যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। উভয় দেশই তাকে বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখছে, যখন তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে বিবেচনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে তিনি তা স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান সফর করতে পারেন এবং মুনির ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, মুনির তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তিনি অংশ নেন, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও আলোচনার পথ খোলা রাখে। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সেনাবাহিনীতে তার শক্তিশালী অবস্থান তাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী করে তুলেছে। ইসলামাবাদ আবারও নতুন আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবিশ্বাস ও পূর্বের চুক্তি লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইরান আলোচনার পথে এগোতে রাজি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য ইতিবাচক হলেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত, হরমুজ প্রণালি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এই মতবিরোধ নিরসনে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের অধীনে বাস ও মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ভোর ৫টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়, ফলে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-প্রাগপুর, কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোরসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস ও অন্য জেলার বাসগুলো চলাচল করছে, এতে স্থানীয় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রমিক ইউনিয়ন এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল আলম জানান, মালিক গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে দুটি দাবি জানানো হলেও তা পূরণ না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের মালিকানাধীন একটি বাস মালিক গ্রুপের অধীনে থাকলেও সেটিকে অন্য মালিকদের মতো সুবিধা দেওয়া হয়নি। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি না মানায় শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা মালিকদের সমান সুযোগ-সুবিধা এবং কুষ্টিয়া-খুলনা রুটে শ্রমিক সংগঠনের একটি বাস চালানোর অনুমোদন দাবি করেছিলেন। দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় তারা আজ সকাল থেকে সব রুটে বাস বন্ধ রেখেছেন।
ক্যানভা ঘোষণা করেছে যে তারা অ্যানথ্রপিক ল্যাবসের ক্লড ডিজাইনের সঙ্গে নতুন একটি সংযুক্তি চালু করেছে, যেখানে ক্যানভার ডিজাইন ইঞ্জিন ও ভিজ্যুয়াল সুইট যুক্ত হয়েছে ক্লডের এআই ড্রাফটিং সক্ষমতার সঙ্গে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ক্লড থেকে তৈরি এআই ড্রাফট ও ধারণাগুলোকে ক্যানভায় সম্পূর্ণ সম্পাদনাযোগ্য ডিজাইনে রূপান্তর করতে পারবেন। এরপর সেগুলো কাস্টমাইজ, ব্র্যান্ড অনুযায়ী সাজানো এবং দলগতভাবে শেয়ার করা যাবে, যা ধারণা থেকে প্রকাশনা পর্যন্ত প্রক্রিয়াকে সহজ করবে। নতুন আপডেটে এইচটিএমএল ইমপোর্টিং ও আর্টিফ্যাক্ট এডিটিং সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যা ক্যানভার ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ এডিটরকে ইন্টারঅ্যাকটিভ কোড ও এআই-উৎপন্ন কনটেন্ট সমর্থন করতে সক্ষম করেছে। এর ফলে ক্যানভা প্রথম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভিজ্যুয়াল, ডকুমেন্ট ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্টকে একত্রে সম্পাদনার সুযোগ দিচ্ছে। ব্যবহারকারীরা এখন ক্লড থেকে তৈরি কোডেড কনটেন্ট সরাসরি ক্যানভায় সম্পাদনা করতে পারবেন এবং পুনরায় কোড তৈরি না করেই তা উপস্থাপনা বা ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারবেন। এই ঘোষণা ক্যানভা এআই ২.০ উন্মোচনের পর এসেছে এবং অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে দুই বছরের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে ক্যানভার লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে—ইন্টারনেটের ডিজাইন স্তর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর বহু মুসলিম নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। মুর্শিদাবাদের সরকারি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের পরিবারসহ অনেকেই বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ‘শবর ইনস্টিটিউট’ ও ‘অল্ট নিউজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯২ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে, যার ৬০ শতাংশই মুসলিম। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো নির্বাচনি এলাকায় মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সীমান্তবর্তী মালদহ ও মুর্শিদাবাদে মুসলিমদের ওপর নজরদারি, হয়রানি ও ভয়ভীতি বেড়েছে, যা কাশ্মীরের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টানছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ এখন মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিএসএফ ও বিজিবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। ফলে আগামী ১৮ এপ্রিল নির্ধারিত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই। ১৬ এপ্রিল আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে একই দিনে বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মাসের জন্য পরীক্ষা ও ২৫ মার্চের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন। আদালত শিক্ষাসচিব ও এনটিআরসিএকে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেন কেন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন এনটিআরসিএ জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত পরিবর্তন করে ১৮ বছর করে, ফলে অনেক আবেদনকারী অযোগ্য হয়ে পড়েন। এ কারণে ১১৪ জন আবেদনকারী সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন।
