মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে, যদিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। কে প্রথম হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলাও হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের ওপর ইরানি হামলার জবাবে তারা আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘আজ আমাদের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করেছে।’ এই উত্তেজনা দেখা দেয় একদিন পর, যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। ইরানের সামরিক বাহিনী পরে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বান্দার খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তাদের দাবি, এর জবাবে তারা মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের অনুমতি চেয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের কাছে আবেদন করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়। তিনি তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে)–কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে রাজ্যপাল কোনো আশ্বাস দেননি। বিজয় সতর্ক করেছেন, যদি টিভিকে সরকার গঠনের সুযোগ না পায়, তবে তার দলের ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন। ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, কিন্তু কোনো দল বা জোটই তা পায়নি। টিভিকে ১০৮টি আসনে জিতলেও বিজয় দুই আসনে জয়ী হওয়ায় দলের কার্যকর বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। ডিএমকে–কংগ্রেস–বাম জোট ৭৪টি এবং এডিএমকে–বিজেপি জোট ৫৩টি আসনে জিতেছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। কংগ্রেস ইতোমধ্যেই বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে, তবে রাজ্যপাল জানিয়েছেন ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন না পেলে টিভিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, বিজয়কে ঠেকাতে ডিএমকে ও এডিএমকে একজোট হতে পারে, ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের ২০৭ জন বিজয়ী বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য। বৈঠকে ঠিক হবে কে রাজ্যের নতুন সরকার গঠন করবেন। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এখনও স্পষ্ট নয় কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তবে বিজেপির ভেতরে জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হতে পারে, যিনি পরপর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও রাজ্য সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। জয়ী প্রার্থীদের মতামত নিয়েই নির্ধারিত হবে পরিষদীয় দলনেতা, যিনি হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত নেতা সন্ধ্যায় হবু বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আবেদন জানাবেন। এরপর শনিবার ব্রিগেডে শপথ নেবে নতুন সরকার।
বাংলাদেশ সরকার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৬ সালের জুন মাসে কার্যকর হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে পাইকারি পর্যায়ে ১৭–২১ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৪–১৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে ২০ ও ২১ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গণশুনানি হবে। অনুমোদন পেলে জুনের শুরু থেকেই নতুন দাম কার্যকর করতে চায় বিতরণ সংস্থাগুলো। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১২ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭ টাকায়, ফলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ টাকা লোকসান হচ্ছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়ার পরও ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দাম বাড়িয়ে ১০ হাজার থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা, যাদের মতে বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতির মূল কারণ অপচয় ও লুটপাট। পিডিবি গ্রাহক স্ল্যাব পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে দরিদ্র গ্রাহকরা সুরক্ষা পান এবং মধ্যবিত্তদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উৎসাহিত করা যায়।
ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে দেশজুড়ে ৩ হাজার ৯১ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশিদের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে ওই বছর বিদেশিদের বিরুদ্ধে ৯৯২টি মামলায় অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের পর সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে নাইজেরিয়ার নাগরিকরা, যাদের সংখ্যা ৫০৯। এরপর রয়েছে নেপালের ৪৭৬ ও মিয়ানমারের ২৪৫ জন নাগরিক। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে ভারতে মোট ৪ হাজার ৭৯৪ জন বিদেশি বিভিন্ন মামলায় আটক হন। তাদের মধ্যে ৯৪৪ জন নারী এবং ১১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ছিলেন। প্রতিবেদনটি দেখায় যে, ভারতে ২০২৪ সালে আটক বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, যা দুই দেশের সীমান্ত ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জকে ইঙ্গিত করে।
জার্মানির অভ্যন্তরে ইরান-সমর্থিত সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট হুমকির কথা স্বীকার করলেও একে ‘তাত্ত্বিক’ বা ‘অনুমাননির্ভর’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, আঞ্চলিক গোয়েন্দা প্রধানরা মনে করছেন, এই হুমকি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও জরুরি, এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ায় সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সতর্ক নয়। ইউরোপীয় গোয়েন্দারা ইতোমধ্যে জার্মানির বিভিন্ন ইহুদি ও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানবিরোধী ব্যক্তিদের ওপর হামলার অন্তত ৫০টি ছক শনাক্ত করেছে। মিউনিখের একটি ইসরাইলি রেস্তোরাঁয় সাম্প্রতিক হামলায় ইরানি প্রক্সিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘হারাকাত আসহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামের একটি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যাদের সঙ্গে তেহরানের আর্থিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এসব তৎপরতা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, তবে চ্যান্সেলর কার্যালয় সুনির্দিষ্ট হুমকি বা লক্ষ্যবস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
