চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভার পশ্চিম উপলতা গ্রামের চৌধুরী মঞ্জিল থেকে বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযানে ২৩ মামলার পলাতক আসামি খোরশেদ আলমসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. আরিফ হোসাইন ও এএসআই আমির হোসাইন নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, আটক খোরশেদ আলম (৪৪) ও বোরহান উদ্দিন (২৮)-এর কাছ থেকে যথাক্রমে ২০ ও ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ২৩টি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি ১ বছর ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, খোরশেদ আলম পশ্চিম উপলতা বেপারী বাড়ির মৃত আরব আলীর পুত্র এবং বোরহান উদ্দিন দৈল বাড়ির আ. কাদিরের পুত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে আর বেশি ধৈর্য ধরবেন না এবং দেশটিকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি না করে, তবে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ধৈর্যের সময় শেষ এবং এখন ইরানের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইরানের ভূখণ্ড থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটি নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা চান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে আলোচনায় আসে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের পরমাণু ইস্যুতে একই অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দুই নেতা ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও তাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়। বৈঠককে সফল বলে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তারা এমন অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন যা অন্য কেউ করতে পারেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনের এই মধ্যস্থতা বা সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরাইলি কারাগারে সেনা ও কারারক্ষীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণের অভিযোগ তুলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরাইল সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়। পুলিত্জার বিজয়ী কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কুকুর লেলিয়ে দেওয়া, পায়ুপথে গাজর প্রবেশ করানো এবং লাঠি দিয়ে মলদ্বার ছিঁড়ে ফেলার মতো নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক মুখপাত্র জানান, প্রতিবেদনটি পাঠকদের ধর্ষণের নিন্দায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দিয়ে শুরু হয়। ইসরাইলি রাজনীতিবিদরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস অপবাদ ছড়াচ্ছে। এই ঘটনাটি ইসরাইল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মধ্যে মানবাধিকার ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সীমান্তে লাশ মাড়িয়ে দুটো দেশের সত্যিকারের বন্ধুত্ব হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ মে লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। আসিফ নজরুল বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটছে। তিনি জানান, অতীতে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হতো, ভারতের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হতো এবং সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পার হলে তাকে গ্রেফতার করা বা ফাঁকা গুলি করে সতর্ক করা সম্ভব, কিন্তু সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধে বিএনপি সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।
ইরান সংকট নিরসন ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে চীন। ২০২৬ সালের ১৫ মে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান ও প্রতিবেশী অঞ্চলে চলমান সংঘাত কখনোই ঘটার কথা ছিল না এবং এটি মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে এনেছে। বিবৃতিতে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। চীনের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র সঠিক পথ, আর সামরিক শক্তির ব্যবহার একটি ‘মৃত গলি’। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে পারস্য উপসাগরের নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রস্তাবের আলোকে চীন টেকসই শান্তি অর্জনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর আরও স্পষ্ট হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে শুক্রবার ভোর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা-গোমতী সেতুর ঢালে একাধিক কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে এবং তপ্ত গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে আটকে পড়ে, ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীরা গরমে কষ্ট পাচ্ছেন এবং চালকেরা স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানজট পুরোপুরি কমতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাবু শিকদার নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। শুক্রবার ভোরে পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা হামলাকারী শহীদ ওরফে কালা শহীদ ও মটু সিয়ামকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বাবুর ভাই নাঈম হোসেন জানান, টোকাই মধু নামের এক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রক দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইয়ের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। বাবু চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ফজরের নামাজের আগে টোকাই মধুর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলায় হাতকাটা রেদওয়ান, খাটো রুবেল, ফকির রাজু, সাজ্জাদ ও সৈকত অংশ নেয় বলে তিনি জানান। আহত বাবুকে উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কাউনিয়া থানার ওসি সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে মাদক জড়িত। দুইজনকে আটক করা হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিবৃতির পর এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৭ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ১০ ডলার বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ট্রাম্পের বিবৃতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনাও তেলের বাজারকে প্রভাবিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার অন্তত ৩০টি জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে পার হলেও, জাহাজ আটক বা হামলার শঙ্কা এখনো কাটেনি। এই অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা তেলের দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক আগ্রহ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বাজারে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই প্রণালি এখন থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না; বরং শত্রু বা বিরোধী দেশগুলোর জন্য এটি বন্ধ থাকবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে গত রাত থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে কোন দেশের জাহাজ তা প্রকাশ করা হয়নি। ফারস নিউজ জানিয়েছে, অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন, যা ইরানের নতুন মহাপরিকল্পনার অংশ। