ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালালে ইসরাইলও তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে অর্ধঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফোনালাপ হয়, যেখানে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয় উঠে আসে। চ্যানেল ১২ জানায়, ‘ইরানে পুনরায় যুদ্ধ প্রস্তুতির ছায়ায়’ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। তেল আবিব আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নিলে আগাম জানানো হবে, যদিও সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চীনসহ বিভিন্ন পক্ষের চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘এক টুকরো আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিতে ইরান ১০ দিন সময় নিয়ে যুদ্ধ সম্পূর্ণ অবসান, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ট্রাম্প একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের পথে রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরান মনে করছে তারা যুদ্ধে টিকে গেছে এবং জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অচলাবস্থার কারণ দুই পক্ষের ভিন্ন অগ্রাধিকার—ট্রাম্প দ্রুত বিজয় ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ চান, আর ইরান ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান চায় চুক্তির গ্যারান্টি হিসেবে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের অসন্তুষ্টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নয় এবং আলোচনায় ইরানের অধিকারই প্রধান বিবেচ্য হবে।
অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানেজে গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে সুরক্ষা দিতে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরাইলের গণহত্যামূলক গাজা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা বেসামরিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ণবাদী নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা বন্ধ করতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে ত্রাণবহরের কর্মীরা জানান, তাদের বহরের আশপাশে একটি সামরিক জাহাজ দেখা গেছে। একই সময়ে ইসরাইলি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, বহরটি আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের এই আহ্বান এমন সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ত্রাণ পাঠানোর প্রচেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বেসামরিক ত্রাণ মিশনের নিরাপত্তা এবং গাজার মানবিক সংকট নিয়ে নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুয়াংশি অঞ্চলে সোমবার (১৮ মে) ভোরে আঘাত হানা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পের পর লিউঝৌ শহর থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়া জানায়, নিহতরা হলেন ৬৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি ও তার ৫৩ বছর বয়সি স্ত্রী। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। সিসিটিভির তথ্যমতে, ভূমিকম্পে অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে। প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত মানুষজন বহুতল ভবন থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবকাঠামো ও রেললাইন ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করতে গিয়ে কিছু পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, পানি, গ্যাস ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
আমার দেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণ উল্টো ফল বয়ে এনেছে। তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হয় এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে ধস নামে। রাশিয়ার থিংক ট্যাংক ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর তিমোফে বোরদাচেভ এই ঘটনাকে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মিথ ভেঙে পড়ার কথা তুলে ধরে, যেখানে ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের ব্যর্থতার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ইরানের ওপর হামলার পরও দেশটির শাসনব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী অটুট থাকায় ওয়াশিংটনের দ্রুত বিজয়ের ধারণা ভেস্তে যায়। এতে চীনের বিনিয়োগ ও জ্বালানি নির্ভরতা ঝুঁকিতে পড়ে, আর রাশিয়া তেলের দাম বৃদ্ধিতে লাভবান হলেও আঞ্চলিক অরাজকতা চায় না। বিশ্লেষণটি উপসংহারে বলছে, ইরান সংকট এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পতন ও নতুন বহুমেরূকরণের সূচনা করেছে, যা বড় শক্তিগুলোকে নিজেদের সীমাবদ্ধতা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে।
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতার ইরান যুদ্ধের কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করতে পারছে না। রাস লাফান শিল্পকেন্দ্র ও হামাদ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে রপ্তানি ও আমদানি উভয়ই স্থবির। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, চলতি বছর কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন ও ব্যবসায়িক আস্থা কমে গেছে। ১৯৯০-এর দশক থেকে গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভর করে কাতার আধুনিক অবকাঠামো ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাস লাফানের উৎপাদন ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে গেলেও আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর লাগবে। সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, কাতারের বিপুল আর্থিক সঞ্চয় থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখা সম্ভব। তবে হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ থাকবে, সেটিই এখন কাতারের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২৩ জন নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, কেউ রাজনৈতিক প্রভাব, কেউবা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে পদোন্নতি নিয়েছেন। চার মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ মার্চ জমা দেওয়া প্রতিবেদনে একাধিক কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল ও অনিয়মে প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে সরকারি মালিকানাধীন চা বাগানগুলোতে ভুয়া ও মৃত শ্রমিকের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। নিউ সমনবাগ চা-বাগানে ১,৮২০ জন শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৩১৫ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। বাকি শ্রমিকদের পরিচয়পত্রে অসঙ্গতি, বয়সজনিত অবসর অতিক্রম এবং ভুয়া নাম-ঠিকানায় বেতন তোলার প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে সরকার প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা অবগত নন।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদরাসা শিক্ষা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, রাজ্যে বেআইনিভাবে চলা কোনো মাদরাসা সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে প্রয়োজনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হবে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযানের অভিযোগের মধ্যে তার এই মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে এবং তিনি কেবল বেআইনি মাদরাসার তদন্তের কথা বলেছেন। মুসলিম আলেম, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্টজনরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতের সংবিধান সংখ্যালঘুদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। তারা জানান, বহু খারেজি মাদরাসা কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই আইনসম্মতভাবে চলছে। এদিকে মন্ত্রী মাদরাসা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান। রোববার কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষ বুলডোজার হুমকি ও ধর্মীয় আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে, এতে বহু নারী আহত হন এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
