রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত বলে জানিয়েছে। বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি ঘটে এমন একটি ওয়ার্ডে যেখানে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। পুলিশ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা ভোরের দিকে শিশুদের অবস্থার অবনতি হওয়ার পর ঘটে। অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, নবজাতক ওয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের কারণে এই মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। এরপর শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং অনেক সময় রোগী বা স্বজনেরা ঠাণ্ডার কারণে এসি বন্ধ রাখতে বলেন। রাত তিনটার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের আইসিইউতে নেয়া হয়, পরে আবার ওয়ার্ডে ফেরানো হয়। ভোরে ছয় শিশুর অবস্থার অবনতি হলে সবাইকে আইসিইউতে নেয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই বাঁচেনি। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় বুধবার সকালে ইসলাম পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহনের বাসে ধাক্কা দিলে অন্তত চারজন নিহত ও ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। নিহতরা হলেন লাইজু বেগম, তার স্বামী কবির জমাদ্দার, খুশি বেগম ও মো. রবিউল। তাদের মধ্যে তিনজন বাগেরহাটের মোংলার এবং একজন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা। সকাল ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। নতুন বাজার এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনে গিয়ে উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসে ধাক্কা দেয়। আকাশ পরিবহনের বাসটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ওই বাসেই ঘটে। ঘটনাস্থলেই এক নারী মারা যান, পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেল্পার পালিয়ে যান। আহতদের কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারের পাশে অনুষ্ঠিত এক আলোক উৎসবে প্রায় ১০০টি ড্রোন আকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়। বার্ষিক ‘ভিভিড সিডনি’ উৎসবের অংশ হিসেবে ‘স্টার-বাউন্ড ড্রোন শো’ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। ড্রোনগুলো পানিতে ও ঘাটের ওপর আছড়ে পড়ে ভেঙে যায়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘স্কাইম্যাজিক’ জানায়, বেতার তরঙ্গের পরিবেশে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে ৮৯টি ড্রোন তাদের অবস্থানগত নির্ভুলতা হারায় এবং স্বয়ংক্রিয় জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ড্রোনগুলো সিমেন্টের ম্যারিনায় আছড়ে পড়ার শব্দ দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিল। স্কাইম্যাজিক দাবি করেছে, কোনো ড্রোনই নিরাপত্তা সীমানার বাইরে পড়েনি। আয়োজকরা দর্শকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্কাইম্যাজিক ও সরকারি সংস্থার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী প্রদর্শনীগুলো বাতিল করা হয়েছে। ১১ রাতব্যাপী ২২টি প্রদর্শনীতে ১ হাজার ড্রোন নিয়ে এই শো সাজানো হয়েছিল, যার উদ্বোধন হয়েছিল মাত্র এক দিন আগে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আঙ্কারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত। মঙ্গলবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন। এই আলোচনায় এরদোয়ান বলেন, ইতিবাচক ফল নিশ্চিত করতে তুরস্ক সব ধরনের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এরদোয়ান পেজেশকিয়ানকে জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আঙ্কারা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ ঈদুল আযহা উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে। এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন যে ইরানের জনগণ এই কঠিন সময় অতিক্রম করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে। তিনি ইরানি প্রেসিডেন্টকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছাও জানান।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন, যাদের বয়স এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং অনেক সময় রোগী বা স্বজনেরা অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে এসি বন্ধ রাখতে বলেন। তিনি আরও জানান, রাত তিনটার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের নিউ নেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে ফেরত পাঠানো হয়। ভোরে শিশুদের অবস্থা আবার খারাপ হলে ছয়জনকেই আইসিইউতে নেওয়া হয়, যেখানে দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বাকিদেরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে রাজধানীসহ সারা দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার আগে এই অসময়ের বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। কুরবানির পশুরহাট ও ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ৫৭ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ৬৮ মিলিমিটার এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, আগামী তিনদিন ঢাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে এবং ঈদের দিন সকালেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়া ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে এই ঘোষণা আসে। মন্ত্রী জানান, এই ভ্যাকসিনটি বিরল বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে, যার জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। রাশিয়ার এই দাবি বিশ্বব্যাপী আশার সঞ্চার করলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তারা বলেছেন, ভ্যাকসিনটিকে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করার আগে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য, পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা এবং নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা অপরিহার্য। বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনটি ইবোলা ভাইরাসের কম পরিচিত হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুন্দিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা নেই।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে ভারত আর বাংলাদেশিদের প্রতি বিশেষ আদর দেখাবে না। মঙ্গলবার নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। শুভেন্দু দাবি করেন, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছে এবং তাদের দ্রুত চলে যেতে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এসব বাংলাদেশিকে জেলে রেখে জনগণের টাকায় খাওয়ানো বা থাকার ব্যবস্থা করা হবে না, কারণ তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। শুভেন্দু জানান, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের জেলে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ভারতের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ভাগ আর বাংলাদেশিদের দেওয়া হবে না। এর আগে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘আটক শিবির’ তৈরির নির্দেশ দেয়, যা গত এক বছরে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও গঠিত হয়েছে।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হলে নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এতে যাত্রী ও যানবাহন সাময়িক ভোগান্তিতে পড়ে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে সকাল ৮টার দিকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় ঘাট এলাকায় আটকে থাকা যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে পারাপার হচ্ছে। ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং ঘাটের জটও কমে এসেছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতায় আসে এবং প্রথম ১০০ দিন পার করেছে। সরকার দাবি করেছে, মন্ত্রিসভার ৬০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৬২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু হলেও জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও হাম প্রাদুর্ভাব সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাম রোগে ইতোমধ্যে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সময়কাল মূলত সংকট ব্যবস্থাপনার ছিল। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়া, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও রেমিটেন্স প্রবাহ ইতিবাচক, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে সংসদীয় সংলাপ বজায় রাখতে পেরেছে। তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যই হুমকি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইরাক, ওমান, কাতার, তুরস্ক, তাজিকিস্তান, মিশর, কিরগিজস্তান ও আজারবাইজানের নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেন যে, আল্লাহ মুসলমানদের হৃদয়কে আরও কাছাকাছি আনবেন এবং সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থন বৃদ্ধি পাবে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর আগে তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা অবাস্তব ও অকার্যকর ধারণা।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর সমন্বয়ে এবং তেহরানের অনুমতি নিয়ে ২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, কন্টেইনার জাহাজ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবুলফজল শেখারচি ফার্স সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে বলেছেন, যদি এই অঞ্চলে যুদ্ধের আরেকটি পর্ব শুরু হয়, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে যাবে এবং তা হবে আরও কঠোর ও শক্তিশালী। এই বিবৃতি ইঙ্গিত দেয় যে ইরান তার সামুদ্রিক পথ রক্ষায় এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাত পর্যন্ত টহল কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে। ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, বিজিবি সদস্যরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ফোর্স এনে সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপ সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষা ও অননুমোদিত অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ। আঙ্কারা ও মোগাদিশুর গড়ে তোলা ‘সোমালি মডেল’ অনুসরণে তারা আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার। পশ্চিম তুরস্কে এফেস সামরিক মহড়া চলাকালে তিনি বলেন, তুরস্ক আফ্রিকান দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, সোমালিয়ায় বাস্তবায়িত মডেলের মতো সহযোগিতা চেয়ে বেশ কয়েকটি দেশ অনুরোধ করেছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। ২০১১ সালে মানবিক মিশন হিসেবে শুরু হওয়া তুরস্ক–সোমালিয়া সম্পর্ক এখন একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোটে পরিণত হয়েছে। মোগাদিশুতে তুরস্কের বৃহত্তম বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দেশটি শহরের হাসপাতাল, কোম্পানি, বন্দর ও বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। এছাড়া সোমালিয়ার উপকূল রক্ষা ও সমুদ্রের গভীরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে তুরস্ক বিপুল বিনিয়োগ করেছে। আঙ্কারার একটি সূত্র জানিয়েছে, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোও তুরস্কের নিরাপত্তা সহায়তা চাইতে পারে।
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নবী সুলাইমান (আ.) মসজিদ ও সমাধিস্থলসহ ২৮ একর জমি দখলের নির্দেশ জারি করেছে। মঙ্গলবার ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের আওতায় ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অন্তর্ভুক্ত। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ অধিগ্রহণ করা হচ্ছে এবং নবী সুলাইমান (আ.)-এর সমাধিস্থল সংরক্ষণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ইসলামিক ঐতিহ্যবাহী স্থানের ‘ইহুদীকরণ’-এর আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। নবী সুলাইমান (আ.) ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ঐতিহ্যে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাইজেন্টাইন যুগে সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেখানে একটি গির্জা নির্মাণের নির্দেশ দেন, পরে মুসলিম শাসকরা নবীর স্মরণে স্থাপনা নির্মাণ করেন। বর্তমান মসজিদে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এতে মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী নবী সুলাইমান (আ.)-এর কবর রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে ইসরাইল ধীরে ধীরে এলাকাটির কাঠামো পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সমাধিস্থলের নিচে একটি সিনাগগ নির্মাণ এবং মুসলিমদের নামাজের স্থান সংকুচিত করা।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।