ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির বিভিন্ন মহল যুদ্ধবিরতি বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছে, আর সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে কার্যত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, যদিও দেশের অন্যান্য অংশে তা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ইসরাইলের জনগণের একটি বড় অংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে। জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি সেনাদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। প্রতিদিনই হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক কেবলচালিত ড্রোন হামলায় সেনারা আহত হচ্ছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, এসব ড্রোন মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো নেই। তাই লেবাননের অভ্যন্তরে আরও গভীরে প্রবেশ করে ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরান ও চীনের মধ্যে তেল বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানি পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একজন ব্যক্তি এবং একটি জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে চীনের তেল টার্মিনাল অপারেটর চিংদাও হাইয়ে অয়েল টার্মিনাল কোং লিমিটেড, যাকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাইয়ে তেহরানের কাছে বিপুল অর্থ প্রবাহে সহায়তা করেছে এবং নিষিদ্ধ জাহাজের সঙ্গে অবৈধ জাহাজ-থেকে-জাহাজ তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল নিয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, বেইজিং একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন বিচারিক ক্ষমতার বিরোধিতা করে। ইরানের তেল খাতে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ট্রাম্প প্রশাসনের সময়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চীনের কয়েকটি তেল শোধনাগার ও হংকংভিত্তিক শিপিং কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জার্মানিতে মোতায়েন থাকা প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের মধ্যেই ন্যাটো মিত্র জার্মানির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবিনিময়ের পর ট্রাম্প দেশটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। মের্ৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান সরকার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের জের ধরেই ওয়াশিংটন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় ইসলামি রেভলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ১৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ইরানের সামরিক বাহিনী ও ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার (১ মার্চ) এই দুর্ঘটনা ঘটে। শত্রুপক্ষের ক্লাস্টার বোমা ও আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত মাইন হামলার পর প্রায় ১,২০০ হেক্টর কৃষিজমি বিস্ফোরক অস্ত্রের কারণে দূষিত হয়ে পড়ে। আইআরজিসির বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছিলেন এবং এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইরান পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘ সময় বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ২০০৮ সালের ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র সংক্রান্ত কনভেনশনে যোগ দেয়নি, যা এসব অস্ত্রের ব্যবহার, উৎপাদন, মজুত ও স্থানান্তর নিষিদ্ধ করে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ ও সিডন এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নাবাতিহের হাবুশ শহরে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে, যেখানে এক শিশু ও দুই নারীসহ আটজন নিহত হন। ওই হামলায় আরও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সিডনের জরাইরিয়াহ শহরে পৃথক এক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। ওই হামলায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আল–জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হামলার সময় বা কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি এবং ইসরাইলি পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল অভিযোগ করেছে যে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জাল ভোট ও নানা অনিয়মের কারণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে অসামঞ্জস্য থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জাল ভোট প্রদান হয়েছে, যা কমিশন প্রতিরোধ করতে পারেনি। তিনি জানান, কিছু ভোটার ভোট দিতে এসে দেখেন তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন বুথে ভোট টেম্পারিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী উভয় প্যানেলের সমঝোতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সমান সদস্য নিয়ে কমিশন গঠনের নিয়ম এবার অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রাধান্য রেখে কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোটার যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে না করা, ভোটার স্লিপ ছাড়াই ব্যালট প্রদান এবং আগেই ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের কারণে আইনজীবীদের কাছে এই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলাকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করা ভুল ছিল, আর ৩৬ শতাংশ মনে করেন এটি সঠিক পদক্ষেপ ছিল। জরিপে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথভাবে শুরু করা এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ গাড়ি চালানো কমিয়েছেন, আর ৪২ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ কমিয়েছেন। কম আয়ের (বার্ষিক ৫০ হাজার ডলারের কম) মানুষের মধ্যে এই হার যথাক্রমে ৫৬ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ। জরিপে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে গেছে, কারণ অনেক ভোটার মনে করছেন ইরান হামলা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের পূর্বের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার মানুষ “মে