সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির একজন সমাজবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশপন্থা’ নামে নতুন রাষ্ট্রদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছেন। লেখাটিতে বলা হয়েছে, নাগরিককে বাঙালি পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, একাত্তরের উত্তরাধিকার, আধুনিকতা ও গণতন্ত্রের মধ্যে কৃত্রিমভাবে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। প্রস্তাবিত দর্শনের লক্ষ্য ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে ন্যায়, মর্যাদা, জবাবদিহিতা ও বহুত্ববাদভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন।
লেখা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাইয়ের আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত সুযোগ বণ্টন, বৈষম্য, নাগরিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের অনুসন্ধানের উদ্ধৃতি দিয়ে এতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। নির্বিচার বলপ্রয়োগ, নির্যাতন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠে আসে।
বাংলাদেশপন্থার চার ভিত্তি হিসেবে ইসলামি নৈতিকতা, আধুনিক গণতন্ত্র ও সুশাসন, দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোতে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, পুলিশি জবাবদিহিতা, দলীয় গণতন্ত্র, দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনর্মিলনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের স্মৃতিকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া বৈধতার উৎসে পরিণত না করার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
গণতন্ত্র, ইসলামি নৈতিকতা ও জুলাইয়ের চেতনায় বাংলাদেশপন্থা রাষ্ট্রদর্শনের প্রস্তাব
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।