ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে বাজারের ‘ন্যায়সংগত’ অভিযোগ ও রাষ্ট্রবিরোধী বিদ্রোহের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করেন। তিনি বাজার ব্যবসায়ীদের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে অনুগত অংশ হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, রাষ্ট্রের শত্রুরা বাজারকে ব্যবহার করে কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে তেহরানের বাজারে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। তারা খামেনির পতনের দাবিও তুলেছে।
এই অস্থিরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একসময় বিপ্লবের স্তম্ভ হিসেবে থাকা বাজার এখন শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও ধর্মীয় ফাউন্ডেশনগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত, নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারের অর্থনৈতিক প্রভাব ক্ষয় হয়েছে। আইআরজিসি এখন বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে প্রভাব বিস্তার করে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে প্রান্তিক করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক আধিপত্য কমিয়ে বাজারের আস্থা ফেরানো সম্ভব হলেও, পশ্চিমা উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এ ধরনের সংস্কারকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
খামেনির আহ্বানেও তেহরানের বাজারে বিক্ষোভ, আনুগত্যে ফাটল স্পষ্ট