ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাধিস্থল বন্ধ রাখায় দর্শনার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে একই স্থানে দাফনের পর থেকেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকে কেউ সমাধিতে প্রবেশ করতে পারছেন না, বাইরে থেকেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সমাধিস্থলের ফটক তালাবদ্ধ এবং প্রবেশপথের পাশে বই ও গয়নার দোকান বসেছে। কোনো নামফলক না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না এটি জাতীয় কবির সমাধি। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন তুষার বলেন, আগে সমাধি উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু এখন কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। দর্শনার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ঢাবির সহকারী প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, ওসমান হাদিকে দাফনের পর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। কোনো লিখিত নীতিমালা নেই এবং আপাতত উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও নেই। তবে প্রক্টর অফিসের অনুমতি নিয়ে কেউ চাইলে সমাধি পরিদর্শন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি পবিত্র ঈদুল আজহায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য ও মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। সংগঠনটি অবিলম্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম থেকে নওগাঁগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৭ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন এবং নরসিংদীর ঘোড়াশালে ট্রেনের ছাদে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় বহু শ্রমজীবী মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাক, বাস বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। রাষ্ট্র বারবার নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংগঠনটি সংশ্লিষ্টদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এখনো সক্রিয় রয়েছে, যদিও সরকার সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে এবং পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা আইনে পরিণত করে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এরপর থেকে ছাত্রলীগ প্রায় নয়টি পৃথক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে পোস্টার সাঁটানো, জাতীয় দিবস পালন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে। এই ধারাবাহিক তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন এবং বলেছেন, তাদের পারস্পরিক বিভাজনের সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বীকার করেছে যে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি নেই এবং নিরাপত্তা জোরদারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশজুড়ে রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে তিনজনের মৃত্যু হচ্ছে বলে রেলওয়ে পুলিশের তথ্য জানায়। ঈদযাত্রার সময় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি লেভেল ক্রসিংয়ের অর্ধেকেরও কম স্থানে গেটম্যান রয়েছে। রেলের হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রাণহানির ৮৯ শতাংশই ঘটে অরক্ষিত ক্রসিংয়ে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কুমিল্লা করিডোর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে ৮৬৮টি দুর্ঘটনায় ১১১ জন নিহত হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। পূর্বাঞ্চলে বৈধ ক্রসিংয়ের অর্ধেকেরও বেশি গেটম্যানবিহীন, পশ্চিমাঞ্চলেও একই অবস্থা। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ৭২টির মধ্যে ৫৬টি গেট অরক্ষিত। একাধিক তদন্ত ও স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম স্থাপনের সুপারিশ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত অবৈধ ক্রসিং বন্ধ, গেটম্যানদের বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, ঈদে বিশেষ টাস্কফোর্স মোতায়েন এবং স্বয়ংক্রিয় সাইরেন স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদে আন্ডারপাস নির্মাণ ও অবৈধ ক্রসিং পরিচালনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে নীলসাগর ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। সোমবার সকাল থেকেই স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। ট্রেনের বিলম্বে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘অপারেশনাল ডিলে’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, রেললাইনের ওপর স্থানীয়দের খড় শুকানোর কারণে ট্রেনের গতি কমে যায়। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে প্রায় ১৫টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও দুটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে এবং আরও দুটি ট্রেন নির্ধারিত সময় পার হলেও প্ল্যাটফর্ম ছাড়েনি।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, এই সাক্ষাৎটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে আলোচনার বিষয়বস্তু বা কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি নেতৃত্বের চলমান যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা ফলাফল সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আলবেনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম ওমর ফারুক (২৬)। তিনি আচমিতা ইউনিয়নের উখড়াশাল গ্রামের মৃত মালু মিয়ার ছোট ছেলে। রোববার সকালে তিনি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন, এ সময় বাবুর্চি রান্না করছিলেন। হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে রুমের অন্যরা বেরিয়ে গেলেও ওমর ফারুক বের হতে পারেননি। তার বড় ভাই আবু সালেহ জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওমর ফারুক আলবেনিয়ায় যান এবং এনসিপি কোম্পানিতে ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতেন। তার রুমমেট হাসু মিয়া মোবাইলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ বা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনাটি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির দিকটি আবারও সামনে এনেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সংযোজনে আধুনিক সিসি ক্যামেরাগুলো এখন শুধু ভিডিও ধারণই নয়, বরং শব্দ রেকর্ড, মুখ শনাক্ত, চলাচল বিশ্লেষণ এবং সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত করতে সক্ষম। কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে এসব স্মার্ট ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায় এবং ভিডিও ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে, ফলে তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমে। বাংলাদেশের বড় শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মার্কেট, ব্যাংক ও সরকারি ভবনে এসব ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রযুক্তি অপরাধ দমন, তদন্ত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চুরি, ডাকাতি, অপহরণ বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করছে। ক্যামেরার উপস্থিতি কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধও বাড়াচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, তথ্যের অপব্যবহার এবং উচ্চ খরচের মতো চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সঠিক ও নৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি একটি নিরাপদ ও আধুনিক সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার নিশ্চিত করেছে যে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে আরও এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। নিহত সেনার নাম নেহোরায় লেইজার (১৯), তিনি ৬০১তম কম্ব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট ছিলেন। একই ঘটনায় আরও এক ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত ইসরাইলি সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে এই শত্রুতা শুরু হয় গত ২ মার্চ। এরপর থেকে মোট ২৪ জন ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৩ জন সেনা এবং ১ জন বেসামরিক ঠিকাদার। দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। আল আরাবিয়ার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ সংঘর্ষের বিস্তারিত বা কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, চলমান আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস পোষণ করছে ইরান। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও চুক্তির বেশ কয়েকটি শর্ত নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। সূত্র জানায়, প্রাথমিক সমঝোতা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নয় এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা নেই। আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত রেকর্ড ইরানের অবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান চুক্তি-পরবর্তী পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখবে।
রাজধানীর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। আগামী সপ্তাহে পুলিশি চার্জশিট ও আদালতের কার্যক্রমের দিকে সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি, দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে জনমত জোরদার হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী রানা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল মেম্বারের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে চুরি, মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ঋণের বোঝা ও পারিবারিক কলঙ্কের কারণে তিন বছর আগে পরিবার তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করে। পরে ঢাকায় এসে তার অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রানার গ্রামের বাড়িতে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম বিচারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে।
লেবাননের নাবাতিয়াহ এলাকায় তিনটি পৃথক ইসরাইলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাফর রুম্মান–জারমাক মহাসড়ক এবং জারমাক–খারদালি সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে এই হামলাগুলো চালানো হয়। ঘটনাটি ২৫ মে ২০২৬ তারিখে ঘটে। লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ও আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় বা হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্য পাওয়া মাত্র তা জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্য বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, ফলে ঘটনার পরবর্তী প্রভাব এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
গাজাগামী ত্রাণবাহী বহরের কর্মীদের অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া। ২৫ মে ২০২৬ তারিখে মালয় মেইল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলে মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবে। সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমিরুদ্দিন শারি জানান, ত্রাণবাহী বহরের কর্মীদের বিরুদ্ধে কথিত নৃশংসতা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মীর মধ্যে মালয়েশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া নীরব থাকবে না এবং আইনি দল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নথি সংগ্রহ করছে। আমিরুদ্দিন আরও জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা হবে, কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে প্রচার চালানো হবে।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদ বর্জন ও মাদরাসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা পাঁচ দিন ধরে অবস্থানরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়, পরে শিক্ষক নেতারা অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদরাসা বন্ধ ও ঈদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’র ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে। সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান হোসেন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং মাদরাসাগুলো বন্ধ রাখবেন। দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত ও ৫ হাজার ৯৩২টি অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ও পরবর্তীতে জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার ঈদুল আজহা উপলক্ষে নামাজ ও পশু কোরবানির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, খোলা জায়গা বা জনসমাগমস্থলে কোরবানি দেওয়া যাবে না এবং ঈদের নামাজের জন্য কোনোভাবেই রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। তিনি নিষিদ্ধ পশু কোরবানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও উল্লেখ করেছেন এবং নামাজ শুধুমাত্র প্রচলিত ও নির্ধারিত স্থানে আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনগুলোকে নির্দেশ দেন যাতে কোরবানি শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত স্থানে হয় এবং উৎসব ঘিরে কোনো নতুন রীতি বা প্রথা চালু না হয়। বৈধ কসাইখানাগুলোতে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি পশু রাখা যাবে না বলেও তিনি জানান। উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন সম্ভব হয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।