সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনাকে সামনে রেখে পাকিস্তান জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে পুরো এলাকায় আংশিক লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে। এসব বিমানে অগ্রবর্তী দল, নিরাপত্তা কর্মী ও সাঁজোয়া যান আনা হয়েছে এবং আরও বিমান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস সম্প্রতি তিন দিনের সফরে তেহরান গিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমন আলোচনার সম্ভাবনাকে জোরদার করছে, তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও দুই পক্ষের কঠোর বক্তব্য আলোচনার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তের ওপর।
বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের অনুসারীরা রবিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের শোডাউন করেন। তারা পলাতক এস আলমের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফেরানো এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকসহ আরও পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সাবেক কর্মীরাও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া আইনি সংশোধনের মাধ্যমে আগের মালিকদের ব্যাংকে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই এস আলমপন্থীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাদের শোডাউনের পর ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আমানতকারীরা একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন। তারা এস আলমের গ্রেপ্তার, পাচার করা অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংকে তার পুনরাগমন প্রতিহতের ঘোষণা দেন। ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল আদালতের আদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। তারা এই কর্মসূচিকে ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও লেবাননের আগ্রাসনের মধ্যে অন্তত ১৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬৯০ জন আহত হয়েছেন। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার প্রকাশিত সামরিক তথ্যে দেখা গেছে, আহতদের মধ্যে ৯৬ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ৪২ জন আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ১৪৯ জন সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিস্ফোরক হামলার শিকার। তবে এসব হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি। ইসরাইলি গণমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” এলাকায় পৃথক দুটি বিস্ফোরণে দুই সেনা নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। এই লাইনটি লেবাননের ভেতরে ৪ থেকে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি অনানুষ্ঠানিক সীমারেখা। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে সীমান্ত এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকায় ইসরাইলি বাহিনী ক্রমাগত ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত রেখে অন্যদের জন্য বিনামূল্যে নিরাপত্তা আশা করা যায় না। তিনি বলেন, পছন্দ স্পষ্ট—সবার জন্য মুক্ত তেলবাজার নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো সবাইকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। আরেফ আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানির দামের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের স্থায়ী অবসানের ওপর। তার এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান তার তেল রপ্তানির স্বাধীনতাকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে।
ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এই হামলার পর রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন যে তারা কোনো অবরোধ মেনে নেবেন না এবং তাদের পূর্ববর্তী নীতি অনুযায়ীই কাজ করবেন। আহমাদিয়ান আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মার্কিন অবরোধকে যুদ্ধের সমতুল্য বলে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজে হামলা বা জব্দের পদক্ষেপ চালিয়ে যায়, তবে ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তার মতে, ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইলেও বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা ও পশ্চিম তীরে অস্থিরতার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
ইরান স্বীকার করেছে যে ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি জব্দ করেছে। আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে ইরানের হাজরাত খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর জানায়, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালিয়ে অচল করে দেয় এবং পরে ডেকে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। তেহরান এই ঘটনাকে সামুদ্রিক জলদস্যুতা ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে অভিযোগ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই এই সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধ নেবে। এর মাধ্যমে ইরান প্রথমবারের মতো জাহাজ জব্দের ঘটনাটি সরাসরি স্বীকার করল এবং পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল। খবরটি আলজাজিরা ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই স্বীকারোক্তি ও হুঁশিয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে, যদিও ইরানের প্রতিক্রিয়ার সময় বা ধরন সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালান, তবে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প কার্যত ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। রথ ব্যাখ্যা করেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা আইনবিরুদ্ধ। তিনি আরও বলেন, এসব স্থাপনা দ্বৈত-ব্যবহারের হলেও, যদি হামলায় বেসামরিক ক্ষতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা করা যাবে না। রথের মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মানা মার্কিন সরকার ও বিশ্বের দায়িত্ব। অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এসব অবকাঠামো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে। আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, আলোচনার সময় ও যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং অত্যাচারী ও অযৌক্তিক আচরণ করেছে। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত নৌ অবরোধ উস্কানিমূলক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড, যা যুদ্ধবিরতি সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্য ও এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে অবিশ্বাস বাড়াচ্ছে এবং এটি প্রমাণ করছে যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাইছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে ইরান তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।
ইরানের রাষ্ট্র-সম্পর্কিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের মার্কিন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় অবস্থান করে জাহাজটিকে ইরানের জলসীমায় ফিরিয়ে নিতে গুলি চালায়। তবে আইআরজিসি নৌবাহিনীর দ্রুত উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়ার ফলে মার্কিন বাহিনী পিছু হটে এবং এলাকা ত্যাগ করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে ইরানের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা দেখাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। আলজাজিরা ইরানি সূত্রের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে। ঘটনার সময়, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইসরাইল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রোববার দক্ষিণ তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জোটকে ঘিরে অঞ্চলটির মুসলিম দেশগুলো উদ্বিগ্ন। খবরটি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। ফিদান উল্লেখ করেন, ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গ্রিস এই ত্রিপক্ষীয় জোটে যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জোটের উদ্যোগটি তুরস্কের বিরুদ্ধে নয়—এমন কোনো আশ্বাস আগে বা পরে কেউ দেয়নি। তিনি আরও জানান, গত বছর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে নেতানিয়াহু বলেন, যারা মনে করে তারা আবার সাম্রাজ্য বা ইসরায়েলের ভূমির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তাদের সেই ধারণা ভুলে যেতে হবে—যা তুরস্ককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর সারাদেশে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মো. সাবেত আলী জানান, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপিসির তথ্যমতে, ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৮ টন জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৮২২ টন, কেরোসিন ২ হাজার ৩৭৯ টন, পেট্রোল ২২ হাজার ৫৫৫ টন, অকটেন ২০ হাজার ৪১২ টন, ফার্নেস অয়েল ৩০ হাজার ৯৬৫ টন এবং জেট ফুয়েল ৩০ হাজার ৫৫ টন। গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৯৬ টন। সরকার ১৮ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর এই সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন দামে ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ আটক করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইউএসএস স্প্রুয়ান্স নামের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেয়, কিন্তু ইরানি ক্রুরা তা উপেক্ষা করে। পরে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে সেটিকে থামিয়ে দেয় এবং মেরিন সদস্যরা এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তুসকা’ জাহাজটি পূর্বের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে এবং এতে কী রয়েছে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। খবরটি আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে রোববার উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ৪৫ মিনিটের এই আলোচনায় শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানান। তবে পাকিস্তানের বিবৃতিতে পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে, কিন্তু ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, যদিও কিছু সূত্র জানিয়েছিল যে একটি ইরানি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। ফলে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি এবং আলোচনার সময় বা নিশ্চিতকরণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার রাত ১০টা ১০ মিনিটে চায়না এয়ারের একটি ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, চীনা সরকারের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রওনা হওয়ার আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের রাষ্ট্রদূত তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বিদায় জানান। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী। এর আগে, ১৫ এপ্রিল চীনা সরকারের আমন্ত্রণে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল চীনে যায়। ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ। তার সঙ্গে ছিলেন দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। এই সফরগুলো বিএনপি ও চীনা সরকারের মধ্যে চলমান যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুলের সফরের সময়কাল ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বৈঠক হওয়ার খবরটি সত্য নয়। সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি তুলছে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। আইআরএনএ আরও উল্লেখ করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও হুমকিমূলক বক্তব্য এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আইআরএনএ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফলপ্রসূ আলোচনার কোনো উজ্জ্বল সম্ভাবনা নেই। প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি। এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট দুটি ইরানি গণমাধ্যমও সম্ভাব্য বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এখনও পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল ইরানি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান পরিষ্কার করেননি, ফলে আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।