অবসরপ্রাপ্ত কমডোর জসীম উদ্দীন ভূইয়া সতর্ক করেছেন যে মার্স্ক গ্রুপ, আরএসজিটি বা ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দিলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে পড়বে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেন, কৌশলগত সমুদ্রবন্দর কোনো সাধারণ অবকাঠামো নয়, এটি জাতীয় শক্তির চালিকাশক্তি। ইউক্রেনের সেভাস্টোপল বন্দরের উদাহরণ টেনে তিনি দেখান, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা একটি রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পরনির্ভর করে তোলে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ৯২ শতাংশেরও বেশি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। ভূইয়া বিদেশি কনসেশন মডেলকে ৩০ বছরের ফাঁদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে বন্দরটি বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত গেটওয়েতে পরিণত হতে পারে। তিনি দেশীয় ও বৈশ্বিক অপারেটরের যৌথ ‘অপারেটর মডেল’ গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে দক্ষতা বাড়ানো যায়।
তিনি সব বন্দরের চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, এনডিএ ধারা প্রত্যাখ্যান এবং রাজস্ব বা নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ণকারী চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান। নিবন্ধের উপসংহারে তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব কোনো ইজারার বিষয় নয় এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।