ফেডারেল আদালতের রায়ের পর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ আগস্ট থেকে স্থগিতাদেশটি আর কার্যকর নেই। ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দেশের আবেদনকারীরা স্বাভাবিক সব ভিসা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করলে অভিবাসী ভিসা পেতে পারেন। গত জানুয়ারিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন এবং এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন। অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়। নীতিটির বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, শুধু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে ভিসা আটকে রাখা আইএনএর অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। স্থগিতাদেশ চলাকালে আগে ইস্যু করা ভিসা বাতিল হয়নি; নতুন আবেদন ও সাক্ষাৎকারও চলেছে।
প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। হোয়াইট হাউস সোমবার তার পদত্যাগ নিশ্চিত করে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে তাদের মতবিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। সিবিএসকে দেওয়া বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের প্রশংসা করেছে। তাদের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং অ্যাগেইন’ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এবং সামরিক অভিযানে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনাতেও তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। ৪১ বছর বয়সি ড্রিসকল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি সেনাসচিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক পরিবর্তনের সময় তার এই পদত্যাগ হলো। এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান দায়িত্ব ছাড়েন; সম্প্রতি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুসহ অন্য কর্মকর্তারাও সরে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিকায়ন ও ড্রোনসহ চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ সীমিত করা নিয়ে ড্রিসকলের সঙ্গে পেন্টাগন নেতৃত্বের মতবিরোধ ছিল।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার পূর্বে বুরকা গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফাতিমা মুকাত্তাম নামে এক বয়স্ক ফিলিস্তিনি নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা সূত্র জানায়, বসতি স্থাপনকারীরা ফাতিমা ও তাঁর স্বামী ওয়াজিহ হামদানের ওপর হামলা চালায়। হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতিটি বসতি স্থাপনকারীদের তাঁদের গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে বাধা দেন। এর পরই তাঁদের ওপর হামলা হয় এবং একপর্যায়ে ফাতিমাকে ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের মতে, কৃষক, পশুপালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা হামলা ও ফিলিস্তিনি সম্পত্তি দখলের অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অনেক ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। রামাল্লার আশপাশে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অচল কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়েতে কথিত বাণিজ্য মেলা চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেনের উদ্যোগে ১৬ আগস্ট থেকে দুই মাসের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মেলা তদারকির সঙ্গে আমির হোসেনের সহযোগী বাদল ও বিল্লাল হোসেনের নামও এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা অর্থ দিয়ে প্রবেশ কুপন কিনছেন এবং ওই কুপনের মাধ্যমে লটারিতে পুরস্কার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন। শুরুতে লটারি বন্ধ থাকলেও গত শুক্রবার থেকে তা আবার চালু হয়েছে। রানওয়ের ওপর বিভিন্ন রাইড ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আমির হোসেন বলেন, দেশি-বিদেশি পণ্য বিক্রির জন্য স্টল করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো অবৈধ কার্যক্রম হয় না। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বিএনপির ১০ নেতা মেলার অনুমতির জন্য তদবির করলেও তিনি অনুমতি দেননি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, করপোরেশন থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানও জানান, তাঁর কার্যালয়ে অনুমতির কোনো আবেদন আসেনি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নানা সংকটের মধ্যেও সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লোডশেডিং কমানোর চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কী পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল তার তথ্য প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান, এ তথ্য নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামী সপ্তাহে সাংবাদিকদের তা দেওয়ার আশা করছেন। তথ্যের মধ্যে ওই সময়ের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ও মেগাওয়াটের হিসাব থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৮ এপ্রিল থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১৫টি পৃথক তারিখ বা সময়পর্বে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার লক্ষ্য ছিল রাডার স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও উৎপাদনসংশ্লিষ্ট স্থাপনা। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনা বা লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি বা হামলার জবাব হিসেবে এসব সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হলেও পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় তা কার্যত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সমঝোতা বাতিল বলে ঘোষণা করেন। জুলাইয়ে উত্তেজনা বাড়ে এবং ১১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কয়েক দফা মার্কিন সামরিক অভিযান চলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তাকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থরা। বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে তারা দলের অনুপ্রেরণা, নেতৃত্বের প্রতীক এবং সহমর্মী অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল দেশের প্রতি মেসির নিঃশর্ত ভালোবাসা, হার না মানা মানসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং সতীর্থদের প্রতি মানবিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান। লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেন, মেসির সঙ্গে জাতীয় দলের এই চমৎকার পথচলায় খেলতে পারা তার সৌভাগ্য। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মেসির প্রতি ভালোবাসা, অসীম শ্রদ্ধা ও চিরকৃতজ্ঞতার কথা জানান এবং তাকে ক্যাপ্টেন বলে সম্বোধন করেন। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো সারাজীবনের স্মৃতির জন্য ধন্যবাদ দেন। সতীর্থদের বক্তব্যে মেসিকে কেবল খেলোয়াড় বা অধিনায়ক নয়, দলের প্রেরণা ও অভিভাবক হিসেবেও দেখা হয়েছে। সূত্রে বলা হয়েছে, তার অবসর আর্জেন্টিনা ফুটবলে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে বন্যার পর কাদায় ভরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ৬০০-এর বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার উদ্ধারকারীরা ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছাতে পাহাড়ের ঢালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করেন এবং একটি সুড়ঙ্গে বাতাস ঢোকানো শুরু করেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯৩৯ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯২৫ বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক উদ্ধার দলে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। সোমবার একটি দল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পমুখী সুড়ঙ্গে ঢুকলেও কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে। নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা অক্সিজেনের ব্যবস্থা আগে নেওয়া উচিত ছিল বলে মত দিয়েছেন এবং অভিযান দ্রুত করার দাবি জানিয়েছেন। অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতেই উদ্ধারকারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় নির্মিত বা নির্মাণাধীন অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ লাশের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে; চিতওয়ানে অস্থায়ী দাফন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই দলের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পর উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। রিজভীর ভাষ্য, এ পথে নানা চ্যালেঞ্জ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থাকতে পারে, তবে তা মোকাবিলা করেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার ও নৈরাজ্যের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি তাঁকে এবং বিএনপিকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি গণতন্ত্র সুসংহত করার অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রিজভী বলেন, সরকার বসে নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশে জ্বালানি আনার পথে একাধিক জাহাজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস সংকট সমাধানে নির্ধারিত বাজেটের বাইরে বিপুল অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মহেশখালীর টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি সমাধানের কাজও চলছে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ বলেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং একে ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। ওয়ার্নার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা আবার বাড়ছে এবং তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সেনাসদস্য ও সামরিক সম্পদ এখনো চাপের মুখে রয়েছে। সিনেটর ওয়ার্নার দাবি করেন, তেহরানের সরকার আরও উগ্র হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তাঁর পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং এর শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সাউথ এশিয়া মনিটরে ৩০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের কৌশল অনুসরণে ক্রমেই অনাগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও ইউরোপ নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে চায়। নিবন্ধটি এই অবস্থানকে আটলান্টিক জোটের সম্পর্ক পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে। বিশ্লেষণে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও মার্কিন বাজারে প্রবেশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হয়। ইউরোপের তৈরি ইনস্টেক্স কার্যকর বাণিজ্যিক চ্যানেল হয়ে উঠতে পারেনি এবং ২০২৩ সালে বন্ধ হয়। ইউরোপ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। লেখকের মতে, ইউরোপ চাপ প্রয়োগের বিরোধী নয়; তবে চাপের মাত্রা, পদ্ধতি ও চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণে ট্রাম্প প্রশাসনের একক কর্তৃত্ব মানতে চায় না। তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইউরোপের কূটনৈতিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চেকপোস্টের কারণে চার ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরাও খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধ নিয়ে সেখানে যেতে পারছেন না। একই এলাকায় ইসরাইলি বসতির বাসিন্দারা অবাধে চলাফেরা করছেন। আটকে পড়াদের একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই আবু রিদি। আবু রিদি আল জাজিরাকে বলেন, পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আসতে হলে আগে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হয় এবং এতে কয়েক দিন লাগে। সেনাদের সঙ্গে কথা বলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি জানান। সেনারা এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ বলছে, তবে বসতির লোকজন চলাচল করতে পারছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ হামলাটি তার বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে হয়েছে। ২৯ আগস্ট গ্রামটিতে হামলার পর আটকে থাকা বাসিন্দার সংখ্যা তিন থেকে চারজনে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসে কুসরায় ইসরাইলি বসতিদের সহিংসতা বেড়েছে এবং আগস্ট থেকে গ্রামের তিনটি বাড়ি অবরুদ্ধ রয়েছে। আবু রিদির ৮৩ বছর বয়সি মায়ের ওষুধ প্রায় শেষ, আর তার বোন, ভাই ও প্রতিবেশীদের স্কুল ও কাজে যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ইরান সমর্থিত হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে দেশের একাধিক ফ্রন্টে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর মিডিয়া সেন্টার এ তথ্য জানায় এবং সাদা গভর্নরেটের উত্তরাঞ্চলীয় বাকাম জেলায় হামলার দৃশ্য প্রকাশ করে। প্রকাশিত ভিডিওতে ড্রোন থেকে হুথিদের অবস্থানে বোমা ফেলতে দেখা যায়। সেনাবাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি বা অভিযানগুলোর সময় সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। আলাদাভাবে ইয়েমেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরে হুথিদের চারটি ড্রোনবোট ধ্বংস করেছে। নৌবাহিনীর দাবি, হানিশ ও জাকার দ্বীপপুঞ্জের কাছে এসব ড্রোনবোট ধ্বংস করা হয়। এ অভিযানের বিষয়ে প্রতিবেদনে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পুলিশ বিভাগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মিরপুরে সর্বাধিক ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেজগাঁওয়ে ৫৯ জন, মতিঝিলে ৫৬ জন, ওয়ারী ও উত্তরায় ৫০ জন করে, লালবাগে ৩৬ জন, রমনায় ৩২ জন, গুলশানে ২৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানকালে একটি দেশীয় রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি, ৬৩২৪ পিস ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা এবং ৩৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানের তেল রপ্তানিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজন্যাশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে এই অবরোধ খুবই কার্যকর হয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। বোল্টনের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন চাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চীন। তিনি বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। তাঁর দাবি, চীনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান আর্থিক সম্পদ সরাতেও সক্ষম হয়েছে। ইরানকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর হতে হলে চীনের ওপর মূল নজর দেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন। ইরানি তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত চীনা ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে বলে মত দেন বোল্টন। তিনি ইরানের ওপর আরও আর্থিক চাপ প্রয়োগের পক্ষেও কথা বলেন। তবে তাঁর মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো তেল অবরোধ বহাল রাখা, কারণ সেটি ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।