বাংলাদেশের চলমান সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিরোধই এখন প্রধান জটিলতা হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই এ ইস্যুতে বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে। সরকারি দলের বক্তব্যে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য তাদের আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করেছে। জুলাই সনদের ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। জামায়াত ও বিএনপিসহ ২৪টি দল এতে স্বাক্ষর করলেও সাতটি দল ভিন্নমত জানিয়েছে, তাদের মতে নিম্নকক্ষের আসনসংখ্যার অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা উচিত। সরকারি দলের পিআর বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান এবং সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করেছে। বিরোধী দল সরকারের উদ্যোগকে ছলচাতুরি বলে অভিযোগ করছে এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ব্যাখ্যা নিয়ে এই মতবিরোধের কারণে সংবিধান সংস্কারের অগ্রগতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টম ব্যারেট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা বন্ধ করা। গত বৃহস্পতিবার উত্থাপিত এই বিল অনুযায়ী ৩০ জুলাই পর্যন্ত সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন থাকবে, তবে এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে’—এই দাবিকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারেট বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ ও যুদ্ধের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানো যাবে না। কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস, মার্কিন বাহিনীর ওপর আসন্ন হুমকি মোকাবিলা, বন্দর অবরোধ বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেই শক্তি প্রয়োগ করা যাবে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালিতে এখনো হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নতুন করে সংঘর্ষ ঘটেছে। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকোস্কিও ইরানে সামরিক কর্মকাণ্ডের সময়সীমা নির্ধারণে একটি খসড়া বিল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন, যা রিপাবলিকানদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে ইরান। ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে একটি নথির আওতায় এখন থেকে প্রতিটি জাহাজকে নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’র (পিজিএসএ) কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সিএনএন প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ৪২টি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে, যেখানে মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা ও পণ্যবিবরণীসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। পিজিএসএ জানিয়েছে, সঠিক তথ্য দিলে ইমেইলে অনুমতি দেওয়া হবে, তবে ভুল তথ্যের দায় আবেদনকারীর। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এটি ‘শক্তিশালী ইরান’ কৌশলের অংশ, যেখানে বিদেশিদের জন্য কোনো স্থান নেই। তিনি হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই নীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ধাক্কা লেগেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। লয়েডস লিস্ট জানায়, যুদ্ধপূর্ব সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চললেও ৩ মে পর্যন্ত সপ্তাহে মাত্র ৪০টি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এই টোল দিতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ এখন দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ছিল ৩১ দশমিক ২১ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও করোনা মহামারির পর এই প্রথমবার এমন ভারসাম্যহীনতা দেখা গেল। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, ঋণ যদি অর্থনীতির চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তাদের মতে, সরকারের জন্য সুদ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর কর্তন নীতি ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা এই সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে ঋণ জিডিপির ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ব্যয় সংকোচন ও অপচয় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভোরের দিকে তেলের দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৫৮ শতাংশ বা ২.৪৫ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তাদের দুটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং পরে উপকূলীয় বেসামরিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরার তথ্যে জানা যায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। মিনাব শহরের গভর্নর একটি সামুদ্রিক ঘাঁটিতে হামলার কথা জানান। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির ও সিরিক শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে দুটি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর জবাবে ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও ইরানি সূত্রগুলো পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ বলে জানিয়েছে, তবু উত্তেজনা কতক্ষণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে, অন্যদিকে ইরান বলেছে মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পারস্য উপসাগরে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল। ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রেসিডেন্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি ইরানকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে জানান, মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। তবে সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, সংঘর্ষে একটি মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন জাহাজের ক্ষতি হয়নি।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধকের কার্যালয় এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা সমবায় অফিসার ও তদন্তকারী প্রধান কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মঞ্জুর আলম ব্যাংকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। তদন্ত শেষে আফতাবুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। কিছু কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও কিছু বিষয়ে মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত হয়েছে। অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক প্রদীপ কুমার সরকার ও অফিস সহকারী খায়রুন নাহার উপস্থিত ছিলেন, তবে ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা অনুপস্থিত ছিলেন। জেলা সমবায় কর্মকর্তা ও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের আর্থিক সংকট বিবেচনায় বেতন দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় নিবন্ধক মুখলেসুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংসদে সমাধান না হলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও হামের প্রকোপের মধ্যে তিনি কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চান না। নাহিদ ইসলাম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সংবিধান সংস্কারের গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তিনি জানান, বিরোধী দল সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং সংসদকে অকার্যকর করেনি। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিরোধী দলের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি নির্বাচনী জোটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যৌথ বা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। চট্টগ্রাম সফরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।