মিয়ানমার সরকার নববর্ষের সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়েছে। শুক্রবার তার আইনজীবী রয়টার্সকে জানান, সু চির সাজা মোট মেয়াদের এক-ষষ্ঠাংশ হ্রাস করা হয়েছে। তবে নোবেলজয়ী এই নেত্রী বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনি জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সু চি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। সাজার আংশিক হ্রাস মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনাকে ঘিরে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দুই পক্ষকে মুখোমুখি আলোচনায় বসাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদিকে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো নাজুক অবস্থায় থাকলেও তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা এগিয়ে নিতে আশাবাদী অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং দুই দিক থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছেন। তাদের আশা, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক কবীর হোসেন জানিয়েছেন, সরকার এখন ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবে, যা এপ্রিলের শেষ দিকে হতে পারে। পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা এখন সমাধান হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, অগ্নিনিরাপত্তাসহ সব প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে এবং সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।
স্পেনের বামপন্থি সরকারের উদ্যোগে নথিহীন অভিবাসীদের বৈধ করার গণপ্রকল্প শুরু হয়েছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে একদিকে আশা, অন্যদিকে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং আবেদন জমা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মাদ্রিদসহ বড় শহরগুলোতে দূতাবাসের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাসের টানা বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে এবং স্পেন বা নিজ দেশে কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকা চলবে না। পরিবহন কার্ড, সুপারমার্কেট লয়্যালটি কার্ড, রেমিট্যান্স রসিদ বা হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগ লাতিন আমেরিকার নাগরিক, এই প্রকল্পের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাইস জানিয়েছেন, প্রশাসনিক চাপ সামলাতে ৪৫০টি অফিস বাড়তি সময় খোলা রাখা হয়েছে এবং ৫৫০ জন অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন শত শত কল পাচ্ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে বিপুল আবেদন প্রক্রিয়া ধীরগতি আনতে পারে।
এক ইসরাইলি বিশ্লেষক বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের পরিবর্তে তুরস্ক ও পাকিস্তান ইসরাইলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসতে পারে। ইসরাইলের দৈনিক মারিভে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি বলেন, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই পরিবর্তন ইসরাইলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গোলানি উল্লেখ করেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয়ই জনবহুল, সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ভালো, যা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধ ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইসরাইল-তুরস্ক সম্পর্কের উত্তেজনা বেড়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ইসরাইলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত, এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ইসরাইলকে মানবতার জন্য অভিশাপ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যদিও পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। গোলানি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে ইসরাইলকে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ উভয় বিকল্পই সমানভাবে কঠিন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পরমাণু ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। আন্দ্রাবি বলেন, তেহরান বা আলোচনায় জড়িত পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান কোনো মন্তব্য করবে না এবং আলোচনার তথ্য গোপন রাখা জরুরি। তিনি গণমাধ্যমকে আলোচনাকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। আন্দ্রাবি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় কারা অংশ নেবেন এবং প্রতিনিধিদল কত বড় হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোই নির্ধারণ করবে। আলোচনার সময়সূচি চূড়ান্ত হলে তা ঘোষণা করা হবে। এর আগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘সাহসী’ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, পাকিস্তান লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে এবং ইসলামাবাদ অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের উদ্যোগে সমর্থন দিয়ে যাবে। বর্তমানে তিনি আঞ্চলিক সফরে রয়েছেন; বৃহস্পতিবার তিনি কাতারে পৌঁছেছেন এবং আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেছেন এবং পরবর্তী গন্তব্য তুরস্ক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ইতোমধ্যে প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করেছে, এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার দাবি, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে, যা আলোচনার বড় বাধা ছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল, চুক্তি না হলে বিমান হামলা পুনরায় শুরু এবং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বহাল রাখা হবে। এদিকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে লেবানন থেকে রকেট হামলার পর ইসরাইল পাল্টা আক্রমণ চালানোর কথা জানিয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানও পৃথক এক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত সপ্তাহে গালিবাফের নেতৃত্বে প্রথম দফা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলায় এক শিশুসহ চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নয় বছর বয়সী সালেহ বদউই গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। একই দিনে বেইত লাহিয়ায় একটি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় দুই ভাই নিহত হন এবং খান ইউনিসের কাছে মোহসিন ওদা আল-দাব্বারি নামের এক ব্যক্তি ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারান। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বেইত লাহিয়ায় দুইজন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছে, যারা ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সেনাবাহিনী আরও জানায়, দক্ষিণ গাজায় নিহত শিশু ও অপর ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ শুরুর দুই বছরের বেশি সময় পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে অন্তত ৭৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী পাঁচজন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে, যদিও গণমাধ্যমের সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।