লন্ডনে ইহুদি সংস্কৃতি মাস উপলক্ষে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে ব্রিটিশ মিউজিয়াম। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘প্রাচীন ইসরাইল ও জুদাহ’ বিষয়ক এই বক্তৃতা, যেখানে বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল মিউজিয়ামের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের প্রধান ড. পল কলিন্সের। মিউজিয়াম জানিয়েছে, নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে অনুষ্ঠানটি বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারত। এই বক্তৃতাটি যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ইহুদি সংস্কৃতি মাসের অংশ, যা ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গুরুত্ব স্বীকার করে, তবে বক্তা, কর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্ব। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক সিদ্ধান্তটিকে ভুল বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন, আর ইতিহাসবিদ সাইমন শামা একে দুঃখজনক বলেন। অন্যদিকে ‘জিউইশ আর্টিস্টস ফর প্যালেস্টাইন’ সংগঠনটি প্রশ্ন তোলে, ভিন্নমতকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখানো হলে তা প্রো-জায়নিস্ট প্রচারণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসের একটি আদালত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে। বাংলাদেশের অনুরোধে পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার অধীনে দেশটির অর্থপাচার বিরোধী ইউনিট মোকাসের আবেদনের ভিত্তিতে ১৯ মে নিকোসিয়া জেলা আদালত এই আদেশ জারি করে। জব্দকৃত সম্পত্তিটি পারেক্লিসিয়ায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন। সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি তদন্তকারীরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতারণামূলক ঋণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছেন। এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাইফুল ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পান। সম্পত্তি জব্দের একদিন পর, ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের একটি আদালত সাইফুল ও তার দশজন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয়। ঢাকার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিদেশে তহবিল স্থানান্তর করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সকলের সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ২৫’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে এবং সবাই যদি তা আন্তরিকভাবে পালন করে, তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বক্তৃতায় তিনি ঢাকা সেনানিবাসে নিজের শৈশব স্মৃতি তুলে ধরেন এবং ১৯৭০-এর দশকের অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন। তিনি সৈনিকদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন এবং সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সাংবাদিকদের উদ্ধার অভিযানে সেনা সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রয়োজনে সৈনিকরা জীবন দেয়, আর সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, সরকার নাগরিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির গরুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় গরুর হাটে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৫০ থেকে ২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, প্রায় সাত হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি হয়েছে। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কোরবানি দাতা ও ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন। ৭০ বছর বয়সী আনোয়ার উল্লাহ ৫০০ টাকায় চামড়া কিনে বাজারে এনে ২০০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেননি। আরেক ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন চারটি চামড়া ৬০০ টাকায় কিনে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেন। সরকার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও ক্রেতারা কিনছেন না। অনেক কোরবানিদাতা হতাশ হয়ে চামড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করেছেন। পরশুরাম পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম শাফায়াত আখতার নূর জানান, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে তেল বিক্রি করছেন। টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ গুহায় অবস্থিত এই রিজার্ভে এখন অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর আগে ট্রাম্প ২০২২ সালের নির্বাচনি প্রচারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমালোচনা করেছিলেন, কারণ তিনি তেলের দাম কম রাখতে এসপিআর থেকে তেল বিক্রি করেছিলেন। জ্বালানি গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, এই ব্যারেলগুলো একসময় ফেরত রাখতে হবে, যা দাম বাড়াতে পারে। সংকুচিত মজুত ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে মার্কিন কর্মকর্তাদের রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করতে হবে, যা বাজারে চাহিদা ও দাম উভয়ই উঁচু রাখতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত হিসেবে এসপিআর অতীতে যুদ্ধ, হারিকেন বা সরবরাহ বিঘ্নের সময় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রেসিডেন্টই ব্যবহার করেছেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু কোরবানি না করার পুলিশি সতর্কবার্তার পর ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মুম্বাইয়ে কোরবানির জন্য খাসি নিয়ে গেলে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাদের বিব্রত করতে শুকরের বাচ্চা আনা হয়। পশ্চিমবঙ্গের এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা সতর্ক করছেন যে কেউ গোপনে গরু কোরবানি করলে বিপদে পড়বেন এবং খাসি কোরবানি প্রকাশ্যে দেওয়া যাবে না। ঈদের একদিন আগে পুলিশ ভিডিওটি প্রকাশ করে এবং ঈদের দিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সেটি শেয়ার করে। এসব ঘটনায় রাজ্যজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে চাপ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুসলিমরা শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালন করছেন এবং ধর্মীয়ভাবে পালনকারীদের কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। এ বছর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজেপি সরকার তা অনুমতি দেয়নি। পরিবর্তে ব্রিগেড ময়দানে জামাত হয়, যেখানে উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। রাজ্যজুড়ে কোরবানি প্রায় বন্ধ থাকায় উৎসবের আমেজ হারিয়ে গেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নগরীর শাপলা চত্বরে সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রায় ১১শ কর্মী একযোগে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণে কাজ করছেন। নির্ধারিত ডাস্টবিন ছাড়াও বাসা-বাড়ির সামনে ও রাস্তায় থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে তা নাচনিয়া বিলের সিটি করপোরেশনের আবর্জনার স্তূপে ফেলা হচ্ছে। সিটি প্রশাসক জানান, রাত ১০টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তীতে স্থানগুলো ব্লিচিং পাউডার ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হবে। তিনি আরও জানান, নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ৬৬টি নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রশাসন আশা করছে, আগের মতো এবারও আট ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ শেষ করা সম্ভব হবে, যা নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) ঢাকার আমিনবাজারের চামড়া বিক্রয় কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে এই পরিদর্শন করা হয়। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরিদর্শনকালে কাঁচা চামড়ার ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাজার পরিস্থিতি, মূল্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও জানান, চামড়ার অপচয়, সিন্ডিকেট বা অব্যবস্থাপনা রোধে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে এবারও বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা পাড়া-মহল্লা থেকে ৪০০–৪৫০ টাকায় বড় গরুর চামড়া কিনে আতুরার ডিপো ও চৌমুহনির বাজারে মাত্র ১৫০–২৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেট গঠন করে নামমাত্র টাকায় চামড়া কিনছেন। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ক্রেতা পাননি, ফলে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। আড়তদার সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও লবণ দিতে প্রায় ৪৫০ টাকা খরচ হয়, যা সরকার নির্ধারিত দামের মধ্যেই গণনা করতে হবে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনে এনেছেন বলেই লোকসানে পড়েছেন। গত বছরও একই পরিস্থিতিতে অনেক চামড়া রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ বছর চামড়া অপচয় রোধে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ ও গাউছিয়া কমিটি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ ও লবণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গাউছিয়া কমিটি ১ লাখ এবং ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ ৩০ হাজার পিস চামড়া সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ২৮ মে অধিকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে কঠোর ইসরাইলি নিরাপত্তা ও বাধা সত্ত্বেও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানায়, বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। নামাজের সময় মসজিদ ও আশপাশে বিপুল সংখ্যক ইসরাইলি সেনা মোতায়েন ছিল এবং প্রবেশপথে তল্লাশি ও কয়েকজনকে আটক করা হয়। গত বছর ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পর এটাই প্রথম আল-আকসায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঈদুল ফিতরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছিল। ঈদের সকালে ইসরাইলি বাহিনী পুরনো জেরুজালেম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং মুসল্লিরা ‘লায়ন্স গেট’ দিয়ে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনিদের আহ্বান জানানো হয় মসজিদের ইসলামী পরিচয় রক্ষায় উপস্থিতি জোরদার করতে। ঈদের দিন মসজিদের এক প্রবেশদ্বারে এক তরুণীকে মারধর করে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। সাংবাদিক সাইফ আল-কাওয়াসমি ও ইসলামিক ওয়াকফের কর্মী ফিরাস আল-দিবসকেও আটক করা হয়। পশ্চিম তীরেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইসরাইলি অভিযানে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোড থেকে প্রধান ঈদের জামাত সরিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজন করেছে, যা ৪৮ বছরের প্রথার সমাপ্তি ঘটিয়েছে। সকাল থেকেই ড্রোন নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার ও বিপুল পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে নামাজ শুরু হয়ে ৮টা ৪৪ মিনিটে শেষ হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য বন্ধ না রাখার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জনসাধারণের অসুবিধা না হয়। ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত খিলাফত কমিটি শহীদ মিনার চত্বরে ঈদের নামাজের আয়োজন করত, পরে ১৯৭৭ সালে বৃষ্টির কারণে বিকল্প হিসেবে রেড রোডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেড রোডেই দুই ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক মুসল্লি জানান, ব্রিগেডে নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে ভারী বৃষ্টি হলে আয়োজন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনও ছিল একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
২০২৬ সালের ২৮ মে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজন্স ক্লাব জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ইসরাইলি কারাগারে ৩৬০ ফিলিস্তিনি শিশু, যার মধ্যে তিনজন কন্যাশিশু, এবং ৮৪ নারী বন্দি ছিলেন। বর্তমানে মোট ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের হেফাজতে রয়েছেন, যাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংগঠনের প্রধান আব্দুল্লাহ আল-জাঘারি বলেন, ইসরাইল নজিরবিহীন দমন-পীড়নের মাধ্যমে বন্দিদের টার্গেট করছে। তার দাবি, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১০০ জনের বেশি বন্দি ও আটক ব্যক্তি মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ৮৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বন্দিদের যথাযথ খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং আটককেন্দ্রে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাও ঘটছে। আল-জাঘারি বলেন, ইসরাইল বন্দিদের পরিবারকে সাক্ষাৎ করতে বাধা দিচ্ছে, যাতে তাদের বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করা যায়।
বগুড়ার চামড়ার বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দেওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। ছাগলের চামড়া বিক্রি না হওয়ায় শহরের ডাস্টবিনগুলোতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রাম থেকে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনে শহরে এনে মাত্র ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খাসির চামড়া ৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক কম। তাদের দাবি, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে, ফলে পুঁজি আটকে গেছে। লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, ফলে অনেকেই মূলধন হারানোর আশঙ্কায় আছেন। ক্রেতাদের মতে, গবাদিপশুর ল্যাম্পি রোগে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে কেবল ভালো মানের চামড়া কেনা হচ্ছে, নিম্নমানের চামড়ার চাহিদা নেই। আড়তদাররা সতর্ক করেছেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও বাজার স্থিতিশীল না হলে চামড়া ব্যবসায় আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেনানিবাসে নিজের সুখ-দুঃখের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেশকে একটি সুন্দর জায়গায় দেখতে চাই এবং সবার জন্য দেশ গড়তে কাজ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর অবদান দেশের মানুষের কাছে গভীরভাবে মূল্যায়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, সেনা মেসে অবস্থানরত সৈনিকদের খোঁজখবর নেন, একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে সেনা মেসের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ শান্তনু সেন দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। জানা গেছে, তিনি ২৮ মে ২০২৬ তারিখে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং এতে নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। চিঠিতে শান্তনু উল্লেখ করেছেন, নানা কঠিন পরিস্থিতি ও মতভেদের মধ্যেও তিনি দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যমে দলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে বক্তব্য রেখেছেন এবং বিতর্কিত বিষয়েও দলের অবস্থান সমর্থন করেছেন। তবে বর্তমানে রাজ্যের একাংশের মানুষ দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলকে প্রত্যাখ্যান করছে বলে তিনি মনে করেন। আর জি কর কাণ্ড ও চাকরি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই অবস্থায় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। তিনি জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে তার পদত্যাগ গ্রহণ করার অনুরোধও করেছেন, যা তার জাতীয় মুখপাত্র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।