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে ‘পুরোপুরি খোলাও নয়, আবার পুরোপুরি বন্ধও নয়’। তারা বিদেশি জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি বা বিশেষ মাশুল আদায়ের বিষয়েও আলোচনা করছে। এই পদক্ষেপ ইরানের সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে এবং আঞ্চলিক নৌ চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) তৃতীয় সভায় বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলা ও ১২৩টি উপজেলার জীববৈচিত্র্য ও পানিসম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। নদীর প্রবাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকটের কারণে সুন্দরবনসহ বহু অঞ্চলের ইকোসিস্টেম বিপর্যস্ত হয়েছে। পরিবেশবিদরা এ প্রকল্পকে দেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন, যা মৃতপ্রায় নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনবে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি বাস্তবায়নে ভারতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকল্পে মূল ব্যারাজ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও নদী খননসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কৌশলগত জোটে আলজেরিয়ার যোগদানের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৮ মে তুরস্ক সফরকালে প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, খনিজ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ১৪টি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আলজেরিয়া-তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। আলজেরিয়ার জ্বালানি কূটনীতি ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়েছে। তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আলজেরিয়া আঙ্কারা-রিয়াদ অক্ষকে শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জোট আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং আরব-ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে পারে। তুরস্ক ও আলজেরিয়া প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘ সংস্কার ও মানবিক কূটনীতিতে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তাদের কৌশলগত ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করছে।
গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে গঠিত বোর্ড অব পিসের জন্য অস্বস্তিকর সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের পথে আনবে। কিন্তু যুদ্ধের ফলে হামাস উল্টো আরও উৎসাহিত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর মাত্র নয় দিন আগে বোর্ড অব পিস গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের জন্য ১৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছিল, যা হামাসবিরোধী আন্তর্জাতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তারা এখন প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বোর্ড অব পিসের সঙ্গে হামাসের আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও দলটি নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে। আলোচনায় যুক্ত এক আরব কূটনীতিক জানান, ইরানের টিকে থাকা হামাসকে আরও দৃঢ় করেছে এবং তারা আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে। বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ স্বীকার করেছেন, হামাস গাজায় নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করছে এবং নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা বিলম্বিত করছে, ফলে পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামত সমর্থনের আহ্বান জানাচ্ছে, যেখানে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইনি দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব জোরদার করতে চায়। গত বছর হেগে শুনানির পর আইসিজে এই মতামত প্রকাশ করে, যা ১৩২টি দেশ কোনো বিরোধিতা ছাড়াই সমর্থন করেছিল। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো একে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখেছিল। ভানুয়াতু এখন সেই মতামতকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছে এবং ২০ মে ভোটের আগে যত বেশি সম্ভব রাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে প্রস্তাবটির ভাষা সাম্প্রতিক খসড়ায় নরম করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির দ্রুত ও ন্যায়সংগত বন্ধের আহ্বান বাদ দিয়ে ধীরে ধীরে সরে আসার তাগিদ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির আন্তর্জাতিক নিবন্ধনব্যবস্থা গঠনের পরিকল্পনাও বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ। মামলার বিষয়ে অবগত সূত্র জানায়, আদানি নতুন আইনি দল গঠন করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রবার্ট জে. জিউফ্রা জুনিয়র। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জিউফ্রা যুক্তি দেন যে প্রসিকিউটরদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও এখতিয়ার ছিল না। বৈঠকে জিউফ্রা প্রস্তাব দেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন, যদিও পরে প্রসিকিউটররা জানান এই প্রস্তাব মামলার নিষ্পত্তিতে প্রভাব ফেলবে না। ইতিমধ্যে এসইসি আদানির সঙ্গে দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তি করেছে, যেখানে ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা ধার্য করা হয়েছে, এর মধ্যে আদানি দেবেন ছয় মিলিয়ন। মার্কিন অর্থ বিভাগও আলাদাভাবে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা প্রস্তুত করছে। এই আইনি জটিলতা দূর হলে আদানি গ্রুপের জন্য তা একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হবে, কারণ ২০২৪ সাল থেকে মামলাটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।