৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পরও বাজারে নিত্যপণ্যের অস্থিরতা কমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল ও ডিমের দাম বাড়তি। ক্রেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের মাসিক বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ব্যয় ও পাইকারি দামের চাপ তাদেরও বিপাকে ফেলেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে বাজেটের ঘোষণায় তেমন আগ্রহ নেই, বরং তারা চিন্তিত পণ্যের দাম আরও বাড়বে কি না। বিক্রেতারা পরিবহন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধিকে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের প্রভাবের কথাও বলেছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে দাম বাড়ে, যা অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ হিসেবে নেয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মতে, সরকারের কর-শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষ নাও পেতে পারে যদি বাজার তদারকি জোরদার না করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর নজরদারি ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ১১ জুন ২০২৬ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৬ বল হাতে রেখে ১৯৫/৫ স্কোরে জয় পায় স্বাগতিকরা। তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত ৪০ ও মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ২২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীরা ৩ উইকেট হারায় কোনো রান না তুলেই। পরে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেটের ১০৪ রানের জুটিতে দলটি ৪২ ওভারে ১৮৭/৮ রান করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে এবং টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব লিটন এরশাদ ১১ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর আমতলা মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির লেগুনার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইসলামী হাসপাতালে নেন, যেখানে চিকিৎসকরা তার মাথায় ছয়টি সেলাই দেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হামলা। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও বেপরোয়া লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা বন্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে মহাসচিবের ওপর এই দুর্ঘটনা সংগঠনের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। নিসচা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, লেগুনা ও চালক শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার মেজর (অব.) এম হাফিজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা এর আগে সংসদীয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটিতে অনুমোদিত হয়। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক নাগরিকের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বাজেটে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্য বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও খাল খনন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ, ৫২১ কোটি টাকায় আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ক্রয়, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে দুর্যোগ পূর্বাভাস জোরদার এবং এসএমএস সতর্কবার্তা ও টোল-ফ্রি আবহাওয়া সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করেছে সরকার। ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উপস্থাপন করেন। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। নতুন বরাদ্দের লক্ষ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। বাজেটে পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, জননিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, সন্ত্রাস দমন কেন্দ্র নির্মাণ, ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্তে নতুন পর্যবেক্ষণ পোস্ট নির্মাণ, উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার, নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার প্রয়োজন বিবেচনায় এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাস্তবায়ন দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিনিয়োগ দেশের নিরাপত্তা অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য, যার পরিমাণ ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। অন্যান্য বড় বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় বেশি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে একাধিক মোটরযানের মালিকদের জন্য পরিবেশ সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক গাড়ি নিবন্ধিত থাকলে প্রতিটির জন্য নির্ধারিত হারে সারচার্জ দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রতিটি গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, এবং ধাপে ধাপে ৩৫০০ সিসির বেশি গাড়ির জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা সারচার্জ দিতে হবে। তবে সবচেয়ে কম হারে সারচার্জযোগ্য গাড়ি এই হিসাবের বাইরে থাকবে। গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎসে এই কর আদায় করবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে নতুন দিক উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জন্য ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ১৮৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুদকের প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ১৯১ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২০৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছিল। সে হিসাবে নতুন প্রস্তাবিত বরাদ্দ কিছুটা কম। বাজেট নথি অনুযায়ী, দুদক আগামী অর্থবছরে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। সব জেলায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর ও জেলা কমিটি, সব উপজেলায় ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ কার্যালয় সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা সংঘ’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিক্রেতাবিহীন ‘সততা স্টোর’ চালু রাখা এবং গণশুনানির আয়োজনের উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ট্রেন ও মেট্রোরেলে যাতায়াতে ২৫ শতাংশ ভাড়ায় ছাড়ের প্রস্তাব করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জনপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাশ্রয়ী করা। বাজেট প্রস্তাবে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য একাধিক বড় প্রকল্পের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থায় বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গঠন, সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ তুলেছেন মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে বিএনপির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সচিব মো. হারুনুর রশিদ হারানের নেতৃত্বে কয়েকজন তার বাড়ির তালা ভেঙে দখল করেন। মামুনের দাবি, ঘটনার পরদিন পুলিশ সদস্য আবির পরিবারসহ বাড়িটিতে ওঠেন, আর তার আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ভেতরেই রয়ে গেছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মামুন জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় তিনি বাড়িটি ক্রয় করেন। অভিযোগ অস্বীকার করে হারান বলেন, মামুন ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ওই বাড়িতে ছিলেন না এবং স্থানীয়রা বাড়িটি দেখভাল করছিলেন। তিনি মামুনকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাড়ি ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর-রশিদ জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ে অন্যায়কে তিনি সমর্থন করেন না। শাহ-মখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, মামুনের স্ত্রী রুমা আক্তার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে করপোরেট করহারে কোনো পরিবর্তন আসছে না। চলতি অর্থবছরের বিদ্যমান হারই বহাল থাকবে। তিনি বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী কর নিশ্চয়তা দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে করের আওতা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে করপোরেট কর হার কমানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও প্রস্তাব করেন, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ, এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, সোলার বিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর, এবং দেশীয় বীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনে প্রথম ৫ বছর সম্পূর্ণ ও পরবর্তী ৫ বছর আংশিক কর অব্যাহতি দেওয়া হবে।
প্রখ্যাত আলেম ও ওয়ায়েজ ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, শুধুমাত্র পূর্বের স্বামীর জন্য নারীকে পুনরায় হালাল করার উদ্দেশ্যে সাজানো ‘হিল্লা বিয়ে’ কবিরা গুনাহ এবং শরীয়তের অপব্যবহার। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধরনের বিয়ে থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি সুনানে ইবনে মাজাহ থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে হিল্লা বিয়ের সঙ্গে জড়িত উভয় পক্ষের ওপর আল্লাহর অভিশাপের কথা বলা হয়েছে। আজহারী বলেন, শরীয়তের প্রতিটি বিধান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যা মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত। তাই শরীয়তের বিধানকে অপব্যবহার বা কৌশলে অতিক্রম করা কোনো প্রাকটিসিং মুসলিমের কাজ হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেন, স্বাভাবিক বিয়েতে কোনো বাধা নেই, তবে হালাল করার উদ্দেশ্যে সাজানো বা পাতানো বিয়ে নিষিদ্ধ। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, তিন তালাকের পর কোনো নারী যদি স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিয়ে করেন এবং সেই বিয়ে স্বাভাবিক কারণে বিচ্ছেদে শেষ হয়, তাহলে ইদ্দত শেষে পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়েতে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশ সরকার নারী ও শিশু কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন মাকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের সহায়তা ও শিশুদের যত্নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬০টি আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৩০ লাখে উন্নীত করা হবে এবং প্রত্যেককে মাসিক ৭০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগগুলো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার ও নারী-শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) জানিয়েছে, কর কাঠামোতে কোনো সংস্কার না হওয়ায় তামাকপণ্য বাস্তবে আরও সস্তা হবে, যা ব্যবহারের হার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে এবং সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে, যা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ১৫, ১৪ দশমিক ২৯ ও ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রজ্ঞা ও আত্মার মতে, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্রিত করে নির্দিষ্ট কর আরোপ করলে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় এবং প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু রোধ সম্ভব। বাজেটে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর নতুন কর প্রস্তাব করা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার বেশ কয়েকটি কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় আরও এক কোটি বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনাও বিবেচনাধীন। সরকার ‘রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল’ (থ্রিআর) নীতির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।