বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি এগিয়ে যাবে। শুক্রবার (২৯ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করে যাবে। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা ও রাষ্ট্রনায়ক, যিনি জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ একজন দেশপ্রেমিক নেতাকে হারায়। তার মতে, মহান নেতাকে হত্যা করলেই তার আদর্শ মুছে যায় না; বরং তা জনগণের মনে আরও গভীরভাবে স্থান পায়। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার দেখানো পথে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারেনি। সেনারা উপাসনালয়ের ভেতরে থাকা মুসল্লি, নিরাপত্তারক্ষী, কর্মচারী ও তত্ত্বাবধায়কদের দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে পুরো মসজিদ এলাকা সিলগালা করে দেয় এবং আশপাশের সব চেকপয়েন্ট ও গেট বন্ধ করে দেয়। ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি মসজিদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক অবস্থান পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হেবরনের পুরাতন শহরে ফিলিস্তিনিদের চলাচল ও ধর্মীয় কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৭ মে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছিলেন। এলাকাটি সম্পূর্ণ ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন, যেখানে প্রায় ৪০০ বসতি স্থাপনকারীর নিরাপত্তায় প্রায় ১,৫০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
ভারতে তরুণদের বেকারত্ব ও রাজনৈতিক হতাশা থেকে জন্ম নিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রাপ্ত অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে এক্সে প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়?’ পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং তিনি বন্ধুদের সহায়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মাত্র দুই ঘণ্টায় সিজেপির ওয়েবসাইট তৈরি করেন। দলটি দাবি করেছে, তাদের নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জনপ্রিয়তা ভারতের তরুণ সমাজের গভীর হতাশার প্রতিফলন। ২০২৫ সালের শ্রম জরিপে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ। সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা ভয়াবহ, আর সাম্প্রতিক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল হওয়ায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে, যা ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেয়, তবে অভিজিৎ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানান। দলটির প্রথম উদ্যোগ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে অনলাইন পিটিশন চালু করা হয়েছে।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অবৈধ ও আগ্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে লালমনিরহাট সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে খুঁটি স্থাপন, ড্রোন আছড়ে পড়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর বিজিবি এই পদক্ষেপ নেয়। লালমনিরহাট ১৫, রংপুর ৫১ ও রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তিস্তা-টু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ এপ্রিল পাটগ্রাম সীমান্তে এবং ১৪ মে হাতীবান্ধা এলাকায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। ভারত পূর্বে সীমান্তে মৃত্যু শূন্যে আনার আশ্বাস দিলেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জবাবদিহির অভাব ও আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। বিজিবি সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে যাতে কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা না করে, এবং সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারত সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় ভর্তুকি ও সুবিধা দিচ্ছে, তবে স্থানীয় জনগণ পানি সংকট, কৃষিজমি হারানো ও পরিবেশগত চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তনমে গুগল গত বছর একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্প শুরু করলে রাজ্য সরকার শত শত কোটি ডলারের প্রণোদনা দেয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের ডেটা সেন্টার সার্ভার ঠান্ডা রাখতে বিপুল পানি ব্যবহার করে, যা দ্রুত নিচে নামা ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশাখাপত্তনমের অনেক কৃষক জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং বহু পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে গুগলকে ১০ বছরের জন্য পানির ব্যবহারে ২৫ শতাংশ ছাড়সহ জমি ও বিদ্যুৎ খাতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল অবকাঠামো ও পানির ঘাটতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এমন প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। গুগল জানিয়েছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ পানি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথায় বা আশ্বাসে তেহরানের কোনো আস্থা নেই; বরং কার্যকর পদক্ষেপই হবে বিশ্বাসের একমাত্র মানদণ্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, ইরান কোনো গ্যারান্টি বা কথায় নয়, কেবল কার্যক্রমকেই গ্রহণযোগ্য মনে করে এবং অন্য পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও কোনো পদক্ষেপ নেবে না। গালিবাফ আরও বলেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছাড় আদায় করে। তার মতে, আলোচনায় ইরান কেবল প্রতিপক্ষকে বোঝায়। তিনি মন্তব্য করেন, যেকোনো চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী সেই পক্ষ, যে চুক্তির পরদিন যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে। এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধান থেকে জর্ডানকে সরাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন এক ব্যবস্থার মাধ্যমে মসজিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলি সরকারের অধীনে আনা এবং এটিকে একটি বহু-ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা চলছে। এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মূল ভূমিকা রাখছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবে জর্ডান-সমর্থিত ইসলামিক ওয়াকফের কর্তৃত্ব বিলুপ্ত করে ইসরাইলের অধীনে একটি নতুন সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে ইহুদিদের সমান প্রবেশাধিকার ও দলগত প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হবে এবং ইসরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব নিয়োগসহ জুমার খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনায় আল-আকসাকে ইসলাম, খ্রিস্ট ও ইহুদি ধর্মের যৌথ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি বাহরাইন, মিশর, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে জানানো হয়েছে, যেখানে আরব দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমিক তত্ত্বাবধানের ধারণা রয়েছে। তবে সৌদি আরব এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে, আর ইউএই ও বাহরাইন এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং নিজেদের সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান সংলাপ নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমেই ফলাফল অর্জন করে এবং প্রতিশ্রুতি বা মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাস করে না। গালিবাফ, যিনি ইরানের শীর্ষ আলোচকদের একজন হিসেবে পরিচিত, বলেন যে আলোচনায় ইরান কেবল প্রতিপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করে শক্তি ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর। তিনি আরও জানান, অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও কোনো পদক্ষেপ নেবে না, কারণ কথার চেয়ে কাজই আসল মাপকাঠি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যেকোনো চুক্তির প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে সেই পক্ষের ওপর, যারা চুক্তির পর থেকেই সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকে। আল-জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বক্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থান ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সম্পত্তির মালিকানা ডিজিটালভাবে নিবন্ধনের জন্য নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ইসরাইল। “ভূমি রেজিস্ট্রি ও অধিকার নিষ্পত্তি” নামে এই প্ল্যাটফর্মটি বুধবার চালু করা হয়, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের সম্পত্তির মালিকানা হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে “বিপজ্জনক ঔপনিবেশিক দখলদারিত্ব” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূমি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের আইনি ও ঐতিহাসিক ভূমির অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। জেরুজালেম গভর্নরেট ও উপনিবেশ ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশন ফিলিস্তিনিদের আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন কোনো ইসরাইলি “সংস্থা, কমিটি, প্ল্যাটফর্ম বা পদ্ধতির” সঙ্গে ভূমি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্ত না হন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এই ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ভূমি দখল ও ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে আরও সহজ করতে ব্যবহৃত হতে পারে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ভারতে ইসরাইলের প্রতি মানুষের সমর্থন এতটাই প্রবল যে সেটি ‘উন্মাদনা পর্যায়ের’। বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে তিনি ভারতকে ‘বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেন, বিশ্বের অনেক স্থানে ইসরাইলকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও ভারতে এমন পরিস্থিতি নেই। তিনি দাবি করেন, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতে তার সামাজিক মাধ্যম অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নেতানিয়াহু ২০১৮ সালে স্ত্রী সারাকে নিয়ে ভারতের সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, সেটি ছিল ‘ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার এক বিশেষ মুহূর্ত’। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরাইল সফরের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে মোদিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। এর আগে সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি ভারতে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে আসার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ভারত-ইসরাইল সম্পর্ককে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সালে মোদি ঘোষণা করেছিলেন যে ভারত পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করবে, কিন্তু এক দশক পর পাকিস্তান বরং কূটনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। দেশটি চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেন, যার কৃতিত্ব পাকিস্তান তাকে দেয় এবং এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতও করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের এই উত্থান তার কৌশলগত কূটনীতি ও ভারতের ভুল পদক্ষেপের ফল। ভারতের মুসলিমবিরোধী নীতি, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নয়াদিল্লির অবস্থান দুর্বল করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করে এবং নিজেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ভারত তার নীতির সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করছে। দুই দেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং ভারতের কিছু প্রভাবশালী নেতা পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রায় দুই দশক পর আবারও ভারত থেকে আম আমদানি নিষিদ্ধ করেছে জাপান। দেশটির কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতীয় আমের পোকা নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ইস্যু করা পরিদর্শন সনদযুক্ত ভারতীয় আমের চালান আর গ্রহণ করা হবে না। এতে আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লি জাতের প্রিমিয়াম আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগবে। জাপান কৃষিখাতে ক্ষতিকর পোকামাকড়, বিশেষ করে ফলমাছি ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। ফলমাছির ঝুঁকির কারণে দেশটি আগেও ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যা ২০০৬ সালে তুলে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চে উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরের একটি ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে জাপানি কর্মকর্তারা হিট ট্রিটমেন্ট ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি খুঁজে পান, যদিও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের কৃষিপণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং অন্য দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যে আবহাওয়ার অনিয়ম ও এল নিনো প্রভাবে ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিক চাপে রয়েছেন।
সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যান। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আতুরার ডিপো, বহদ্দারহাট ও চৌমুহনী এলাকা থেকে পচা চামড়া ডাম্পিং শুরু করে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারের বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাস থাকলেও সিন্ডিকেট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা জানান, নামমাত্র দামে বিক্রির চেয়ে প্রতিবাদ হিসেবে চামড়া ফেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি দাবি করে, তাদের চার লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং যারা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেছেন, তাদের কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে। ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড থেকে আসা ট্রাকচালকেরা জানান, রাতভর অপেক্ষা করেও চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। চসিক কর্মকর্তারা জানান, বিপুল পরিমাণ পচা চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে, তবে সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায়নি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির কারণেই বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন সাদা দল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ঢাবিকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, মন্তব্যটি অবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, গবেষণা ও প্রকাশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এবং এর অধীনে বহু বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে—যা জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা বলেন, প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। সাদা দল অবিলম্বে ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছে, তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া খোলপেটুয়া নদীর তীরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ক্রেতা না পেয়ে চামড়া সংরক্ষণে ব্যর্থ হন। গাবুরা ইউনিয়ন থেকে সংগৃহীত চামড়া নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় স্তূপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের দিন সকাল থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হলেও ক্রেতা না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেন বা নদীর পাড়ে ফেলে দেন। ব্যবসায়ীরা জানান, আগের বছরের তুলনায় এবার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ, আড়তদাররা কম দামে কিনতে চাওয়ায় এবং লবণ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়েছেন। মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, চামড়া বিক্রির অর্থ না পাওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, চামড়া সংরক্ষণে আগেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।