বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে বলেন, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে তাকে দুই দফা গুম করে রাখা হয়। তিনি জানান, ডিজিএফআইয়ের ‘আয়নাঘর’ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে তাকে ২০১৪ সালের নির্বাচন, আওয়ামী লীগ-ভারত সম্পর্ক এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে লেখালেখি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল শেখ হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছে এবং কথা না শুনলে গায়েব করে ফেলা হবে।
হাসিনুর জানান, ২০১১ সালের ৯ জুলাই ময়মনসিংহ সেনানিবাস থেকে তাকে তুলে নিয়ে ৪৩ দিন অন্ধকারে রাখা হয় এবং পরে মিথ্যা অভিযোগে কোর্টমার্শাল করে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট আবারও তাকে গুম করে রক্তাক্ত ও স্যাঁতসেঁতে কক্ষে নির্যাতন করা হয়। তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং মৃত্যুর হুমকির কথাও উল্লেখ করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনা ও ১২ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। অসম্পূর্ণ জবানবন্দির বাকি অংশের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাসিনুর রহমানের দাবি, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সমালোচনায় লেখার কারণে তাকে দুই দফা গুম করা হয়