ডে স্ট্রং” কর্মসূচির আওতায় বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক বয়কটে অংশ নেন। “কোনো স্কুল নয়, কোনো কাজ নয়, কোনো কেনাকাটা নয়”—এই আহ্বানে দেশজুড়ে ওয়াকআউট, মিছিল, সমাবেশ ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্কে অ্যামাজন কর্মী, টিমস্টার্স ইউনিয়ন সদস্য ও স্থানীয় রাজনীতিবিদরা অ্যামাজনের কর্পোরেট অফিস পর্যন্ত মিছিল করে কোম্পানির আইসিই ও ডিএইচএসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। ওয়াশিংটন ডিসিতে “ফ্রি ডিসি” সংগঠনের কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে “শ্রমিক বনাম ধনকুবের” ও “যুদ্ধ নয়, স্বাস্থ্যসেবা চাই” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। মিনিয়াপোলিসে “সানরাইজ মুভমেন্ট”-এর ছয়জন কর্মী সেতু অবরোধের কারণে গ্রেপ্তার হন, আর পোর্টল্যান্ডে একই সংগঠনের সদস্যরা একটি হোটেলে অবস্থান নেন। শ্রমিক সংগঠন, অভিবাসী অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও ছাত্র আন্দোলনকারীরা অভিবাসন নীতি পরিবর্তন, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির দাবি জানায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন। কয়েকটি স্কুল জেলা ছুটি ঘোষণা করে এবং কিছু ইউনিয়ন ধর্মঘট শুরু করে। আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক সপ্তাহের জন্য জাপান সফরে যাচ্ছেন। শনিবার (২ মে) রাত তিনটার ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। শুক্রবার রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সফর শেষে আগামী ৯ মে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সফরের উদ্দেশ্য বা কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ সফরটি বিরোধীদলীয় নেতার একটি আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হলেও জাপানে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠক বা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সমাবেশে নিহতদের স্মরণে আগামী ৫ মে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ওই দিন দেশের সব শাখায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের হোসেন বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দেশের সব শাখাকে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়াকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সব ধর্মই মানবকল্যাণ, শান্তি ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তিনি হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘাত পরিহার করে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, দেশের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। যারা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা আইন’ অনুসরণের দাবি তুলছেন, তাদের তিনি দেশপ্রেমিক নন বলে মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশে সেনা পাঠালে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতে অনেক প্রেসিডেন্ট এই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়নি। তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই আইনকে সংবিধানবিরোধী মনে করেন। ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অতিরিক্ত সময় এসেছে, যা তিনি বড় ধরনের বিজয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন। তার এই মন্তব্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, উন্নত যুদ্ধবিমান ও রাডার সিস্টেমসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২.৩ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার। এই তথ্য আলজাজিরা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব, ইরান এবং হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে এসব সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি, বিশেষ করে উদ্ধার অভিযানের (CSAR) সময় ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। সিএসআইএস জানিয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য এক বছর বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় চালু হয়েছে। শুক্রবার সকালে মিয়ানমারের মংডু এলাকার আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে কাঠবোঝাই একটি নৌকা টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিতে ভিড়েছে। স্থলবন্দর পরিচালনাকারী ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেসার্স এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক সিআইপি জানান, একটি কার্গোবোট বন্দরে নোঙর করেছে এবং আদা, শুটকি, সুপারি ইত্যাদি পণ্যবাহী আরও পাঁচ-ছয়টি নৌকা আসছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়, এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর চালু হয়েছে এবং শীঘ্রই শাহপরীরদ্বীপের গবাদিপশুর করিডরও চালু হবে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ভারতের জরুরি অবস্থার পর সবচেয়ে হস্তক্ষেপমূলক নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবিধানিক ঐক্যমত্য উপেক্ষা করে নির্বাচনে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এতে মুসলিম, মতুয়া সম্প্রদায়ের হিন্দু এবং দরিদ্র শ্রেণির নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নির্বাচন কমিশন একে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ বললেও প্রতিবেদনে বলা হয়, এর কোনো পরিসংখ্যানগত বা আইনি ভিত্তি ছিল না। উত্তরপ্রদেশে যেখানে মাত্র ৪ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেখানে বাংলায় নিয়োগ করা হয় ৩০ জনকে, এবং দেশের মোট পুলিশ বদলির ৯৫ শতাংশ ঘটে এই রাজ্যে। প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যা ২০২১ সালের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিজেপি ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে প্রচারের মূল ভিত্তি করে তোলে এবং এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর পূর্ববর্তী জনতাত্ত্বিক মিশনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনটি উপসংহারে জানায়, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রতীক।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।