কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। শুক্রবার সকালে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত, তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সবাই কৃষিবান্ধব নীতিতে বিশ্বাসী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কৃষকদের কল্যাণে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার ও ‘কৃষি কার্ড’ চালু করেছেন, যা সরকারের ৩১ দফা ইশতেহারের অংশ। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করতে এবং কৃষি সুপারভাইজারের পরামর্শ নিতে। কৃষি বিভাগ জানায়, কুমিল্লায় ১ হাজার ৪৫৮ জন কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের প্রি-পাইলটিং কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে এবং সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি সহজে প্রদান করা যাবে।
স্বয়ংক্রিয় এআই কোডিং এজেন্ট তৈরি করা স্টার্টআপ ফ্যাক্টরি ১.৫ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে ১৫০ মিলিয়ন ডলার তোলার আলোচনায় রয়েছে। এই অর্থায়ন রাউন্ডের নেতৃত্ব দেবে খোসলা ভেঞ্চারস, এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট কিথ রাবোইস বোর্ডে যোগ দেবেন। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সিকোইয়া ক্যাপিটাল, ইনসাইট পার্টনার্স এবং ব্ল্যাকস্টোন। ফ্যাক্টরির ড্রয়েড নামের এজেন্টগুলো ওপেনএআই-এর জিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং চীনের ডিপসিক মডেলের মধ্যে কাজের জটিলতা ও গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে। কোম্পানির এই নমনীয়তা মর্গান স্ট্যানলি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং এবং পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের মতো বড় গ্রাহকদের আকর্ষণ করেছে। ফ্যাক্টরির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাতান গ্রিনবার্গ জানান, বিভিন্ন মডেলের মধ্যে গতিশীলভাবে পরিবর্তন করার ক্ষমতা বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের পরিষেবা বিঘ্নের সময় খুব কার্যকর হয়েছে। ফ্যাক্টরি নিজেকে কর্পোরেট পর্যায়ের এআই এজেন্ট ডেভেলপার হিসেবে স্থাপন করছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী কার্সর মূলত ব্যক্তিগত ডেভেলপারদের জন্য কাজ করে। গ্রিনবার্গ ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির পিএইচডি প্রোগ্রাম ছেড়ে সিকোইয়া বিনিয়োগকারী শন ম্যাগুয়ারের উৎসাহে ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন কোম্পানিটি কার্সর, কগনিশন এবং বড় এআই ল্যাবগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আর কখনোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান এই প্রণালি স্থায়ীভাবে বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং এটি আর বিশ্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই পথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি সত্য হলে এটি ইরানের অবস্থানে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি চুক্তি সত্য হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। মের্জ ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, এটি স্থায়ী, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, হেজবুল্লাহ ও ইসরাইলের জন্যও এখন দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। জার্মানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের জন্য জাতিসংঘ ও জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এই মিশনে বিশেষভাবে বাঞ্ছনীয় এবং জার্মানির সহায়তা সামরিক সহযোগিতা ও মাইন অপসারণের মতো কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আসা ঘোষণাগুলো যাচাই করছে। সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আইএমও নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম মেনে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশেরই এই আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ করার অধিকার নেই। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পৃথকভাবে ঘোষণা দিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, বিশেষ করে লেবাননে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়। তেহরান জানিয়েছে, এই সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। আইএমও প্রধান আরও জানান, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং মানবিক করিডোর চালু করা তাদের অগ্রাধিকার। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানান, যাতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সমুদ্রপথে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই রুট পুনরায় সচল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাতের আকাশ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাজবে এক বিশেষ মহাজাগতিক দৃশ্যে। এই সময়ে দেখা যাবে লাইরিড উল্কাপাত এবং গ্রহগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রতিবছর পৃথিবী যখন থ্যাচার নামের ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ অতিক্রম করে, তখনই এই উল্কাপাত দেখা যায়। ২২ এপ্রিল রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত সময়টি উল্কাপাত দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। লাইরিড উল্কাগুলো সাধারণত উজ্জ্বল হয় এবং অনেক সময় দীর্ঘ আলোর রেখা রেখে যায়। এ সময় পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ তার উজ্জ্বলতা বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে দিগন্তের নিচে নামবে, আর মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা সন্ধ্যার আকাশে স্পষ্ট দেখা যাবে। এপ্রিলের শেষ দিকে সূর্যোদয়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে পুব আকাশে শনি গ্রহ উঁচুতে থাকবে এবং তার কাছেই থাকবে নেপচুন, যা দেখতে শক্তিশালী টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং তাদের লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধবিরতি হলে তা অবশ্যই লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। খাতিবজাদেহ আরও বলেন, এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ঐতিহাসিকভাবে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত, যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে অবস্থিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এ অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইরান ঘোষণা করেছে যে লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পুরো সময় এই অনুমতি কার্যকর থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে তারা নিরাপদ নৌ চলাচলে সহযোগিতা