ভারত সরকার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, কারণ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন যেখানে ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘অনুচিত’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে রক্ষণশীল পডকাস্ট হোস্ট মাইকেল স্যাভেজের একটি বক্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সমালোচনা করা হয় এবং ভারতীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এসব মন্তব্য তথ্যহীন এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত প্রতিফলন নয়, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ‘চরম অপমানজনক ও ভারত-বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন একে ‘বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেছে, আর কংগ্রেস সদস্য অমি বেরা একে ‘আপত্তিকর ও অজ্ঞতাসূচক’ বলেছেন। আগামী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগে এই বিতর্ক দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে, যা ইতিমধ্যেই তেল আমদানি ও শুল্ক ইস্যুতে জটিল অবস্থায় ছিল।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান জাতীয় সংকট নিরসনের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণসমাবেশে সংগঠনটির আমির মাওলানা মামুনুল হক এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মে, জুন ও জুলাই মাসে দেশের প্রতিটি জেলায় নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় একটি গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মামুনুল হক। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামপন্থী নেতাদের উপস্থিতি যৌথভাবে গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলার আহ্বানকে প্রতিফলিত করে।
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গণ নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সন্ত্রাসবিরোধী পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শিক্ষাঙ্গণের পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসীদের না বলার আহ্বান জানান। মুনতাছির আহমাদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতির বিবেক গঠনের কারখানা হলেও বর্তমানে অস্ত্র, ভয়ভীতি ও সহিংসতার সংস্কৃতি জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র রাজনীতির আড়ালে কিছু গোষ্ঠী ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসের ঘাঁটিতে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষাঙ্গণকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আপসহীন অবস্থানে থাকবে এবং প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী রোববার দেশব্যাপী সকল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতারা সকল ছাত্রসংগঠনকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মিয়ানমার সরকার নয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের ৬০টি টাউনশিপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, চলমান সশস্ত্র সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই পদক্ষেপ নেয়। ঘোষণার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যিনি পরে আঞ্চলিক কমান্ডারদের কাছে এসব ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কমান্ডাররা অধস্তন কর্মকর্তাদের মধ্যেও দায়িত্ব বণ্টন করতে পারবেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট টাউনশিপগুলো কার্যত সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যেখানে প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব বেড়েছে। এখন বেসামরিক নাগরিকদের বিচার সামরিক ট্রাইব্যুনালে হতে পারে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব। এর আগে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ১০০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেন এবং ২০১৫ সালের ন্যাশনওয়াইড সিজফায়ার এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষরকারী ও অসাক্ষরকারী উভয় পক্ষকে আলোচনায় আহ্বান জানান।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর শুক্রবার রাতে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৪টা থেকে বয়লারে ফায়ারিং কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাত ১০টার দিকে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। গত বুধবার রাতে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। তবে ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ হয়েছিল। ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণ অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামলে ফল ভালো হবে না। শুক্রবার বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু সরকার ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের অজুহাতে বিরোধী মত বাদ দিচ্ছে। তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং এবং চাঁদাবাজির প্রসার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই অনুযায়ী জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করতে হবে, নইলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। মাত্র ৫০ দিনের সংঘাতে বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের তেল উৎপাদন হারিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আর্থিক ক্ষতি এস্তোনিয়া বা লাটভিয়ার মতো একটি দেশের পুরো অর্থনীতির সমান। সংকট শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, ইউরোপে শিল্পকারখানায় রেশনিং শুরু হয়েছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতেও সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষক ও রয়টার্সের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত জ্বালানি বাজার থেকে হারিয়ে গেছে, যা আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সরবরাহ ধাক্কা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জোহানেস রবল জানান, ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকায় রাজস্ব ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি বাজারের এই ধাক্কা সামলাতে মাসের পর মাস, এমনকি কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হোসেন ও মহাসচিব হিসেবে ইয়ারুল ইসলাম পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির চতুর্থ জাতীয় কাউন্সিলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং যুগ্ম মহাসচিব পদে মিজানুর রহমান, জিয়াউর রশিদ ও এম তাহের উদ্দিন নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিতদের শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সভায় কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, সরকারের ঋণের বোঝা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে গঠিত ঐকমত্য কমিশনে বাংলাদেশ কংগ্রেসকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি খাল খনন প্রকল্পে অর্থ লুটপাটের আশঙ্কা প্রকাশ করে তা বন্ধের আহ্বান জানান। নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করার অঙ্গীকার করেন। কাউন্সিলে জাগপা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফরে গঙ্গা নদীতে নৌকাভ্রমণ করেন। সফরের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, মোদির উচিত যমুনা নদীতেও একবার ডুব দেওয়া। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হাওড়ার এক জনসভায় মমতা বলেন, বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার বলেই মোদি সেখানে নৌকাভ্রমণ করেছেন, কিন্তু দিল্লির দূষিত যমুনা নদীতে একবার ডুব দিয়ে দেখা উচিত। তিনি গঙ্গা ও যমুনার তুলনা টেনে বলেন, গঙ্গা পরিষ্কার হলেও দিল্লির যমুনা এখনো দূষিত, অথচ মোদি বাংলায় এসে গঙ্গায় ভ্রমণ করছেন। দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ বহুদিনের সমস্যা, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সামনে রেখে মোদির গঙ্গাভ্রমণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত বারাণসী-কলকাতা করিডর ঘোষণার পর।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গাদ্দারি করলে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না। শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক গণসমাবেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির জন্ম হয়েছে, তাই এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা মানে নিজের জন্মদাত্রী মাকে অস্বীকার করা। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব ১৯০৫, ১৯২১, ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০১৩ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক চেতনার ধারাবাহিকতা বহন করে। মামুনুল হক সতর্ক করে বলেন, যদি বিএনপি গণভোটের সঙ্গে গাদ্দারি করে, তাহলে তারা বিশ্বের একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে পরিচিত হবে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান নৈরাজ্য ও অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এ অবস্থার দায় সরকারকেই নিতে হবে। সমাবেশে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এলডিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় সংসদ সাংবাদিক মারধরের ঘটনার পর চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহবাগ থানার নিকটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ ওঠে। সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা রয়েছেন। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংগঠনটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দায় নির্ধারণে পদক্ষেপ নিতে পারে।
ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াশিংটন চুক্তিতে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে স্থগিত বা বহিষ্কার করার বিধান নেই। এই ব্যাখ্যা আসে এমন প্রতিবেদনের পর, যেখানে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এমন কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়া মিত্রদের বিরুদ্ধে নেওয়া যেতে পারে, যার মধ্যে স্পেনও ছিল। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এসব প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, মাদ্রিদ তার নীতি অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র নয়, বরং আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে। সাইপ্রাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে তিনি জানান, স্পেন মিত্রদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে স্পেন। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনসহ ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন এবং জোটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, দেশের লক্ষ্য হলো ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে সারাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। কুয়েতি সংবাদপত্র ‘আল-আনবা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা পরে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত হয়। সালাম জানান, তার সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহযোগিতা অর্জনের জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও কঠিন হলেও লেবাননে আশার আলো দেখা যাচ্ছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে আরব দেশগুলোর সহায়তা নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ, মাস্কাট ও মস্কো সফরের অংশ হিসেবে এই সফর হতে পারে বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য সফরের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘হামলার জন্য প্রস্তুত’ অবস্থায় রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’। উভয় দেশই একে অপরের জাহাজ জব্দ করার নীতি গ্রহণ করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ’ কৌশল। মার্কিন বাহিনী ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজে বিঘ্ন ঘটানোর দাবি করেছে, অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। দুই দেশই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের বিজয় দাবি করছে। এখন দেখা যাবে, আরাগচির সম্ভাব্য সফর কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দেয় কিনা, নাকি সংঘাত আরও তীব্র হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেন শুক্রবার যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে, যেখানে উভয় দেশই ১৯৩ জন করে মোট ৩৮৬ সৈন্যকে মুক্তি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বন্দি বিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও যুক্তরাষ্ট্র মানবিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। মুক্তিপ্রাপ্ত রুশ সেনাদের বেলারুশে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং পরে তাদের রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ১৯৩ জন ইউক্রেনীয় যোদ্ধা বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে দেশে ফিরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, জাতীয় পুলিশ ও স্টেট স্পেশাল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আহত এবং কারও বিরুদ্ধে রাশিয়ায় ফৌজদারি মামলা ছিল। এর আগে গত ১১ এপ্রিল মস্কো ও কিয়েভ ১৭৫ জন করে বন্দি বিনিময় করেছিল, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান মানবিক আলোচনার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।