ফেনীর মহিপালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত এক আসামিকে জামিন দিয়েছে আদালত। রোববার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ মাশফিকুল হক এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, যুবলীগ নেতা সোহেলকে গ্রেপ্তার করে তিন মাস আগে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ফেনী মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ২২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, নিজাম উদ্দিন হাজারী ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সোহেলের পক্ষে আইনজীবীদের আবেদনে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যামামলায় ফেনীর আদালতে এটি প্রথম কোনো চার্জশিটভুক্ত আসামির জামিন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ছাত্র হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলায় জামিন সাধারণ মানুষের মনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পাকিস্তান ও ভারতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহে লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে বাসিন্দারা দুপুরে ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। এতে দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক ও কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্রসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চরম তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায় বিভিন্ন রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। করাচিতে তাপমাত্রা একাধিকবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছে ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি। উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই পানিশূন্যতা ও সংক্রমণে আক্রান্ত। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণ এই তাপপ্রবাহের মূল কারণ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় গ্রীষ্মকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে সরকারি কুলিং সেন্টার স্থাপন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর মাউন্টেন হোম এয়ার ফোর্স বেসে অনুষ্ঠিত গানফাইটার স্কাইজ এয়ার প্রদর্শনীর শেষ দিনে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান মাঝ আকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর বিমান দুটি মাটিতে আছড়ে পড়ে, তবে বিমানে থাকা চারজন ক্রু প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে বিবিসি জানিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বিমান দুটি ওয়াশিংটনের হুইডবি আইল্যান্ড ঘাঁটিভিত্তিক ছিল। এনবিসি নিউজ জানায়, দুর্ঘটনার পর বিমান প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক ঘাঁটিতে লকডাউন জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ বা মাটিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরান দাবি করেছে যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণের ‘রেড বিচ’ এলাকা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যেকোনো ধরনের যাতায়াতের জন্য ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। ইরান ঘোষণা করেছে, কোনো সামরিক বা যুদ্ধজাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজ চলাচল করতে পারবে, কিন্তু শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজকে পার হতে দেওয়া হবে না। গত কয়েক দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার বেশিরভাগই চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো জাহাজ চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে চায়, যা আঞ্চলিক নৌ চলাচল ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী যেন ওমান সাগরকে তাদের কবরস্থানে পরিণত হওয়ার আগেই অবরোধ শেষ করে। তিনি এই অবরোধকে যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তেহরানের অধিকার। রেজায়ি জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবরোধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে। রেজায়ি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নির্ভরযোগ্য। গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এই নৌ অবরোধ শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান মার্কিন শর্তে শান্তিচুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো চাপের কাছে নত হবে না।
সিআইএর সাবেক পরিচালক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট গেটস জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০০৯ সালের শুরুর দিক থেকেই ইরানে হামলার জন্য লবিং করছিলেন। সোমবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। গেটস স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৯ সালের জুলাই মাসে নেতানিয়াহু তাকে জানিয়েছিলেন যে ইরানের শাসনব্যবস্থা খুবই নাজুক এবং প্রথম আঘাতেই তা ভেঙে পড়বে। গেটস নেতানিয়াহুর এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, নেতানিয়াহু ইরানিদের সহনশীলতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে খাটো করে দেখছেন। তিনি নেতানিয়াহুর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ইসরাইলের পূর্ববর্তী হামলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করেন, যেমন ১৯৮১ সালে ইরাকের ওসিয়াক পারমাণবিক চুল্লি ও ২০০৭ সালে সিরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা। গেটসের মতে, এসব ঘটনার অভিজ্ঞতা ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ইসরাইলের মধ্যে একটি অবাস্তব ধারণা তৈরি করেছিল।
ফ্রান্সের বামপন্থি দল ‘লা ফ্রান্স ইনসোমিজ’-এর প্রধান জঁ-লুক মেলেনশঁ অভিযোগ করেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ফলে যে বৃহত্তর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ইউরোপের সহযোগিতা বা অংশীদারত্ব রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইউরোপের সহায়তাতেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ইরান ধ্বংসের হুমকি সম্ভব হয়েছে। মেলেনশঁ আরও দাবি করেন, পৃথিবীর শান্তি এখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঔপনিবেশিক স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, যেন তারা ভোটের মাধ্যমে ফ্রান্সের এই জোটবদ্ধ অবস্থানের অবসান ঘটান এবং ‘দাসত্বের শৃঙ্খল’ ভেঙে ফেলেন। আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।