করবে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এই ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লেবানিজ নাগরিক বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর এবং দক্ষিণ লেবাননের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরতে শুরু করেছেন। শুক্রবার ভোরে সতর্ক উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে তাদের এই প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। বৈরুতের উত্তরের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা যায়, কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষ গাড়িতে করে রাজধানীর দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ফিরছিলেন। যুদ্ধের কারণে ঘরছাড়া হওয়ার পর অনেকেই বিজয়ের চিহ্ন দেখিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। মানুষের মধ্যে সতর্কতা বিরাজ করছে। যুদ্ধবিরতির ফলে আপাতত সংঘাত থেমে গেলেও, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে লেবাননের মানুষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে তৎকালীন বিডিআর ও ভারতের বিএসএফের সংঘর্ষের ২৫তম বার্ষিকী আগামীকাল পালিত হবে। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল বিএসএফ বড়াইবাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে হামলা চালায়, যা প্রায় ৪২ ঘণ্টা স্থায়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে তিন বিডিআর সদস্য শহীদ হন, ছয়জন সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৭৯টি বাড়ি ধ্বংস হয়। অপরদিকে ১৬ বিএসএফ সদস্য নিহত হন এবং দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সহায়তায় দিনটি ‘বড়াইবাড়ি দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, তবে ২৫ বছরেও এটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। তৎকালীন সংসদ সদস্য রুহুল আমিন ও স্থানীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিডিআরের সঙ্গে থেকে প্রতিরোধে অংশ নেন। শহীদ তিন বিডিআর সদস্যের স্মরণে ক্যাম্পের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বড়াইবাড়ি গ্রামকে ‘বীরগ্রাম’ ঘোষণা এবং বড়াইবাড়ি দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক, যাতে তাদের ত্যাগের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সাক্ষাৎকার শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ৩টায় গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে শুরু হয়। প্রথম দিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আগামীকাল একই সময়ে বাকি পাঁচ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দীন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সাক্ষাৎকার শুরুর আগে রিজভী বলেন, গত ১৫–১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা মূল্যায়িত হবে। তিনি আরও জানান, সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার দক্ষতা, আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সবদিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তান রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শহরজুড়ে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত বাহিনী যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে, প্রবেশ ও বাহির পথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোতেও চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এই ‘ঐতিহাসিক’ আয়োজনে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরমাণু ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং তেহরান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত কূটনীতিকরা নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। ইসলামাবাদ বিশ্বনেতাদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর এই প্রস্তুতি শুরু হয়, যেখানে তিনি সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম দফার বৈঠক ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সতর্ক করেছে যে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে তাদের যোদ্ধারা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। হিজবুল্লাহর মালিকানাধীন আল-মানার টিভিতে প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে যোদ্ধারা ট্রিগারে আঙুল রাখবেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে ১০ দিনের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। এই ঘোষণার পরপরই হিজবুল্লাহর সতর্কবার্তা আসে, যা ইসরাইলের প্রতি তাদের অবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়। লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে দীর্ঘ উত্তেজনার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দেয় যে, লঙ্ঘন ঘটলে সংঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও ইসরাইল দখল করা এলাকা ছাড়বে না। তিনি জানিয়েছেন, লেবাননে যেসব স্থানে ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান নিয়েছে, সেগুলোতে তাদের উপস্থিতি বজায় থাকবে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হ্যারেৎজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাটজ বলেন, সামরিক বা কূটনৈতিক যেকোনো উপায়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করাই ইসরাইলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং লেবানন সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপকে তিনি বড় ধরনের কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, ইসরাইলি বাহিনী দখল করা এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং হিজবুল্লাহর হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সেনারা পিছু হটবে না। আল-জাজিরাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, শক্তিশালী কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলের হিজবুল্লাহ বা লেবাননের অন্য কোনো ফ্রন্টে আক্রমণ করার অধিকার নেই। পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, পাকিস্তান ইরানের মর্যাদা ও গর্ব অক্ষুণ্ণ রেখে যুদ্ধবিরতি অর্জনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি এবং এই অঞ্চলে অস্থিরতা বা সন্ত্রাসবাদও চায় না। তেহরান সবসময় শান্তির পথে চলে, তবে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আপসহীন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান তার নীতি ও অবস্থানে অটল থাকবে এবং অন্য পক্ষকেও এটি বুঝতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেন, সামরিক কমান্ডার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের হত্যার মাধ্যমে তারা ইরান ও পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।