছে, পায়রা বন্দর বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে চালিত মেগাপ্রকল্প সংস্কৃতির প্রতীক—দৃষ্টিনন্দন হলেও অর্থনৈতিকভাবে অটেকসই, যেখানে করদাতারাই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রাজনীতি ও ব্যয়বহুল ড্রেজিংয়ে পায়রা বন্দরের অর্থনৈতিক টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।