টানা দশ দিনের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার পর ইরানে স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, কিছু গুগল ও মেসেজিং সেবায় অল্প সময়ের জন্য সংযোগ ফিরলেও দ্রুতই তা বন্ধ হয়ে যায়। জানুয়ারির ৮ তারিখে অর্থনৈতিক সংকটবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার বিক্ষোভ দমনের নামে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড গোপন করতে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল।
এএফপি জানায়, কর্তৃপক্ষ দাবি করছে পরিস্থিতি শান্ত, যদিও তেহরানে সাঁজোয়া যান ও নিরাপত্তা টহল দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে” মন্তব্যের পর উত্তেজনা বেড়েছে। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলাকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল ধরা হবে। সরকার জানিয়েছে, ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তবে ইরানসেলের প্রধান নির্বাহীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইরান হিউম্যান রাইটস ৩,৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
দশ দিনের পর ইরানে সাময়িক ইন্টারনেট চালু, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগ