রোববার গভীর রাতে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলো খান ইউনিসের নিকটবর্তী আল-মাওয়াসি এলাকা, গাজা সিটি এবং দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে চালানো হয়। এদিকে, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরু করেছে মিশর। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা বড় ধরনের লড়াই বন্ধ রেখেছে। তবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। হামাস জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ৯৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
ইসরাইলি হামলার পর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চারপাশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দেশটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের খবরও জানিয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স আল-খারজ গভর্নরেট অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় জরুরি সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করেছে। সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ইরান সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরদার করেছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন ও বিতর্কিত মোড় দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, পর্যাপ্ত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী না পেয়ে প্রশাসন কারাবন্দি আসামিদের জেল থেকে বের করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করছে এবং গোপনে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করায় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ব্যর্থ হলে সেই আসামিদের আবার লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাক্তন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, এই ঘটনাগুলোর পেছনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘিরে গভীর ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা কাজ করছে। তার দাবি, শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠরা ভারতে অবস্থান করছেন, আর কিছু প্রশিক্ষিত চর বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার গোপন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিএসএফ ও বিজিবির তৎপরতা এবং অজানা লোকজনের আনাগোনায় তারা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ইরান ও ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ও প্রবাহে এর প্রভাব নিয়ে। সংঘাতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা ভবিষ্যতে তেলের দামের গতি ও সরবরাহের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাওতারা এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে রাশেদুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ৮ জুন ২০২৬ সালের সন্ধ্যার আগে মাঠে খেলার সময় বজ্রপাত হলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে কাওয়ালীপাড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাশেদুল ইসলাম যাদবপুর ইউনিয়নের গাওতারা গ্রামের আক্কাছ আলীর ছোট ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল মেজ। পেশায় সে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করত। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংবাদে কোনো সরকারি মন্তব্য বা তদন্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই বৈঠক চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি দুই বাহিনীর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নিচ্ছে। এবারের আলোচনায় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পুশইন, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ সাতটি অমীমাংসিত ইস্যু সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু, অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাবে। সরকার আশা করছে, ভারত সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক পুশইন ইস্যু বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এই সম্মেলনের ফলাফল দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও ভবিষ্যৎ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একাধিক পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। শনিবার রাতে এবং রোববার সন্ধ্যায় বিএসএফ কয়েকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসী একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পিছু হটে। পরে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানায়। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় সারাদিন উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিজিবি ও গ্রামবাসীর সতর্কতায় বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা অভিযোগ করেন, বিএসএফ প্রায়ই এই এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্তে পাহারা জোরদার করা হয়েছে যাতে কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, যদিও খারাপ রাস্তার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরাইলে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, ইসরাইল যদি পাল্টা আঘাত করে, তবে আরও ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির বক্তব্যে বোঝা যায়, ইরান আপাতত হামলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখে না, তবে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান লেবাননের জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং ইসরাইলকে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। তেহরান চায়, সংঘাতটি শুধু ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরাইলের লেবাননে হামলা বন্ধের দিকে যাক। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ইসরাইল পাল্টা হামলা চালাবে কি না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার চাপ রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসরাইল যদি ইরানে পাল্টা আঘাত না করে কিন্তু লেবাননে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যায়, তবে ইরানের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। বিপরীতে, ইসরাইল যদি লেবাননে হামলা বন্ধ করে, তবে সেটি ইরানের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে।
ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। ভূমিকম্পটি মাটির ৩৫ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। এর পরপরই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইন উপকূলে প্রায় ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় ৩ ফুটেরও বেশি উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান সরকার উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক ঢেউয়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কো সবাইকে বিলম্ব না করে উঁচু স্থানে চলে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, মিন্দানাওয়ের একাধিক উপকূলীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাডে তাকাচিও জনগণকে সুনামি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব আপাতত না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার ইরান ইসরাইলে হামলা চালানোর পর ট্রাম্প ফোনে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করেন পাল্টা আঘাত থেকে বিরত থাকতে, যাতে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আরও কিছু সময় পায়। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে নেতানিয়াহু প্রথমে ট্রাম্পের অনুরোধের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত আংশিকভাবে সম্মতি জানান। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক এই ফোনালাপ আগের বৈরুতে হামলা নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনার তুলনায় অনেক শান্ত ছিল। এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং ইসরাইল শিগগিরই হামলা চালাবে না। ইসরাইলের চ্যানেল টুয়েলভ নিউজ জানিয়েছে, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি এবং নেতানিয়াহু বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে বিঘ্নের মধ্যে জুলাই মাসের জন্য দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। রোববার এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের জ্বালানিমন্ত্রীরা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ওপেক প্লাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উচ্চ তেলের দামের সময়ে সদস্য দেশগুলোর ক্ষতিপূরণমূলক উৎপাদন সমন্বয় দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লেওন মনে করেন, হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারে তেমন প্রভাব ফেলবে না। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল এখনই কোনো পাল্টা হামলা চালাবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলেও পরে হামলা থেকে সরে আসতে রাজি হয়েছেন। দুই নেতার ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এখন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি পরিস্থিতিকে খেলার শেষ পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এখনই চুক্তি সম্পন্ন করার উপযুক্ত সময়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তকে কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয়, কূটনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে তাৎক্ষণিক সামরিক উত্তেজনা কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাংবাদিক আবেদ আবু শেহাদেহ বলেছেন, ইসরাইল লেবাননে একটি বড় ধরনের চোরাবালিতে আটকে পড়েছে এবং এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনো কৌশল তাদের হাতে নেই। জাফা থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধবিরতি’ বলা ভুল হবে, কারণ ইসরাইলি গণমাধ্যম নিজেরাই একে ‘যুদ্ধবিরতি যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করছে। আবু শেহাদেহ জানান, গত কয়েক সপ্তাহে হিজবুল্লাহর নতুন ফাইবারের তৈরি ড্রোনের আঘাতে একের পর এক ইসরাইলি সেনা নিহত হচ্ছে। এই ড্রোন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে আপাতত কোনো কার্যকর সমাধান নেই, ফলে তাদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয়, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং নতুন ড্রোন হামলা তাদের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত তার নিয়ন্ত্রণে এবং নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেন না। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলাটি লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়, যা বৈরুতে হিজবুল্লাহ ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর ঘটে। হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জানান, এই হামলা আলোচনার অগ্রগতিকে প্রভাবিত করবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হামলার আগে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখতে পারে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফরিন বলেছেন, ইরান ইসরাইলের ওপর হামলা চালিয়ে একটি “গুরুতর ভুল” করেছে। ২০২৬ সালের ৮ জুন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইসরাইলি সেনাপ্রধান হামলার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা অনুমোদন করছেন। ডেফরিন আরও বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননজুড়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং আরও হামলার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরাইল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। এই মন্তব্য ইরানের হামলার পর ইসরাইলের সতর্ক অবস্থান ও কৌশলগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।